Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘সামরিক অভিযান না চালানো’র কারণ জানালেন নৌবাহিনী প্রধান

 রক্তপাত এড়াতে বিডিআর বিদ্রোহ দমনে সামরিক অভিযানের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমঝোতার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল জহির উদ্দিন আহম্মেদ। গতকাল বকশীবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী দায়রা জজ আদালতে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে দেয়া এক সাক্ষ্যে এ তথ্য জানান তিনি। ভারপ্রাপ্ত মহানগর  দায়রা জজ এম আকতারুজ্জামানের আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে নৌবাহিনী প্রধান বিডিআর বিদ্রোহ সম্পর্কে বলেন, সকাল ১০টায় পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স)-এর মাধ্যমে আমি বিডিআরে গণ্ডগোলের খবর পাই। দুপুর আনুমানিক ১৩ ঘটিকায় প্রধানমন্ত্রীর অফিসের ফোন পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিস ‘যমুনা’য় যাই। সেখানে আগে থেকেই সেনাবাহিনীর প্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এলে আমরা মিটিং করি। তবে পিলখানার ভেতরের অবস্থা জানতে না পারায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। পরে ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে ডিএডি হাবিব, ডিএডি নাসির, ডিএডি রহিম, ডিএডি জলিল, সিপাহি সেলিম রেজা, হাবিলদার রফিক, ল্যান্সনায়েক মনিরুজ্জামান, সিপাহি মনিরসহ ১২-১৪ জন বিডিআর সদস্যের একটি দল ‘যমুনা’য় আসে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উচ্চস্বরে কথাবার্তা বলছিলেন। তাদের দাবি-দাওয়ার মধ্যে ছিল- লিখিতভাবে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে হবে এবং তা সংসদে পাস করে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তাদের মৌখিকভাবে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণার আশ্বাস দেন এবং বলেন, তোমরা অস্ত্র সমর্পণ করো। নতুবা, তিন বাহিনীর প্রধানরা এখানে আছেন। তারা কঠোর অ্যাকশনে যাবেন। বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণে রাজি হন এবং পিলখানায় চলে যান। আলোচনার সময় তারা পিলখানায় সেনা অফিসারদের হত্যার বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। পরেও তারা হত্যার বিষয়ে কিছু বলেননি। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সেনা অফিসারদের হত্যার বিষয়টি গোপন করেন। সাক্ষ্যে নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের মতামত জানতে চান। তিনি আমাদের বলেন, দু’টি পথ খোলা আছে। সমঝোতা, না হয় সামরিক অভিযান। কিন্তু ভেতরের অবস্থা বোঝা না যাওয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। পরে আমরা সমঝোতা করা ঠিক হবে বলে মত দিই। একই সঙ্গে সমঝোতা না হলে সামরিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিদ্রোহ দমনের মতামত দিই। সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের তিন আইনজীবী এডভোকেট আমিনুল ইসলাম, শামীম সরদার ও ফারুক আহমেদ নৌবাহিনী প্রধানকে জেরা করেন। স্বাধীন বাংলাদেশে এবারই প্রথম কোন বাহিনী প্রধান আদালতে পোশাক পরিহিত অবস্থায় সাক্ষ্য দিলেন।
জেরার পূর্ণ বিবরণী: আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আমিনুল ইসলাম নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল জহিরউদ্দিন আহমেদকে জেরা আরম্ভ করেন। আইনজীবী জিজ্ঞাসা করেন- ২৫শে ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহ ঘটনার দিন সকাল ১০টায় ঘটনা ঘটার পর সরকারের তরফে কোন মন্ত্রী, এমপি আপনাকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন? জবাবে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, জি না। টিভি অন করেছিলাম। স্ক্রল চলছিল। ফুলটাইম টিভি দেখিনি। আপটেড টুকু দেখছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর অফিসে গিয়ে সেনা ও বিমানবাহিনীর প্রধানকে দেখেছিলেন? জি। আপনারা তিন বাহিনীর প্রধান প্রধানমন্ত্রীর অফিসে কতক্ষণ ছিলেন? আনুমানিক এক ঘণ্টা। এই এক ঘণ্টা কি আপনারা তিনজন একসঙ্গে ছিলেন? হ্যাঁ। বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে ওই এক ঘণ্টা কি আপনাদের কথাবার্তা হয়েছিল? জি। সেনাপ্রধান যা জানতেন তা কি আপনাকে বলেছিলেন? এ নিয়ে কিছু কথা তো হয়েছেই। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনাদের বৈঠক হয়? জি। মিটিংয়ের পর বা মিটিংয়ের আগে জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম- এদের দেখেছিলেন? না দেখিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সরকারের সচিব-আমলাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল? আমার হয়নি। অন্যদের হয়েছে কিনা জানি না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছার আগে কি জানতেন বিডিআর সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আসবেন? আমি জানতাম না, উনারা জানতেন কিনা জানি না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তো আপনাদের প্রথম দফা প্রায় আধাঘণ্টা বৈঠক হয়। এরপর আবারও কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনাদের আরেক দফা বৈঠক হয়? কথা হয়েছিল তবে তা বৈঠক ছিল না। বৈঠক হয়েছে একটি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কি বিডিআর সদস্যদের আসার কথা জানিয়েছিলেন? না। ওই বৈঠক চলাকালে সেনাপ্রধান কি এমন তথ্য দিয়েছিলেন যে, পিলখানায় বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে? এ প্রশ্নে নিরুত্তর থাকেন নৌবাহিনী প্রধান। ২৫শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিডিআরের ডিজি শাকিলের সঙ্গে মইন উ আহমেদের কথা হয়- এ তথ্য কি আপনাদের অবহিত করেছিলেন? উনি অনেক কথাই বলেছিলেন। সময় সম্পর্কে বলতে পারবো না। কোন গোয়েন্দা সংস্থা বিডিআর বিদ্রোহের তথ্য আপনাদের অবহিত করেছিল? তা মনে নেই। প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যতক্ষণ ছিলেন- তখন কি আপনি জানতে পেরেছিলেন পিলখানায় সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেড পাঠানো হয়েছে? জানি না। বেলা ৩টা ৪৮ মিনিটে ‘যমুনা’য় যে প্রতিনিধি দল এলো তাতে মির্জা আজম, ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক ছিলেন? জি। এই তিন জনের তত্ত্বাবধানে বিডিআর সদস্যরা পিলখানায় যান? ‘যমুনা’ থেকে বের হন। তবে তারা পিলখানায় না- অন্য কোথাও গেলেন- জানি না। প্রতিনিধি দলে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে দু’জন সৈনিক নিউ মার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন? হ্যাঁ। সকাল ১১টা-১২টার মধ্যে। বেলা ২টার সময় ঢাকার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুজিব ও কর্নেল এনায়েতের লাশ নবাবপুরের সুয়্যারেজে পাওয়া যায়? আমি জেনেছি দু’টো লাশ পাওয়া গেছে। কাদের তা জানি না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনাদের বৈঠক ক’টায় শুরু হয়? ২টা ১৫ বা আড়াইটায়। সেনাপ্রধান মইন উ আহমদ ওই বৈঠকে বলেননি লাশের কথা? লাশের কথা বলেছেন, তবে নাম বলেননি। যে দু’টি লাশের কথা জানতে পারলেন তা দেখতে গিয়েছিলেন? আমি যাইনি। আহতদের? না, আহতদেরও দেখতে যাইনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অবস্থানের সময় ডিএডি তৌহিদ ও মঈন উ আহমেদকে কথা বলতে দেখেছেন? হ্যাঁ। তৌহিদ কি বলেছিলেন? স্মরণ নেই। তবে তাদের তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তালা খুলে তাদের বৈঠকে নিয়ে আসা হয়েছে- এমন কোন কথা বলেননি। পিলখানায় তিনটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল কি? হেলিকপ্টার গিয়েছিল। কিন্তু সংখ্যা জানি না। বৈঠকে বিমানবাহিনী প্রধান কি বলেননি তার বাহিনী কপ্টার থেকে গাছের ফাঁকে ফাঁকে কিছু সৈন্য দেখেছেন? আমার জানা নেই। আপনারা কি আপনাদের রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন? জি। ২৫শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের মধ্যে বহু সেনাকর্মকর্তা পিলখানা ছেড়ে আসতে পেরেছিলেন, জানেন? না, আমার জানা ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আগে বা পরে সাংবাদিকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন? অন্যদের কথা জানি না, আমি খোঁজ-খবর নিইনি। এ পর্যায়ে সকাল সোয়া ১১টা পর্যন্ত জেরা মুলতবি রাখেন বিচারক। পরে পুনরায় জেরা শুরু হলে আইনজীবী জিজ্ঞাসা করেন, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিবরণী কি রেকর্ড হয়েছিল? আমার জানা নেই। সেনাপ্রধানকে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের সময় তার প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার পিলখানায় গোলাগুলি না করার কথা বলেছিলেন? আমার জানা নেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে আমরা তিন বাহিনীর প্রধানরা আলাদা আলাদা সময়ে আনুমানিক ৫টার পর প্রধানমন্ত্রীর অফিস ত্যাগ করি। সমঝোতা না সামরিক অভিযান- প্রধানমন্ত্রীর এ প্রশ্নে আমরা সমঝোতার পক্ষে মত দিয়েছিলাম। পিলখানার ভেতরে বাইরে নিহত হওয়ার ঘটনা জেনেই সমঝোতার পক্ষে মত দিয়েছিলেন? জি। পর মুহূর্তেই নৌপ্রধান বক্তব্য সংশোধন করে বলেন, সত্য নয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডের কথা জেনেই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন? সত্য নয়। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের সময় বিডিআর সদস্যদের অস্ত্র সমর্পণ করতে বলেছিলেন? এটা জানিয়ে ফোন করতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কি তাদের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন? প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- এক্ষুণি টেলিফোনে বলো। তারা কি তখন ফোন করেছিল? না। তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন না করায় আপনারা সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন? না, দিইনি। তাৎক্ষণিক কোন ফোনালাপ হয়নি, বিদ্রোহও বন্ধ হয়নি। ২৬শে ফেব্রুয়ারি সিলেট থেকে প্যারা কমান্ডো বাহিনী আনার ব্যবস্থা হয়েছিল, জানেন? আমি শুনেছি। ২৫শে ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টায় বের হওয়ার পর দু’দিন কি আপনি পিলখানায় গিয়েছিলেন? না। ২৫ বা ২৬শে ফেব্রুয়ারি পিলখানায় নৌবাহিনী পাঠাননি? না, পাঠাইনি। ২৭শে ফেব্রুয়ারি ডুবুরি পাঠিয়েছিলাম। ২৫ তারিখ বিকাল ৫টার পর আপনারা তিন বাহিনীর প্রধানরা কি আর বৈঠকে বসেছিলেন? আমি বসিনি। আপনারা কি জানতে চেয়েছিলেন- প্রধানমন্ত্রী কিভাবে বিদ্রোহের তথ্যটি পেয়েছিলেন? আমি জানতে চাইনি। অন্য দু’জন জানতে চেয়েছিলেন কিনা তা আমার মনে নেই। এটা জানতে পেরেছিলেন মির্জা আজম, ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানায় গিয়েছেন? এটা আমি টিভিতে দেখেছি। তারা সমঝোতার চেষ্টা করেছেন- এটা নিয়ে কি আপনার সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল? না। সেনাপ্রধানও কি এ বিষয়ে আপনাকে কোন দিকনির্দেশনা দেননি? মনে নেই। আমাদের মিডিয়া ডায়নামিক। টিভি খুললেই সব জানা যাচ্ছিল। এত সেনাকর্মকর্তা হতাহত হলো- তাতে সামরিক হ্যান্ডেলিং হয়নি? না, আমরা তো তেমন কোন নির্দেশই দিইনি। বৈঠক করা ছাড়া আপনারা কোন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেননি? সম্পূর্ণভাবে অসত্য। সত্য নয়। আপনার গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন? আমার সংস্থা এটার আওতার বাইরে। ব্যক্তিগতভাবে আপনার গোয়েন্দা সংস্থার কোন ব্যর্থতা চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন? আওতার বাইরে। বিদ্রোহের ঘটনার আগে অনেক বিডিআর সদস্য দাবি-দাওয়া নিয়ে মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন- জানতেন? এ মর্মে আমার কিছু জানা নেই। ঘটনা উত্তরকালে কিভাবে ঘটনা ঘটলো- তা বের করার চেষ্টা করেছিলেন? এটা করা হয়নি। কারণ, ফরমাল তদন্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অবস্থানের সময় ডিজিএফআই প্রধান, আরএসইউ প্রধান, সেনা গোয়েন্দা প্রধান- এদের কাউকে ডেকে আনা হয়েছিল? আমার মনে নেই। ২৫শে ফেব্রুয়ারির বৈঠকটি ছিল একটি আইওয়াশ, ডিএডি তৌহিদসহ ১২-১৪ জনের প্রতিনিধি দলের কেউ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল না। এজন্য পিলখানার ভেতরের সঠিক তথ্য আপনাদের জানাতে পারেনি? সত্য নয়। উনারা বলেছেন, ভেতরে সবাই ভাল আছে। এ বৈঠকের আগেই আপনারা পিলখানায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে- জানতেন তাই না? সত্য নয়। বিডিআর প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সম্পর্কে কংক্রিট কোন অভিযোগ না থাকাতে আপনারা তাদের সসম্মানে ফেরত দিয়েছেন। সরকারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বৈধতা দিতে মূল ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নির্দোষ কয়েক বিডিআর সদস্যকে মিডিয়ার সামনে এনে আপনারা তাদের বলির পাঁঠা বানিয়েছেন? না, সত্য নয়। আজকে যে সাক্ষ্য দিলেন তা সত্য গোপন করে দিলেন? সত্য নয়।
আদালত অঙ্গনের সার্বিক চিত্র: জেরা শেষে আদালতের বাইরে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে কথা বলেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর এডভোকেট আনিসুল হক। তিনি বলেন, সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ সমন পেয়েছেন। তিনি অসুস্থ থাকায় সময়-সুবিধামতো আদালতে আসবেন। সেনাপ্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধানকে আদালতে হাজির করা হবে না মর্মে আসামিপক্ষের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সময়ই সব বলে দেবে। ডিএডি হাবিবের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আদালতে জেরা করতে চাইলে তাতে বাদ সাধেন ডিএডি হাবিব। তিনি আদালতে নিজেই জেরা করার অনুমতি চান। আদালত বিষয়টি আইনসম্মত নয় জানালেও হট্টগোল করেন ডিএডি হাবিব। এতে আদালতে ১০ মিনিট ধরে অচলাবস্থা চলে। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি আসামিদের স্বজনেরা। রংপুর থেকে আসা ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়ানের সিপাহি কামালের স্ত্রী বেলা ২টায় জানান, তিনি তার স্বামীকে খাবার দিতে পারেননি। নৌবাহিনী প্রধানকে জেরা শেষে আরও দু’জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া ও জেরা করা হয়। বেলা সাড়ে চারটায় বিচারক আগামী বুধবার পর্যন্ত আদালত মূলতবি ঘোষণা করেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট