Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রাজপথে শরিকদের পাশে চাইছে আওয়ামী লীগ

লুৎফর রহমান: রাজপথে শরিকদের পাশে চাইছে আওয়ামী লীগ। তবে শরিকদের হতাশা জিইয়ে রেখেই মহাজোটে ঐক্য জোরদার করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে তারা। এতে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। শরিকদের মধ্যে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ তীব্র। জাসদ (ইনু), ওয়ার্কার্স পার্টিসহ অন্য শরিকরা আশাহত।
১৪ দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঐক্য হয়েছিল ২৩ দফার ভিত্তিতে। জাতীয় পার্টির সঙ্গেও নির্বাচনী ঐক্য হয়েছিল কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্তে। মহাজোট গঠন করে ক্ষমতায় আসার তিন বছর পার হলেও শরিকদের শর্ত পূরণ ও হতাশা কাটাতে পারেনি প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ, পাওয়া না পাওয়া নিয়ে টানাপড়েন, সমন্বয়হীনতা বেড়েছে। মহাজোটের অস্তিত্ব সঙ্কটের এ মুহূর্তে ফের জোটকে সক্রিয় করার তাগিদ বোধ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিরোধী দলের সরকার বিরোধী আন্দোলন মোকাবিলা, যুদ্ধাপরাধ বিচারে জনমত গঠন আর অর্থনৈতিক সঙ্কটে হিমশিম অবস্থায় আওয়ামী লীগ এখন পাশে চাইছে শরিকদের। উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ঐক্যের। তবে পুঞ্জীভূত হতাশা জিইয়ে থাকায় তেমন সাড়া মিলছে না শরিকদের। দায়সারা কর্মসূচি আর সৌজন্য আলাপ আলোচনাতেই চলছে এ ঐক্য প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি পালনেও অনীহা রয়েছে শরিকদের। শরিক দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী কাজে শরিকদের মতামত নেয়া হচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে লোক দেখানো সভা ও আলোচনা হলেও সেখানে উঠে আসা মতামত ও পরামর্শ খুব একটা আমলে নেয়া হয় না। ১৪ দলের সভা থেকে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তা-ও বাস্তবায়ন হয় না খুব একটা। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জোটের ঐক্য অটুট আছে। সামনে এ ঐক্য আরও জোরদার করা হবে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, মহাজোট ও ১৪ দলের কার্যক্রমের গতি কিছুটা স্লথ ছিল। সামনে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জোটকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করা হবে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ জানান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির ঐক্য হয়েছিল নির্বাচনী। সেই ঐক্য এখনও আছে। তবে তাদের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি পালনে আমাদের কোন আলোচনা হয়নি। তারা কোন কর্মসূচি পালন করলে তাতে আমাদের থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই।
জাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক শরিফ নুরুল আম্বিয়া এ বিষয়ে বলেন, মহাজোট তথা ১৪ দলের কার্যক্রমে গতি নেই। আওয়ামী লীগের কাছে আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরলেও তারা তাতে তেমন গুরুত্ব দেন না। আগে অনেক সিদ্ধান্তই নেয়া হয়েছে, এ পর্যন্ত কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।
ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান মল্লিক বলেন, আমরা বরাববরই জোট ও ১৪ দলকে সক্রিয় করার কথা বলে আসছি। কিন্তু এ পর্যন্ত কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের নেতারা শুরু থেকে প্রত্যাশা করে আসছিলেন তাদের দলের প্রধানরা মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। কিন্তু শুধুমাত্র সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পদ পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। গত পৌরসভা নির্বাচনেও প্রত্যাশা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সহযোগিতা পায়নি দল দু’টি। দল সমর্থিত প্রার্থী দিতে গিয়ে অনেক দেনদরবারের পর তারা যার মতো করে প্রার্থী সমর্থন দেন ওই নির্বাচনে। এরপর বিগত কয়টি উপনির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও দল বা জোট সমর্থিত প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে পরস্পরের মধ্যে কোন আলোচনা করেনি জোটের শরিকরা। সর্বশেষ সংরক্ষিত আসনে পাঁচজন নতুন সংসদ সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রেও শরিকদের কোন অংশীদারিত্ব দেয়া হয়নি। জাতীয় পার্টি ও জাসদ তাদের দু’জন নেত্রীকে এমপি পদে মনোনয়ন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা বিবেচনায় নেয়নি। সর্বশেষ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগেও আওয়ামী লীগ শরিকদের সঙ্গে আলোচনা পর্যন্ত করেনি এবং অন্য কাউকে অংশীদারিত্ব দেয়নি।
এদিকে জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির সঙ্গেও আওয়ামী লীগের বনিবনা হচ্ছে না খুব একটা। জাতীয় পার্টির দাবি- এরশাদকে প্রেসিডেন্ট করার শর্তে ঐক্য করা হয়েছিল। পরে এরশাদকে বিশেষ পদমর্যাদায় মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ দূত করার প্রস্তাব করেছিল জাতীয় পার্টি। সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক মনোভাবও দেখানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা-ও করা হয়নি। প্রাপ্তির মধ্যে রয়েছে দলের একজন মন্ত্রী। দু’জনকে মন্ত্রী করার দুরাশা নিয়েই আছেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি বলে খ্যাত রংপুর অঞ্চলের যে সব আসনে জাতীয় পার্টির এমপি আছেন সেখানে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিরোধ ও সরকারি কাজে সমন্বয়হীনতা চরমে। দলের তৃণমূল থেকে জোট থেকে বেরিয়ে আসার চাপ আসছে এরশাদের প্রতি। দেশের কোন নির্বাচনী এলাকা, উপজেলার জাপা নেতা-কর্মীরা সরকারের এমপি, প্রশাসন থেকে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছেন না। অপ্রাপ্তিসহ এসব কারণে এরশাদ প্রায়ই সরকারের সমালোচনা করে আলোচনায় আসছেন। সমপ্রতি ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ করা নিয়ে স্পষ্ট বিরোধিতা করছেন তিনি। এছাড়া টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ, তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ করে এবং ফেনী নদী অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে বলেও এরশাদ ঘোষণা দিয়েছেন। এরশাদ মহাজোটে আছেন এবং ভবিষ্যতে থাকবেন কিনা প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে শরিকদের মধ্যে হতাশা, অভিমান ও ক্ষোভ কাটাতে কোন উদ্যোগও নেয়নি আওয়ামী লীগ। গত বছরে সব শরিকদের নিয়ে এক সঙ্গে বসা বা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনেও সফলতা দেখাতে পারেনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বছর শেষে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত গণমিছিল ও সমাবেশেও সব শরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল না। জোটগত এই কর্মসূচিতে জাতীয় পার্টির অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে প্রতিনিধি পাঠিয়ে দায় সারে দলটি। সারা বছরে জোটনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শরিক দলের নেতারা বৈঠক করেছেন একবার। তা-ও আলাদা আলাদাভাবে। গত ডিসেম্বরে গণমিছিল কর্মসূচি সামনে রেখে মূলত এ বৈঠক হয়। আর ১৪ দলের সমন্বয় সভা হয়েছে মাত্র একটি। এছাড়া বছরজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ নানা বিষয়ে মতবিরোধ ও টানাপড়েন চলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে অন্য শরিকদের। সংবিধান সংশোধন, নারী নীতিমালা, ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ নিয়ে সরকারে থেকেও সরকারের বিরোধিতা করেছেন শরিক দলের নেতারা। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ‘বিস্‌মিল্লাহ’ রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। আর জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ১৪ দলের অবস্থান ছিল এর বিপক্ষে। সংবিধান সংশোধন বিল পাসের দিনও নানা নাটকীয়তার পর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু প্রথমে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুরোধে বিলের পক্ষে ভোট দেন। গত বছরের ৬ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৪ দলের সমন্বয় সভায় দ্রব্যমূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ১৪ দলের নেতারা। ওই বৈঠকে খাদ্য ও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার জন্য তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে দাবি করেন। খাদ্য, বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করারও প্রস্তাব দেন। তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতিতে এ তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেয়ার। ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন ফেব্রুয়ারি মাসেই এ ধরনের একটি বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে পুরো বছরেও এ ধরনের বৈঠকের কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ ইস্যুতে ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টির নেতারাও প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করে আসছেন। এদিকে যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতেও সমন্বয় নেই বলে অভিযোগ করে আসছেন ১৪ দলের নেতারা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে জাতীয় পার্টির ভূমিকাও সংশয়মুক্ত নয়। ১৪ দলের এক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ৭টি বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ করা হবে। এ পর্যন্ত এ ধরনের কোন সমাবেশ হয়নি। ঢাকায় থানাভিত্তিক সচেতনমূলক সমাবেশ করা হয়েছে। ১৪ দলভুক্ত দলগুলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে পৃথক কর্মসূচি পালন করে আসছে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৪ দলের নেতাদের বৈঠকেও এ বিষয়ে এক সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা এবং উপজেলা পর্যায়েও যৌথ কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঐক্য চেষ্টা আওয়ামী লীগের: ক্ষমতার চতুর্থ বছরে এসে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবার শরিকদের পাশে চাইছে আওয়ামী লীগ। শরিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দেয়ারও চিন্তা করছে। ইতিমধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বিরোধী দলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন এবং সারা দেশে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত এ দাবিতে মানববন্ধন করবে ১৪ দল। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোতেও মহাসমাবেশ করবে ১৪ দল। সমপ্রতি কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই কর্মসূচিতে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে কিনা স্পষ্ট হয়নি এখনও। এদিকে মানববন্ধন সফল করতে গতকাল সভা করেছে ঢাকা মহানগর ১৪ দল। সভা শেষে জানানো হয় প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মানববন্ধন রাজধানীর গাবতলী বাসট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। বিকাল তিনটা থেকে শুরু হয়ে ৪টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন চলবে। মানববন্ধনে ১৪ দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অবস্থানও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একই ধরনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে সামনে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


7 Responses to রাজপথে শরিকদের পাশে চাইছে আওয়ামী লীগ

  1. sikiş izle

    March 13, 2012 at 6:14 am

    you’re seriously variety one particular admin your running a blog is amazing i usually examine your blog i am guaranteed you will be the most effective

  2. ucuz notebook

    March 14, 2012 at 4:27 am

    Wonderful submit admin! i bookmarked your internet blog site. i will search ahead should you may have an e-mail checklist adding.

  3. escort ilanlari

    March 14, 2012 at 5:07 am

    Nice 1 web site operator triumph blog post fantastic sharings in this weblog always have pleasurable

  4. sikvar

    March 14, 2012 at 6:06 am

    Greetings thanks for wonderful submit i was looking for this issue previous a couple of nights. I’ll look for subsequent precious posts. Have exciting admin.

  5. su arıtma cihazı

    March 14, 2012 at 11:24 am

    i bookmarked you in my browser admin thank you a lot i is going to be looking for your upcoming posts

  6. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 2:53 pm

    Genuinely required article admin good one i bookmarked your internet web page see you in following blog article.

  7. samsung 1080p hdtv

    March 14, 2012 at 11:47 pm

    This is one of the most informative articles on this subject I have ever read. Kudos to the writer and publisher of this great content. http://www.samsung1080phdtv.net/