Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

টাকাসহ ধরা খেলেন ইসি কর্মকর্তা

অভিযোগের পর অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে অভিযানে নেমে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারই টাকাসহ হাতেনাতে ধরে ফেললেন এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে। গত সোমবার দুপুরের পর এ ঘটনা ঘটে পশ্চিম আগারগাঁওস্থ জেলা নির্বাচন অফিসে। সূত্র জানায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নানাভাবে তথ্য পাচ্ছিলেন জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য যেসব ব্যক্তি জেলা নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য আসেন তাদের কাছ থেকে নানা উপায়ে নগদ অর্থ আদায় করছে কমিশনের অসাধু কর্মকর্তারা। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার দুপুরের খাবার সেরে আচমকা কমিশন সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিককে সঙ্গে নিয়ে সিইসি বেরিয়ে পড়েন। ড্রাইভারকে সোজা যেতে বলেন জেলা নির্বাচন অফিসে। জেলা নির্বাচন অফিসের কেউ তেমন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিইসি গিয়ে হাজির হন মিরপুর থানা নির্বাচন অফিসারের কক্ষে। সিইসি দেখেন, থানা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুল হক টাকার বিনিময়ে দিচ্ছেন একজন ভোটারের প্রয়োজনীয় তথ্য। টাকাসহ ওই কর্মকর্তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তিনি। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, টাকা ছাড়া ভোটার হওয়া যাচ্ছে না। আবার যারা আগে থেকেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত তাদের কেউ ভোটার এলাকা পরিবর্তন চাইলে তাতেও চাওয়া হচ্ছে টাকা। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে তার নম্বর জানতে এ অফিসে এলে অর্থ ছাড়া কোন সহায়তা পাওয়া যায় না। এভাবে পদে পদে আগতদের কাছ থেকে আদায় করা হয় অর্থ। নাগরিকদের এমন সব অভিযোগে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন সিইসি। কমিশন সচিবালয়ে ফিরে সিইসি নির্দেশ দেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে। সিইসি’র নির্দেশ অনুযায়ী এরই মধ্যে একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই কাজ শুরু করবে ওই কমিটি। সূত্র জানায়, সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজ আরম্ভ হওয়ার পর ভোটার এলাকা পরিবর্তন, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন/পৌরসভা-থানা বা জেলা কোড জানার জন্য প্রতিদিন অজস্র লোক ঢাকা জেলা নির্বাচন অফিসে হাজির হচ্ছে। এ সুযোগে নগদ অর্থ কামাতে নেমে পড়েছেন এ অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সূত্র জানায়, মিরপুর থানা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুল হকের হাতেনাতে ধরা পড়াটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগতদের কাছ থেকে প্রতিদিন ন্যূনতম অর্ধ লাখ টাকা করে আদায় করেন। অফিস সময় শেষ হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্টরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। কেবল জেলা নির্বাচন অফিসই নয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে অবস্থিত জাতীয় পরিচয়পত্র সহায়তা প্রকল্প অফিসেও প্রতিটি সেবার বিপরীতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এখানে জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহে গড়ে ওঠা চক্রের বিরুদ্ধে আগতদের কাছ থেকে উচ্চ হারে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিদেশগামী বিশেষ করে কোরিয়াগামী নাগরিকদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবারহের বিনিময়ে আদায় করা হয় ৫ থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত টাকা। এসব অভিযোগ বহু পুরনো হলেও কমিশন সচিবালয় বা কমিশন এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট