Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শেষ কর্মদিবসে ড. হুদা ও ছহুল- ‘তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন করা কঠিন’

স্টাফ রিপোর্টার: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করা কঠিন। তবে অসম্ভব নয়। কিছু শর্ত পূরণ করা হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। ৫ বছর মেয়াদের শেষ কর্মদিবসে বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন গতকাল এ মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, সরকারের কাছ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে পুনঃনিয়োগের কোন প্রস্তাব পাননি মন্তব্য করে সিইসি ড. হুদা বলেন, প্রস্তাব না পাওয়ায় ‘অপারগতা’ প্রকাশ করার প্রশ্নই ওঠে না। গত ৫ বছরে কমিশনের সাফল্য-ব্যর্থতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিদায়ী সিইসি বলেন, খুবই শুভকর অভিজ্ঞতা নিয়ে মেয়াদ শেষ করছি। দেশের জন্য বেশ কিছু ভাল কাজ করে গেলাম। কিছু ভাল কাজ রেখেও গেলাম। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে কিনা প্রশ্নে বিদায়ী সিইসি বলেন, দুনিয়াতে কোন কাজই অসম্ভব নয়। তবে কিছু শর্ত পূরণ করা না হলে নির্বাচন করা কঠিন হবে। সিইসি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকলে সারা দেশে একই দিনে নির্বাচন করা যাবে না। নির্বাচন হতে হবে আলাদা আলাদা দিনে। সরকারের অন্তত ৪টি মন্ত্রণালয়কে কমিশনের পরামর্শ মেনে কাজ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। তাছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তো আর অনন্ত সময় ধরে চলতে পারে না। সেনা সমর্থিত গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদকে সংলাপের চিঠি দেয়ার বিষয়ে সিইসি বলেন, আমাদের সবার উচিত ওটা ভুলে যাওয়া। অতীতের খারাপ ঘটনা নিয়ে টানাহেঁচড়ার কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তখন যারা সংস্কারপন্থি দলে ছিলেন, তাদের প্রায় সবাইকে পদে বসিয়ে বিএনপিও দলীয়ভাবে সেই খারাপ অতীত ভুলে যেতে চাইছে। আমাদেরও তা-ই করা উচিত। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলার বিষয়ে ড. হুদা বলেন, যত গালাগালি করেন, ততই আমি মহীয়ান। বিদেশী সংস্থার জরিপে ৭০ শতাংশ লোক বলেছে আমি ঠিক কাজ করেছি। এই ৭০ শতাংশের মধ্যে বিএনপিও আছে। বিএনপি’র কিছু লোকও বলেছে আমরা ভাল কাজ করেছি। কমিশন সচিবালয়ের সব কাজকে ডিজিটালাইজড করতে পারেননি উল্লেখ করে সিইসি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি আধুনিক করতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের দিকে যেতে হবে। এটি অত্যন্ত সহজ-সুন্দর একটি যন্ত্র। আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাতে এ যন্ত্রটি ব্যবহার হতে পারে, নতুন কমিশন সে পথে হাঁটবে বলে আশা রাখি। অপর বিদায়ী নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইনও গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ করে মন্ত্রী-এমপিদের হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন। তিনিও দাবি করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কখনো সরকার দ্বারা প্রভাবিত ছিল না। আমরা শতভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করেছি। কারও সঙ্গে পক্ষপাতিত্বও করিনি। মাটিতে নেমে যাওয়া একটা প্রতিষ্ঠানকে আমরা গত পাঁচ বছরে অনেক উপরে তুলেছি। নতুন কমিশন এই ধারাবাহিকতাকে অব্যাহত রাখবে। ছহুল হোসাইন বলেন, ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বর্তমান নির্বাচন কমিশন ‘ইচ্ছে করে’ সংস্কারপন্থি বলে পরিচিত বিএনপিকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানায়নি। কাগজপত্র দেখেই ‘সঠিক’ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে ছহুল বলেন, একটা কাগজের ওপর ভিত্তি করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কমিশনের বিবেচনার জন্য যে কাগজ এসেছিল (বিএনপি’র সংস্কারপন্থি অংশের দাবি  ছিল) স্থায়ী কমিটির ৯ জনের দস্তখত ছিল ওই কাগজে। তবে সেই দস্তখতগুলো সঠিক না বেঠিক ছিল- তা আমরা বুঝবো কি করে? পরবর্তীতে বিএনপি ‘সঠিক ধারায়’ ফিরে আসায় ইসিও তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। ছহুল হোসাইন বলেন, যা হয়েছিল তা কমিশনের ভুল নয়, বরং রাজনৈতিক ভুল ছিল। ওই সময়ে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে কোন পক্ষপাতিত্ব করিনি। পরবর্তীতে যখন আমরা দেখলাম কাগজটাকে অনেকে অস্বীকার করছে- তখন আমরা সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলাম। এখানে স্মরণ করা যায়, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে আইনি সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বিএনপি’র তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে আমন্ত্রণ জানায়নি কমিশন। বরং কমিশন তখন ‘সংস্কারপন্থি’ বলে পরিচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাফিজউদ্দিন আহমেদকে আমন্ত্রণ জানায়। পরে নবম সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি’র খোন্দকার দেলোয়ারকেই সংলাপে আমন্ত্রণ জানায়। এ নিয়ে কমিশনের সমালোচনা করে আসছে বিএনপি। এ বিষয়ে ছহুল হোসাইন বলেন, এতে আমার কোন দুঃখ নেই। রাজনীতি বুঝতে হবে। রাজনীতিতে যারা বিরোধী দলে থাকেন, সব সময় তাদের একটা গ্রাউন্ড বের করতে হয়। আমি বিশ্বাস করি যে, তারা মন থেকে এ কথাগুলো বলেনি। রাজনীতির খাতিরেই শুধু তারা বিরোধিতা করেছে। আমরা জাতিকে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চেষ্টা করেছি। আমাদের কাজই মূল্যায়ন করবে আমরা নিরপেক্ষ ছিলাম কি-না? এছাড়া আমাদের বিষয়ে নতুন কোন বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। এরপরেও যে অল্পসল্প হয়েছে- তা বোঝার ভুলে হয়েছে। গত ৫ বছরে কমিশনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কি- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সঙ্কটময় কালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা ছিল অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ ১৮ মাসে সঠিকভাবে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে পারা ইসি’র সবচেয়ে বড় অর্জন। কারণ এর ফলে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের কোন প্রয়োজন নেই। জাতীয় প্রয়োজনেই জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছে। শপথ নেয়ার পর থেকে যে কাজটি হাতে নিয়েছিলাম সেটি হচ্ছে কি কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না বা অবাধ হয় না- সেটা আইডেন্টিফাই করা। এটা আইডেন্টিফাই করতে গিয়ে দেখলাম- সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু ভোটার তালিকা। তাই অনেক সময় ব্যয় করে আমরা একটি ভোটার তালিকা করলাম। ছবিসহ ভোটার তালিকা হওয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছে। ছহুল হোসাইন বলেন, আমরা একনিষ্ঠ ছিলাম, যেভাবেই হোক নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করব। এই পাঁচ বছর কেমন কাটালাম- এ কথা ভাবতেই মনে হলো- আমরা প্রতিটি দিনের প্রতিটি ক্ষণ কাজ করেছি। এত কাজ করেছি যে একটি মিনিটও নষ্ট হয়নি। হতাশা বা ব্যর্থতা ছিল কি-না প্রশ্নে তিনি জানান, কোন হতাশা দেখি না। কোন হতাশা নেই। বরং প্রতিটি টার্গেটই আমরা সম্পূর্ণ করতে পেরেছি। খুবই ভালভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছে কি না প্রশ্নে ছহুল বলেন, আমি তো বলব ১০০% স্বাধীনভাবে কাজ করেছি। কখনো কারও কাছ থেকে কোন ধরনের চাপ পাইনি। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য আমরা যেটা সঠিক মনে করেছি, সেটাই করেছি। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শপথ নেন ড. এটিএম শামসুল হুদা। একই দিন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শপথ নেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। এর পর ১৪ই ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পান অপর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। চলতি সপ্তাহেই প্রথম দু’জন এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে তৃতীয়জনের ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


3 Responses to শেষ কর্মদিবসে ড. হুদা ও ছহুল- ‘তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন করা কঠিন’

  1. sikiş izle

    March 13, 2012 at 1:08 pm

    hey admin thanks for excellent and uncomplicated understandable post i beloved your weblog website definitely significantly bookmarked also

  2. amcik

    March 14, 2012 at 7:42 am

    Great post admin thank you. I observed what i used to be in search of here. I will review entire of posts in such a day time

  3. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 3:38 pm

    I was searching for this web site very last three days and nights excellent blog site operator excellent posts every little thing is superb