Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিতর্কিত শরীফ এনামুল কবির জয়ী

 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আন্দোলনের মুখে পদত্যাগকারী সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির। শুক্রবার প্রশাসনিক ভবনের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৫০ ভোট। দুই মাস আগে তিনি ছাত্র-শিক্ষকের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন।

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট হলে নির্বাচনের ফলাফল ষোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু সিদ্দিক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাসির উদ্দিন।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বর্তমান উপাচার্য আনোয়ার হোসেন ও নুরুল আলম দুজনই সমানসংখ্যক ৩৫ ভোট পান। পরে লটারির মাধ্যমে তিন ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে যান আনোয়ার হোসেন ও দুই ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন নুরুল আলম।

প্যানেলের অপর দুই প্রতিযোগী অধ্যাপক আফসার আহমেদ পেয়েছেন ১৮ ভোট এবং শামছুল কবীর খান পেয়েছেন ৩ ভোট। বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের ৬৮ সদস্য ভোটগ্রহণ  কেন্দ্রে উপস্থিত থাকলেও ভোট দেন ৬৩ জন।

নিবার্চনের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম তিনজনের প্যানেল রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি এই প্যানেল থেকে ভিসি নিয়োগ দেবেন।

এদিকে, উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে ডাকা চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষকরা। এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা কাল থেকে ক্লাসে ফিরবেন বলে জানান।

আন্দোলনরত সম্মিলিত শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ মতিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগামীকাল থেকে তাঁরা ক্লাসে ফিরে যাচ্ছেন। তবে তাঁরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

প্রথম প্যানেলে ছিলেন বর্তমান উপাচার্য আনোয়ার হোসেন, নুরুল আলম ও আফসার আহমদ। দ্বিতীয় প্যানেলে ছিলেন সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির। এই প্যানেলে তাঁর সঙ্গে ইসমাইল হোসেন থাকলেও তিনি সাড়ে ১১টার দিকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। তৃতীয় প্যানেলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের (প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিভিশন) পরিচালক শামসুল কবির খান।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শামসুল কবির খানসহ পাঁচজন সিনেট সদস্য নির্বাচন বর্জন করেন। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের শামসুল কবির খান বলেন, ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে শিক্ষকদের একাংশকে অংশগ্রহণ করাতে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় আমরা নির্বাচন থেকে সরে এসেছি।’

এর আগে উপাচার্য আনোয়ার হোসেন আন্দোলনকারীদের মধ্যে সিনেট সদস্যদের নির্বাচনে অংশ নিতে অনুরোধ জানান।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনকারী সম্মিলিত শিক্ষক পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন করেন শিক্ষকেরা। এতে অংশ নেন সাতজন সিনেট সদস্য। মুখে কালো কাপড় বেঁধে তাঁরা মৌন মিছিল করেন। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপাচার্য আনোয়ার হোসেন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি তাঁদের অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

সকাল ১০টার দিকে সিনেট সদস্য মোহাম্মদ আশরাফউদ্দিন খান অনশনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। অনশনকারীদের দাবির বিষয়ে তিনি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলবেন জানিয়ে তাঁদের অনশন ভাঙান। পরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আন্দোলনকারী শিক্ষক এ এ মামুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের নিষ্পত্তি করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্যানেলের নির্ধারিত নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট