Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অজানা ভাইরাসের আক্রান্ত হয়েই হুমায়ূন আহমেদের জীবনাবসান

নিউ ইয়র্ক, ২০ জুলাই: উনিশশো আটচল্লিশ সালের তের নভেম্বর থেকে দুই হাজার বারো সালের কুড়ি জুলাই; চৌষট্টি বছরের জীবন শেষে পরকালে পাড়ি জমালেন জননন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয়তম এই লেখক, এ মহাজীবনের সমাপ্ত ঘটলো এখন পর্যন্ত অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।

ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের একটি হাসপাতালে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

এর আগে আমেরিকায় চিকিৎসাধীন লেখক হুমায়ুন আহমেদের চিকিৎসকরা বাংলাদেশ সময় ‍বুধবার রাতে জানিয়েছিলেন, হুমায়ুনের শরীরে একটি ভাইরাস সংক্রমিত হবার পরে এখন তার ফুসফুসে পানি জমছে এবং সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ- ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভাইরাসটি চিহ্নিত করতে না পারায় তাকে চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছিল না। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এম এ মোমেন বুধবার রাতে এ কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যগুলোকে।

ড. এম এ মোমেন জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকরা এখনো ভাইরাসটি শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। ফলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষণে রাখলেও চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হুমায়ূনকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন ড. মোমেন।

শেষ পর্যন্তও চিকিৎসকরা ভাইরাসটি চিহ্নিত করতে পারেননি। ফলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখলেও চিকিৎসা দেয়া যায়নি হুমায়ুন আহমেদকে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী।

বৃহদান্ত্রে ক্যান্সার শনাক্ত হলে গত বছরের সেপ্টেম্বরে চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্কে যান হুমায়ূন আহমেদ। সেখানে মেমোরিয়াল স্লোয়ান-কেটরিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন তিনি।

পরে দুই পর্বে মোট ১২টি কেমো থেরাপি নেওয়ার পর গত মাসে বেলভ্যু হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. জেইন এবং ক্যান্সার সার্জন জজ মিলারের নেতৃত্বে হুমায়ূন আহমেদের দেহে অস্ত্রোপচার হয়।

বর্তমানে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও তার ছোট ভাই ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল নিউ ইয়র্কে আছেন।

জীবিতকালেই হুমায়ুন আহমেদ হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয়তমলেখক। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার এবং নাট্যকার। বলা হয়, বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। ২০১১ পর্যন্ত তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অতুলনীয় জনপ্রিয়তা সত্বেও তিনি অন্তরাল জীবন-যাপন করতেন এবং লেখলেখি ও চিত্রনির্মাণের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। এ বছরের শুরুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ দূতাবাসে সিনিয়র স্পেশাল অ্যাডভাইজারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট