Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এইচএসবিসি থেকে ডেভিড ব্যাগলি’র পদত্যাগ

অর্থপাচার কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগ করেছেন ইউরোপের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এইচএসবিসি ব্যাংকের অনুমোদন বিভাগের প্রধান ডেভিড ব্যাগলি। মঙ্গলবার  তিনি যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে শুনানির সময় বলেন, পদত্যাগ করলেও তিনি এ ব্যাংকে নতুন কোন ভূমিকায় থাকবেন। ওদিকে বাংলাদেশ, সৌদি আরব, ইরান, সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থপাচারের সঙ্গে ব্যাংকটি জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সারা বিশ্বে তা নিয়ে তোলপাড় চলছে। অভিযোগ করা হয়েছে, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের কাছে অর্থপাচারের ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের দু’টি ব্যাংককে ব্যবহার করেছে- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। এ দুটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পুরনো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা খতিয়ে দেখছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ওদিকে, এইচএসবিসি’র দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অর্থ পাচারের ওই ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের সিনেট পারমানেন্ট সাব-কমিটি অব ইনভেস্টিগেশনের এক তদন্তে এসব ঘটনা ধরা পড়ে। এ নিয়ে সিনেটের ওই সাব-কমিটিতে মঙ্গলবার শুনানি হয়। এতে এইচএসবিসি’র অন্য নির্বাহীরা হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারা বলেন, তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে যে অবৈধ অর্থপাচার হচ্ছে এ বিষয়টিতে তারা পুরোপুরি ওয়াকিবহাল ছিলেন না। তারা সিনেট সাব-কমিটিতে আরও বলেন, এরই মধ্যে তাদের ব্যাংক নিজস্ব নীতিতে গভীর পরিবর্তন এনেছে। পাল্টে ফেলেছে করপোরেট সংস্কৃতি। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে অবৈধ অর্থের স্থানান্তর প্রতিহত করবেন। এ সময় সিনেটররা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, জঙ্গিদের কাছে অর্থ পাচারের ঘটনাটি ঘটছিল সাত বছর ধরে। যুক্তরাষ্ট্র শাখা এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্ট আরিন ডোরনার সিনেট কমিটির কাছে তার সাক্ষ্যে বলেছেন, এইচএসবিসিতে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যে শিথিলতা দেখা দিয়েছে সেজন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র সিনেট থেকে এ বিষয়ে দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এইচএসবিসি যুক্তরাষ্ট্র শাখা ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কোটি কোটি ডলার অর্থপাচার করার ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পালন করেছে। তারা এক্ষেত্রে পথ করে দিয়েছে সৌদি আরবের আল রাজি ব্যাংক, বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংককে। এসব অর্থ আল কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে চলে গেছে। ফলে এই ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট ওই জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে।
অভিযোগ খতিয়ে দেখছে  বাংলাদেশ ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) জঙ্গি অর্থায়নে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা খতিয়ে দেখছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে তারা। বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এন্টি মানিলন্ডারিংয়ের বিষয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করেছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা অনেক বাড়ানো হয়েছে। শিগগিরই একটি শক্তিশালী এন্টি মানিলন্ডারিংয়ের সফটওয়্যার এসে যাবে। তিনি জানান, এখন বিশ্বব্যাপী এন্টি মানিলন্ডারিংয়ের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভাল। এন্টি মানিলন্ডারিং সূচকে অনেক দেশ অনেক নিচে নেমে গেছে কিন্তু বাংলাদেশ তার অবস্থান ধরে রেখেছে।
ইসলামী ব্যাংকের জড়িত থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না:
এইচএসবিসি’র সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে জড়িয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় যে (১৮ই জুলাই) সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও বস্তুনিষ্ঠ নয় বলে জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। একই সঙ্গে জঙ্গি অর্থায়নের মতো ইসলাম পরিপন্থি, দেশের স্বার্থবিরোধী, ঘৃণ্য, অমানবিক, অনৈতিক ও নাশকতামূলক কোন কাজে ইসলামী ব্যাংকের মতো পরিপালনকারী ও জনকল্যাণধর্মী আইনানুগ বাণিজ্যিক ব্যাংকের জড়িত থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না। গতকাল ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আতাউর রহমানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট