Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইইউ’র ক্রেতারাও উদ্বিগ্ন

বাংলাদেশের গার্মেন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউরোপের ক্রেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের মতো তাদেরও উদ্বেগ- ক্রমাগত অস্থিতিশীলতা এবং কারখানার কাজের পরিবেশ উন্নত না হওয়ায়। গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের প্রধান রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা বাংলাদেশের গার্মেন্টসের অন্যতম প্রধান বাজার ইউরোপের ক্রেতাদের এ উদ্বেগের কথা জানান। ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ডিকাব-এর মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে রাষ্ট্রদূত জানান, বিভিন্ন ফোরামে ইইউভুক্ত দেশের ক্রেতাদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সামপ্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। ইইউ চায় বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হোক। একই সঙ্গে সব ধরনের অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। গত ১০ই জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বাংলাদেশের গার্মেন্টস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের উদ্বেগের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, পেন্টাগন, কংগ্রেস ছাড়াও চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বরাত দিয়ে সেদিন ড্যান মজিনা জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পণ্য কিনে মার্কিন ক্রেতারা নিজেদের সুনাম ‘ঝুঁকি’র মুখে ফেলতে চান না। এবার ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের ক্রেতাদের উদ্বেগ এবং এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন উইলিয়াম হানা। সাংবাদিকদের সঙ্গে অলোচনায় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালকের নিখোঁজ হওয়ার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করতে ইইউ’র আহ্বান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত হানা বলেন, এ নিয়ে আগেও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। গুম-হত্যা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি ইইউ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। ডিকাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদের পরিচালনায় দুপুরে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিল নিয়ে কথা বলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেন তিনি। বাংলাদেশের জনগণের জন্য সেতুর গুরুত্ব উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, ইইউ এ ধরনের কোন প্রকল্প নিয়ে কাজ করে না। তাই পদ্মা সেতু প্রকল্পে তাদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উইলিয়াম হানা দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচন কোন মডেলে হবে সে সম্পর্কে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিছু বলতে চায় না। তবে এদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ইইউ দেখতে চায়। দেশগুলো আশা করে এখানে এমন নির্বাচন হবে যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ রাষ্ট্রদূত মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের নিবিড় সংলাপের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সংলাপই হতে পারে একমাত্র সমাধান। রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে ইইউ’র সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনার মধ্যে চামড়া শিল্পের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, এ শিল্পকে আরও উন্নত করতে ৬০ হাজার দক্ষ শ্রমিক দরকার।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট