Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘ব্যাংকিং ইতিহাসের বৃহত্তম জালিয়াতি’র অনুসন্ধানে দুদক-বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ২০ জুলাই : সোনালী ব্যাংক’র রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেল শাখায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ জালিয়াতিতে একই ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানসহ ১২ জনকে প্রাথমিকভাবে তদন্তে চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ পর্যন্ত উদঘাটিত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বার্তা২৪ ডটনেটকে জানিয়েছেন, এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের বৃহত্তম জালিয়াতি। তারা বলছেন, যেই পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এসেছিল- প্রকৃতপক্ষে এ অর্থের পরিমাণ তার চেয়েও বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এস.এ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে বিষয়টি এসেছে। ব্যাংকের একটি তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না। তাদের বরখাস্ত করতে পারে ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে রাখতে পারে।’’

‘দুদক যদি এই বিষয়ে অনুসন্ধান করে সেক্ষেত্রে তারা মামলা করতে পারে। তাদের এই স্বাধীনতা রয়েছে’, জানান তিনি।

দুদকের কমিশনার মো: বদিউজ্জামান বলেন, ‘‘অভিযোগটি আমরা কিছুদিন থেকে অনুসন্ধান করছি। এই বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিচ্ছি। তারা আমাদের সঙ্গে একটি দলের মতো কাজ করবে। অনুসন্ধানে এই পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের সাহায্য করে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে এটি ব্যাংকিং ইতিহাসে সবথেকে বড় ব্যাংকিং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বলে মনে হচ্ছে। এই পর্যন্ত অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য থেকে মনে হচ্ছে অভিযোগে পাওয়া টাকার অঙ্ক ছাড়িয়ে যাবে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘অনুসন্ধানটি সম্পন্ন হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’’

এই অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে কোনো পক্ষ থেকে এখনো কোনো বাধা আসেনি বলেও তিনি জানান।

দুদক সূত্রে জানা যায়, এই অভিযোগটি চলতি বছরের ৭ জুন কমিশন গ্রহণ করে। এরপর কমিশনের উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বেব ছয় সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি মনে করছে, এ পর্যন্ত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, টাকার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংখ্যাও বাড়তে পারে।

দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়, হলমার্ক গ্রুপ সুতা কিনতে আনোয়ারা স্পিনিং মিলস, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস ও স্টার স্পিনিং মিলসের অনুকূলে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার স্থানীয় ঋণপত্র খোলে। বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান তিনটিও একই শাখার গ্রাহক। একই দিনে এই এলসির অর্থ পরিশোধে নিশ্চয়তা (একসেপটেন্স) দেয় হলমার্ক। তার বিপরীতে তিন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে (একসেপটেন্স বিল কিনে নিয়ে) টাকা জমা করে দেয় ব্যাংক।

কয়েক দিন পর ওই তিন প্রতিষ্ঠান তাদের হিসাব থেকে এই সব টাকা হলমার্কের হিসাবে জমা করতে বললে ব্যাংক তা করে দেয়। ‘আনোয়ারা স্পিনিং মিলস, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস ও স্টার স্পিনিং মিলস নামের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃতপক্ষে হলমার্ক গ্রুপের প্রধান ব্যক্তি মো: তানভীর মাহমুদের বেনামি প্রতিষ্ঠান এবং এদের হিসাবে ঋণের সুবিধাভোগীও তিনি।

অনুসন্ধানে আরো বলা হয়েছে, যে এক হাজার ৭৩৫ কোটি টাকার ফান্ডেড ঋণ দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রকল্প ঋণ ছিল মাত্র আট কোটি ৪৯ লাখ টাকা। বাকি সবটাই ছিল নন-ফান্ডেড অর্থাৎ এলসি জাতীয় বা বৈদেশিক লেনদেনসংক্রান্ত অর্থায়ন। এসব অর্থায়ন কোনোভাবেই পুরোপুরি ঋণে পরিণত হওয়ার কথা নয়। এই ঋণের প্রায় পুরোটাই নিয়ে গেছে মূলত দুটি গ্রুপ। এর প্রায় ৯০ ভাগ অর্থ একাই নিয়েছে হলমার্ক, যার পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকার বেশি। আর টি অ্যান্ড ব্রাদার্স নিয়েছে ৪৯১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বিভিন্নভাবে আরো এক হাজার কোটি টাকার কারসাজিও ধরা পড়েছে দুদক কর্মকর্তাদের হাতে।

দুদক জানায়, সোনালী ব্যাংকের হোটেল রুপসী বাংলা শাখার ঋণ জালিয়াতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত রিপোর্ট চলতি বছরের ২১ মে দুদক নিয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক আলোচিত রূপসী বাংলা শাখা পরিদর্শন করে ব্যাংকিংয়ের রীতিনীতি ও পেশাদারির প্রতি চরম অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ করেছে। এছাড়া প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে, শাখা ব্যবস্থাপক ক্ষমতাবহির্ভূত ও বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ প্রদান করে দায়িত্ব পালনে বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করেছে। বেপরোয়া হারে ঋণ বৃদ্ধি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিধিবহির্ভূতভাবে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অন্তরালে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত বহন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা (শেরাটন হোটেল) শাখার ব্যবস্থাপক ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) একেএম আজিজুর রহমান ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) সাইফুল হাসানকে শাখার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই দু’জনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের শাখার বিতরণ করা ঋণ তোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট