Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জাপান

দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হলেও সার্বিক অর্থনীতির জন্য তা টেকসই হবে না বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা। একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের পরিবর্তে এককভাবে জাপানের অর্থায়ন করার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ডিকাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অবহিত করেন। পদ্মা সেতু নির্মাণে জাপান থাকবে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জাইকা এখনও তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যায়নি। কোন তদন্ত না করলেও এ প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ সরকার কিভাবে তা নিষ্পত্তি করে জাপান তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জাপান। একই সঙ্গে যে কোন প্রকল্পে দুর্নীতি প্রশ্নে সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণার বিষয়টিও তারা বিবেচনায় রাখছেন। বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের ওপরই জাপান সরকার পদ্মা সেতু ঋণ ছাড়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যেই পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সরে দাঁড়িয়েছে। তাদের পথ অনুসরণ করে একইভাবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবিও সরে গেছে। জাইকা ও আইডিবি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যে কোন সময় প্রতিষ্ঠান দু’টির পক্ষ থেকে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে সরকার ও বিশ্বব্যাংক যখন মুখোমুখি অবস্থানে তখন নিজস্ব অর্থায়নে ওই মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাংবাদিকরা রাষ্ট্রদূতের কাছে জাপানের অবস্থান জানতে চান। মধ্যাহ্নের এ আয়োজনে ঘুরে ফিরে পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গই আসে। জবাবে রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে বলেন, কোন বিবেচনায় কখনও জাপান বিশ্বব্যাংকের বিকল্প হবে না। যৌক্তিকভাবে এত বড় প্রকল্প দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তা কোন অবস্থাতেই টেকসই হবে না। ওই সেতু নির্মাণ করে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ যদি সরকারের থাকে তাহলে সেখানে বিরাট অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হবে। এ ভর্তুকি অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একটি দেশের পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন রাষ্ট্রদূত। ডিকাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাসের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদ। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক রিপোর্টাররা অংশ নেন। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আবারও আলোচনার পরামর্শ দিয়ে সাদোশিমা বলেন, জাপান মনে করে যেনতেন করে সেতু নির্মাণ সরকারের একমাত্র লক্ষ্য নয়, এখানে জনগণের কল্যাণ মুখ্য। বিশ্বব্যাংক ছাড়া এ প্রকল্প হলে ব্যয় বাড়বে। আর তা বাড়লে সুবিধা গ্রহণকারী জনগণের ওপর চাপ পড়বে। বিকল্প হিসেবে সরকার হয়তো ভর্তুকি বাড়াবে। আর এতেই অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাদোশিমা বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা বাংলাদেশকেই নিষ্পত্তি করতে হবে। তাছাড়া, দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)-এ বাংলাদেশের অবস্থা সুপারিশযোগ্য নয়। কোন বিনিয়োগকারী দেশ বা ব্যক্তি অস্থিরতা বা অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করি, আগামী বছরগুলোতে এই অস্থিরতা আরও কমে আসবে। বাংলাদেশের ওপর জাপানের আস্থা রয়েছে জানিয়ে সাদোশিমা বলেন, এ দেশে জাপানি বিনিয়োগ দিনে দিনে বাড়ছে। এ দেশের মানুষের পরিশ্রমী মানসিকতা এবং প্রযুক্তি প্রসারের চেষ্টার উদাহরণ হিসেবে ‘ধোলাই খাল’-এর প্রসঙ্গ টানেন রাষ্ট্রদূত। বলেন, ওই সব ছোট ছোট দোকানিদের দেখে আমি বাংলাদেশকে বুঝতে পারি। ঢাকায় মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রদূত কোন সময়সীমা না দিতে পারলেও শিগগিরই টোকিও থেকে ‘সুসংবাদ’ আসবে বলে আশ্বস্ত করেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদস্য পদ লাভের ব্যাপারে জাপানের সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনাধীন বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তবে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতা রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটা হলে সুফল পাওয়া যাবে, আরও বিনিয়োগ আসবে। আর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ‘সঠিক নিয়মে’ চলছে বলেও মত দেন তিনি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট