Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

প্রধানমন্ত্রী হতে চায় বস্তির মেয়ে শিউলি

বস্তির জীবন তার কাছে অতীত। মুছে যাওয়া এক স্মৃতি। বাংলাদেশী শিউলি এখন দুবাইয়ের তারকা, সেলিব্রিটি। এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সে বলছে, আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চাই। এই বিস্ময়কর পরিবর্তন  শিউলির জীবনে যিনি এনেছেন তিনি অ্যামিরেট এয়ারলাইন্সের একজন সাবেক এয়ার হোস্টেস। শিশুদের জন্য গড়ে তোলা তাঁর মারিয়া ফাউন্ডেশনের এক ফুল এখন শিউলি।
‘যখন বস্তিতে থাকতাম, তখন ভাবতাম, বড় হয়ে কারও বউ হয়ে গৃহকর্মী হবো। কিংবা পরিচ্ছন্নকর্মী হবো। আমার কোন স্বপ্ন ছিল না। আমার কোন ভবিষ্যৎ ছিল না। জীবনের কোন লক্ষ্য ছিল না। আমি দেখতাম নারীরা কি অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। কিন্তু তাদের দু’দণ্ড অবকাশ ছিল না। আমিও তাদের মতো একজন হবো। এই ছিল আমার নিয়তি।’
সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক মারিয়া ফাউন্ডেশনের শিশুকল্যাণ কর্মসূচির আওতায় শিউলির জীবন বদলে গেল। একদিন বস্তির জীবন ছেড়ে সে উড়ে গেল দুবাই। ‘আমি আমার আরও চার ভাইবোনের সঙ্গে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতাম। ভালভাবে খাবার পেতাম না। যেহেতু হতদরিদ্র ছিলাম, তাই আমাদের পাঁচ ভাইবোনের কোন স্কুল জীবন ছিল না।’
এমন প্রেক্ষাপটে মারিয়া এলেন আমার জীবনে। যেন এক পরী এলেন। তিনি আমাকে স্বপ্নের দেশে নিয়ে গেলেন। তাঁর নাম মারিয়া কনিসকাও।
আমার জীবন পাল্টে গেল। মারিয়ার কারণে বাংলাদেশে শুরু হলো আমার স্কুল জীবন। বাংলাদেশে ৬০০ শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছে মারিয়া ফাউন্ডেশন। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মারিয়ার সংগ্রহ করা শিশুদের মধ্যে শিউলি একজন। তবে সে ব্যতিক্রম। কারণ তার তারকাখ্যাতি মিলেছে দুবাইয়ে। ২০০৫ সাল থেকেই শিউলির শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করছে মারিয়া।
‘তবে যখন শুনলাম আমার সব খরচ বহন করবে মারিয়া তখন বিশ্বাস করতে পারিনি। ’
‘আমি দু’বছর আগে দুবাইয়ে এসেছি। তখন ভাষা জানতাম না। বস্তিতে থাকা এক কিশোরীর পৃথিবী কতই না স্বল্প পরিসরের। এখন আমি ইংরেজিতে কথা বলতে পারি।’
শিউলি দুবাইয়ের স্কুলভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ২০১২ সালের ‘স্পোর্টসউওম্যান অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছে।
শুধু শিউলি নয়, ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সের এ রকম আরও ছয়টি বাংলাদেশী দরিদ্র শিশু বিশেষ বৃত্তি নিয়ে পড়তে এসেছে দুবাইয়ে। অন্য পাঁচ জন হলো- বিলকিস, সুজন, হিমেল, তসলিম ও মিলন।
সাংস্কৃতিক দূরত্ব, ভাষা ও সমাজগত সমস্যা কাটিয়ে বাংলাদেশের বস্তি শিশুরা বেশ মানিয়ে নিয়েছে দুবাইয়ের স্কুলের পরিবেশ ও অন্যান্য সহপাঠীর সঙ্গ।
মারিয়া অ্যামিরেটসের এক সাবেক বিমান বালা। তিনিও কিন্তু তাঁর মাপের চেয়ে অনেক উচ্চতায় পথ পরিক্রমণ করছেন। শিউলির সাফল্যে তিনি গর্বিত।
মারিয়ার স্বপ্ন দুস্থ শিশুদের শিখর চূড়ায় পৌঁছে দেয়া। তার নিজের আরেক স্বপ্ন এভারেস্ট চূড়ায় পতাকা ওড়ানো। আর সেখানেই শান্তিতে মৃত্যুবরণ করা। ২০১৩ সালের এপ্রিলে এভারেস্ট চূড়ায় উঠবেন তিনি।
‘আমি এটা আমার জন্য করছি না। আমি আমার বাচ্চাদের শিখরে ওঠাতে চাই। আমি একজন মা। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে যে, আমার ৬০০ সন্তান জীবনে এমন কিছু হতে পারবে সাধারণত অন্য সব স্বাভাবিক শিশু যা হওয়ার স্বপ্ন দেখে।’
মারিয়া ইতিমধ্যে উত্তর মেরু পরিভ্রমণের মতো দুঃসাহসিক কাজ সম্পন্ন করেছেন। বিশ্বের আরও দু’টি বড় পর্বত তিনি জয় করেছেন।
তাঁর ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক সত্য ব্রতদম গত ১৮ই জুলাই দুবাইয়ের ওয়েবসাইট সেভেনডেজইনদুবাইডটকম-এর কিম্বারলি লোবোকে বলেন, আমি আমার জীবনে এমন দৃঢ়চেতা নারী খুব কম দেখেছি যিনি অন্যের জন্য জীবন বাজি ধরে পথ চলতে এত বেশি সংকল্পবদ্ধ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to প্রধানমন্ত্রী হতে চায় বস্তির মেয়ে শিউলি

  1. mehedi hasan shovon

    July 20, 2012 at 10:46 am

    Tty