Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বাসের চাকায় পিষ্ট হলো বুয়েট ছাত্রীর পা

রাজধানীর প্রেস ক্লাবের উল্টো পাশের সড়কে বাসচাপায় শাম্মা নাসরিন নামে বুয়েটের এক মেধাবী ছাত্রীর দুটি পা পিষ্ট হয়ে গেছে। গতকাল
রোববার বিকেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২৪ বছর বয়সী শাম্মা নাসরিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ এবং ঘাতক বাসটিসহ কয়েকটি বাসের কাচ ভাংচুর করেছে। সাধারণ লোকজনের সহায়তায় পুলিশ রাজা সিটি পরিবহনের ওই বাসটির চালক ফারুক হোসেন ও হেলপার রুবেল হাওলাদারকে আটক করেছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে একই স্থানে বিআরটিসি বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে পা হারান সাংবাদিক নিখিল ভদ্র। পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, শাম্মার বাঁ পা গোড়ালি থেকে কেটে ফেলতে হবে। আর ডান পায়ের থেঁতলানো মাংস সরিয়ে নিতে হবে। তবে আপাতত তিনি শঙ্কামুক্ত। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বকেল সোয়া ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর
এলাকা থেকে রাজা সিটি পরিবহনের বাসটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের উল্টো পাশের সড়ক দিয়ে ধীরে ধীরে যাচ্ছিল। এ সময় শাম্মা বাস থেকে নামতেই ওই বাসটির পেছনের চাকা তাকে চাপা দেয়। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে। ওই বাসের এক নারী যাত্রী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার ব্যাগে থাকা পরিচয়পত্র দেখে জানা যায়, শাম্মা বুয়েটের ছাত্রী। পরে তার সহপাঠীরা ও বুয়েট কর্তৃপক্ষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান।
মেয়েটিকে উদ্ধারকারী বাসযাত্রী আসমা বেগম সমকালকে বলেন, ‘মেয়েটি মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বাসে ওঠে। সে প্রেস ক্লাবের ওভারব্রিজের নিচে নামতে চাইলে চালক বাসটি পুরোপুরি না থামিয়ে ধীরে ধীরে চালাতে থাকে। এ অবস্থায়ই মেয়েটিকে বাস থেকে নামতে বাধ্য করে হেলপার।’
তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘মেয়েটি রাস্তায় নামলে বাসটি দ্রুত গতিতে টান দেয়। এতে সে ধাক্কা খেয়ে মাঝ রাস্তায় পড়ে যায়। ওই বাসটিই পেছনের চাকা তার পায়ের ওপর উঠিয়ে দেয়। রক্তাক্ত মেয়েটি রাস্তায় পড়ে থাকলে লোকজন নিয়ে তিনি তাকে উদ্ধার করে রিকশায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। হাসপাতালে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ খুলে পরিচয়পত্র দেখে পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়।’
অপর প্রত্যক্ষদর্শী মাহবুব হোসেন জানান, উদ্ধারের সময় দেখা গেছে মেয়েটির পা দুটি একেবারে থেঁতলে গেছে। একটি পা গোড়ালি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঝুলছিল।
পঙ্গু হাসপাতালে শাম্মার সহপাঠীরা জানান, শাম্মা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে রামপুরা এলাকায় থাকেন। গতকাল সকালে সেখান থেকে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। দুপুরের দিকে ধানমণ্ডির একটি বাসায় টিউশনি করাতে যান। সেখান থেকে রামপুরার বাসায় ফেরার পথে ঘটে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শাম্মার বাবার নাম মো. শাহজাহান। এক ভাই এক বোনের মধ্যে শাম্মা ছোট।
শাহবাগ থানার ইন্সপেক্টর (টহল) হোসেন শহীদ চৌধুরী সমকালকে জানান, আটক চালক ও হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট