Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রাজধানীতে চাঁদাবাজী এ্যকটিভ সন্ত্রাসীরা

প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজদের তৎপরতা কিছুটা বাড়ে। এটা নতুন কিছু নয়।  ইতোমধ্যেই রাজধানীতে এ ধরনের তৎপরতা শুরু  হয়ে গেছে। দু:খজনক সত্য

২৩ জুলাই কালের কন্ঠে এ রিপোর্ট ছাপা হবার পরেও সরেজমিনে দেখা গেছেসন্ত্রাসীরা খোলামেলাই স্ব স্ব স্থানে বহাল তবিয়তে দিনের আলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

 

প্রসাষনের মতে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা নিজেরা মাঠে না নেমে তাদের পক্ষ থেকে ভাড়াটে লোকদের দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। ভাড়াটেরা প্রায় সবাই নতুন ও অচেনা। ফলে তাদের শনাক্ত করাটা কঠিন। এ ছাড়া দেশের বাইরে আতমগোপন করে থাকা কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইতোমধ্যেই ঢাকায় চলে আসায় পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন রূপ নিয়েছে। এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

 

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর অপরাধ রাজ্যের বাসিন্দারা গোপনে বৈঠক করে চাঁদাবাজিতে আধিপত্য চালানোর জন্য এলাকা ভাগ করে নিচ্ছে, এটা নিজেদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি না হবার কৈীশল। দেশের বাইরে আতমগোপন করে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকেই দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের নির্দেশনা দিচেছ।

 

কিছু সন্ত্রাসীর ভাষ্যমতে পরিস্থিতি আগের মতো নেই। তাদের শীর্ষ সন্ত্রাসী বলা হলেও মূল কলকাঠি রাজনৈতিক মহলের হাতে। ফলে তারা যে টাকা পায়, এর সিংহভাগ দিতে হয় ওখানে। নিয়মটা পুরোনো হলেও বর্তমানে নিয়ন্ত্রন অনেক বেশী। বিভিন্ন সময় ক্রসফায়ারসহ নানা ঘটনায় যেসব সদস্য মারা গেছে, তাদের পরিবারের সদস্যদেরও টাকার একটা অংশ দিতে হয়। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে রাজধানী থেকে আদায় হওয়া চাঁদার সিংহভাগ চলে যাবে দেশের বাইরে পলাতক বড় ভাইদের হাতে। আর প্রশাষন ম্যানেজ করতেই হয়।

 

সূত্রমতে, কিলার খোরশেদ ঈদ চাঁদাবাজির জন্য কিছুদিন আগে ভারত থেকে ঢাকায় এসেছে। মতিঝিল এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে তাকে কয়েক দিন আগে দেখা গেছে বাবুল তালুকদার নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে। সিলভার রঙের একটি গাড়িতে করে ঘুরে বেড়ায় কিলার খোরশেদ। ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে একজন হান্নান। সে নিখোঁজ আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী লিয়াকতের ছোট ভাই। সম্প্রতি পুলিশের তালিকা থেকে হান্নানের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। হান্নান এখন প্রকাশ্যে ঘুরছে।

 

বন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কারাগার থেকেইদল নিয়ন্ত্রণ করছে । কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য সঠিক বলে জানা গেছে।

 

নিউ মার্কেট, গাউসিয়া মার্কেট, মিরপুর রোড, ফকিরাপুল, মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ এলাকা, মিরপুর ও শেওড়াপাড়া এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ইতোমধ্যেই তাঁরা চাঁদাবাজদের ফোন পেয়েছেন। ঈদের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে তাদের চাঁদা দিতে হবে।মিরপুর রোডের ফার্নিচার ব্যবসায়ী আলমাস জানান, শাহাদত কলকাতা থেকে তাঁকে ফোন করে বলেছে, ‘‘ছোট ভাইরা আট রমজান দেখা করবে, ওদের পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে দিবেন। না হলে বউ, ছেলেমেয়ে নিয়ে ঈদ করতে পারবেন না। দেশের বাড়িতে সবার লাশ প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিবে। আর আমার লোক ছাড়া অন্য কেউ চাঁদা দাবি করলে আমার ছেলেদের জানাবেন। ওরা সব ম্যানেজ করে দিবে।’’

 

 

রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহজাদা। সে বর্তমানে কারাগারে থাকায় এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য এখন খায়ের ও শাহিন নামে দুই ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীর হাতে। এই দলে আছে সন্ত্রাসী ঘাতক স্বপনের (মালয়েশিয়ায় পলাতক) বড় ভাই রিপন, পিচিচ সোহেল, জহির ও ফয়সাল। এই গ্রুপের প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী কারারুদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা পলাশের সহযোগী গুঁজা বাদশাহ, তপু, কিলার পলাশ, রাজীব, শাওন ও জাভেদ। বাদশাহ ও তপু তাদের দলনেতা।

 

অপরদিকে জানা গেছে কালা পলাশের লিয়াজো মেকার রিপন চৈfধুরী ওরফে হুন্ডি রিপন ওরফে হাট রিপন এলাকায় বড় চাদা আদায় দখলদারিতব ও অস্ত্র আদান প্রদান করে থাকে।তথ্যমতে রামপুরা থানার কিছু অসাধু পলিশ সদস্য ও কর্মকর্তার সহযোগিতায় রিপনের ইয়াবা ব্যাবসা ওপেন সিক্রেট।এ ছাড়া পিয়াস-ডিজিটাল কামাল গ্রুপ নামে আরো এক সন্ত্রাসী দল আছে এ এলাকায়। ঈদ সামনে রেখে তিনটি গ্রুপই এখন গার্মেন্ট সেক্টরে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। তারা ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত: সূত্র কালের কন্ঠ।

 

 

হাজীপাড়া, মালিবাগ ও চৌধুরীপাড়ার গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী টুনু ও মনি। তারা দুজন ভিন্ন দুটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। শান্তিনগর এলাকায় চাঁদাবাজি করছে পিচিচ শামিম ও তার সহযোগীরা। সিদ্ধেশ্বরীর ফ্রিডম রাসু কারাগারে। তার হয়ে চাঁদাবাজি করছে তার ছোট ভাই বাচচু , শিমুল ও শিশির।

 

মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকার ট্রাভেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এবং বিভিন্ন মার্কেটে চাঁদাবাজি করছে শোভন, মিন্টু, শাহিন, কামাল, শটগান সোহেল, রিয়াজ ও কিলার তারেক। তারেক আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল।

 

পুরান ঢাকার ত্রাস ডাকাত শহীদ কয়েক দিন আগে ক্রসফায়ারে মারা গেছে। তবে চাঁদাবাজি বন্ধ নেই। সন্ত্রাসী বাঙ্গাল মামুন, দাঙ্গা লিটন, আরমান, এরফান, রাসেল, ভাগ্নে রনি, শাহজাহান, কালা মিন্টু, মুহিদ (ডাকাত শহীদের ডান হাত ছিল), চশমা নাসির, টিপু, লাবলু, সোহেল, রাসেল, মাহবুব, মুন্না, সোর্স আজমল এই এলাকায় চাঁদাবাজি করছে।

 

তেজগাঁও-ফার্মগেট-কারওয়ান বাজার এখন শীর্ষ সন্ত্রাসী এল রহমান, ইরান, কিলার আশিক, চিটার জিলস্নুর, মামু শাহজাহান, বাবুল ওরফে টাওয়ার বাবুল, আনোয়ার, লেংড়া শাহিন, বাচচু, মোশারফ, নবী সোলায়মান ও পলাতক জাকিরের (সুইডেন আসলামের ভাই) নিয়ন্ত্রণে। কারারুদ্ধ সুইডেন আসলামের স্ত্রী আয়েশাও একটি সন্ত্রাসী দল পরিচালনা করে চাঁদাবাজি করছে।

 

মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, ধানমন্ডি আর লালমাটিয়ায় চাঁদাবাজি করছে কালা ফিরোজ, সেভেন স্টার গ্রুপের কালা খলিল, ফ্রিডম সবুজ, পিচিচ তুহিন ওরফে মাতবর তুহিন, মজিবর, শামিম ও ডিশ শাকিল। ডিশ শাকিলের বাসা ধানমন্ডির মধুবাজারে। তার মা বেদেনাও শীর্ষস্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী। শাকিল ডিশ সংযোগ ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। বেদেনার সঙ্গে পুলিশের ভালো সম্পর্ক থাকায় তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।

 

মোহাম্মদপুর এলাকার চাঁদাবাজিতে শীর্ষ অবস্থানে আছে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার সাইদ ব্যাপারীর ছেলে শামিম, আরেক সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার সলুর ভাতিজা মনির আর সন্ত্রাসী তুহিন। শামিম ও মনির একে অপরের প্রতিপক্ষ। দুজনই বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে থাকে। মনিরের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আছে। ঈদ সামনে রেখে মনির গ্রুপ ইতিমধ্যেই আসাদগেট ও টাউন হল এলাকায় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছে।

 

মগবাজার এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত, মুকুল, মোল্লা মাসুদ ও রনি দেশের বাইরে। তাদের অবর্তমানে মগবাজারের চাঁদাবাজি এখন সন্ত্রাসী ফখরুলের নিয়ন্ত্রণে। কাঁঠালবাগান, কলাবাগান আর গ্রীন রোড এলাকায় চাঁদাবাজি করছে সাগর হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নীরু আর তার সহযোগীরা।

 

মহাখালী, বাড্ডা ও গুলশান-বনানী এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে শীর্ষ সন্ত্রাসী আলমগীর-জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীর যুক্তরাষ্ট্রে ছিল দীর্ঘদিন। এখন দেশে। তারা দুই ভাই একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করে। এ ছাড়া এ এলাকার আরো কয়েকজন প্রভাবশালী চাঁদাবাজ হচেছ মিলু, কালা নাসির, আসলাম, হাসিফ, আলম, পনু, সাইদ, মনির, ইন্ডিয়ান বাবু, স্টেন রাজিব, জঙ্গি ও হাজারী মিলন। মূলত ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় তাদের প্রধান পেশা।

 

খিলগাঁও তালতলা এলাকায় চাঁদাবাজি করছে আওলাদ, জুয়েল, মোস্তাক ও রানা। পাশের গোড়ানে হান্নান, সবুজবাগ বাসাবোতে আজাদ, গোপীবাগে নান্নু ও ইলিয়াস। ফুলবাড়িয়া এলাকায় চাঁদাবাজি করছে বাচচু ও তার শ্যালক আউয়াল। আউয়াল বংশাল এলাকারও চিহ্নিত সন্ত্রাসী।

 

প্রশ্ন থাকে আমাদের দেশের পুলিশ চাইলে নাকি মসজিদের  সামনে একজোরা সেন্ডেল চুরি হয়না। তাহলে হচেছটা কি ? সন্ত্রাসীরা বুক ফুলিয়ে চাঁদাবাজি করছে কিভাবে ?

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট