Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শেষ পর্যন্ত U টার্ন

পদ্মা সেতু নিয়ে রীতিমতো ইউটার্ন করেছে সরকার। গত মাসের শেষের দিকে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলের পর সরকারের কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে শুরু হয়েছিল নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু করার তোড়জোড়। সরকারের নেতিবাচক অবস্থানের কারণে কয়েক দফা বিবৃতি দিয়ে বিশ্বব্যাংকও তার অবস্থান পরিষ্কার করে। কিন্তু এ ইস্যুতে অবস্থান নিয়ে চারদিক থেকে সমালোচনা ওঠায় এবার আগের অবস্থানের একেবারে পুরো বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে সরকার। যে মন্ত্রীকে নিয়ে বহুপ্রত্যাশিত ঋণচুক্তি বাতিল হয়েছিল শেষ পর্যন্ত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ইচ্ছায় তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঋণ পেতে শর্ত পূরণের জন্যই সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে গতকাল স্পষ্ট করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, এখন বিশ্বব্যাংকের শর্ত পূরণ হয়েছে। আশা করছি, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আর অসুবিধা হবে না। একই সঙ্গে এ সেতু নির্মাণে সরকার এখন যে বহুলাংশে বিশ্বব্যাংকের দিকেই নির্ভর হয়ে আছে তা-ও অনেকটা প্রকাশ পেয়েছে সরকারের সর্বশেষ অবস্থান থেকে। পদ্মা সেতুতে পরামর্শক নিয়োগে বিশ্বব্যাংক যখন দুর্নীতির অভিযোগ তোলে তখন আবুল হোসেন যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে বিশ্বব্যাংক যে শর্ত দিয়েছিল এর মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে সরকারি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার শর্ত ছিল। কিন্তু সরকার শর্ত পূরণ না করায় তদন্তে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক গত মাসে ঋণচুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়।
ঋণচুক্তি বাতিল করার পর প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী ও যোগাযোগমন্ত্রী যে সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন তাতে অনেকটা বিশ্বব্যাংক বিরোধী মনোভাব প্রকাশ পেলেও এখন উল্টো অবস্থান দেখা যাচ্ছে।
গত ৩০শে জুন বিবৃতির মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিলের পরের দিন অর্থমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয়া বিবৃতি বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত মতামত। এদিন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশ্বব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত কেবল রহস্যজনকই না, দুর্ভাগ্যজনকও।
১লা জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, রহস্যজনক ও অনাকাঙিক্ষত। বিশ্বব্যাংক কেন ঋণচুক্তি বাতিল করে অসম্মানজনক বিবৃতি দিলো তা রহস্যজনক। ২রা জুলাই জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিবৃতির মাধ্যমে ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে অপমান করেছে। একই সঙ্গে ঋণচুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গত ৪ঠা জুলাই জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুতে ঋণ বাতিলের পর প্রথম কথা বলেন। তিনি বলেন, যেখানে বিশ্বব্যাংক এক পয়সাও ছাড় দেয়নি সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থ না দিলেও দেশের ১৬ কোটি মানুষ রয়েছে। দেশের মানুষকে নিয়ে আমরা এই সেতু নির্মাণ করবোই।
গত ৯ই জুলাই জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। এদিন তিনি বলেন, নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো। কারও কাছে মাথা নত করবো না। বিশ্বব্যাংক আমাদের গিনিপিগ বানিয়ে রাখতে চায়। তাদের কথা শুনলে দেশের উন্নয়ন হতো না। চলতি অর্থবছরেই পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে জানিয়ে তিনি এ সেতুতে নিজস্ব যেসব উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হবে এর একটি ধারণাও তুলে ধরেন।
সর্বশেষ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুতে ঋণ বাতিলে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত করেন। এদিন বিশ্বব্যাকের কড়া সমালোচনা করেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইঙ্গিতে বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিল করেছে বলে উল্লেখ করেন। দলীয় সভায় পদ্মা সেতুর জন্য নেতারা প্রত্যেকে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। গত ৯ই জুলাই দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের পদ্মা সেতুতে ঋণচুক্তি রিভিউ করার আহ্বান জানান।
একই দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইঞা ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন পদ্মা সেতুতে ঋণচুক্তি বাতিলের বিষয় রিভিউ করতে সরকার আর আবেদন করবে না। কারণ সরকারের কোন দোষ নেই। তিনি জানান, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করবে। ওই দিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজস্ব অর্থায়নে অর্থ সংগ্রহের একটি পরিকল্পনাও নেয়া হয়। একই সঙ্গে মন্ত্রীদের এক মাসের বেতনও ওই প্রকল্পে অনুদান হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এর পরের সপ্তাহে গত ১৬ই জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে পদ্মা সেতুর জন্য অর্থসংগ্রহে দুই ব্যাংক হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে একটি দেশীয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য এবং অপরটি বিদেশী উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য। একই দিন পদ্মা সেতুর জন্য চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এক ছাত্রলীগ কর্মী মারা যান। এনিয়ে দেশীয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
একই দিন সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে নতুন পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় নির্মাণব্যয় বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এখনও আলোচনা চলছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার ঘোষণা দেয়ার পর দেশবাসীর কাছ থেকে সাড়া মিলছে দাবি করে তিনি বলেন, এজন্য আগ্রহীরা অনুদান গ্রহণ করতেই দু’টি ব্যাংক একাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১৭ই জুলাই সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, পদ্মা সেতুর নামে যারা টাকা তুলছে তারা চাঁদাবাজ। ওদের পেটানো উচিত। তার এই বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া হয় খোদ সরকারি দলেই। একই সঙ্গে সরকারের অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট