Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

যে কোন সময় বুয়েট ভিসি’র পদত্যাগ

যে কোন সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি অধ্যাপক এসএম নজরুল ইসলাম পদত্যাগ করতে  পারেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভিসি, প্রোভিসি ও কয়েকজন সিন্ডিকেট সদস্য। সূত্র জানায়, পূর্ব কোন আলোচনা ছাড়াই বুয়েট বন্ধের বিষয়টি পছন্দ করেননি প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভিসিকে জিজ্ঞেসও করেছেন। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও বুয়েট বন্ধের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ভিসি নিজেও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সব শুনেছেন, পরে হয়তো সিদ্ধান্ত নেবেন। সব অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানরা পদত্যাগ করায় ভিসি’র পদত্যাগ ছাড়া এখন আর কোন বিকল্প নেই। অন্যদিকে শিক্ষক সমিতি ১৬ দফা দাবি থেকে একদফা দাবিতে এসেছে। তাহলো ভিসি ও প্রোভিসির পদত্যাগ। সূত্র জানায়, দু’এক দিনের মধ্যেই ভিসি প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের সঙ্গে দেখা করবেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। তবে পরিস্থিতি জটিল হলে এর আগেই ভিসিকে সরিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার ড. আবু ছিদ্দিককে সাময়িক দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। সূত্র জানায়, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এমন কাউকে খোঁজা হচ্ছে। বুয়েটে বর্তমানে সরকার সমর্থিত প্রায় ১৫ জন সিনিয়র অধ্যাপক রয়েছেন। এর মধ্যে সাবেক ডিন ও হলের প্রাধ্যক্ষ রয়েছেন। সিনিয়র যে কোন একজনকে ভিসি দেয়া হলে মেনে নিবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম। শিক্ষক সমিতির সঙ্গে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগ দেয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ভিসি ও প্রোভিসির পদত্যাগসহ ১৬ দফা দাবিতে ৭ই এপ্রিল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা। প্রায় একমাস কর্মবিরতির পর ৪ঠা মে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যান। কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠন করে একটি রিপোর্ট দিলেও সমিতি তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের  ডাক দেয় মঙ্গলবার থেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ভিসি একক সিদ্ধান্তে বুয়েট বন্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু তাতে আন্দোলন থামেনি। ডিন ও বিভাগীয় প্রধানরা পদত্যাগ করায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। গতকাল শুক্রবারও ছিল ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলনে তীব্রতা। পুরো ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষকদের অবস্থান। খাওয়া ও ঘুম চলছে ক্যাম্পাসেই। ভিসি ও প্রোভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি। ভিসি অধ্যাপক এসএম নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেছেন। আমি তাই করছি। তিনি বলেন, আমি কোন অন্যায় করিনি। পদত্যাগের দাবি অযৌক্তিক। দু’একদিনের মধ্যেই তিনি চ্যান্সেলরের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানান।
ওদিকে ভিসি-প্রোভিসি পদত্যাগের আন্দোলনের চতুর্থ দিনেও উত্তাল রয়েছে। শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেছেন পদত্যাগ ভিন্ন আলোচনার কোন পথ নেই। সারা দিনই প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অবস্থান করেছেন। সেখানে তারা প্রতিবাদী গান, কবিতা ও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিয়ে সময় কাটিয়েছেন। বুয়েট অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের বর্তমান আন্দোলনে সমর্থন দেয়ায় নতুন করে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ার কথা ভাবছেন বুয়েটের শিক্ষক সমিতির নেতারা। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা আরও দেখব। এর পরেও যদি ভিসি পদত্যাগ না করেন, তাহলে বর্তমানের চেয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেব। অন্যদিকে বুয়েটের ভিসি-প্রোভিসি পদত্যাগ করলে নতুন করে সঙ্কটের আশঙ্কাও করছেন অনেক শিক্ষক। তাদের অভিমত, বর্তমান ভিসি সরে গেলেও নতুন করে তার তল্পিবাহক কাউকে নতুন ভিসি মনোনীত করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় পড়তে পারে দেশসেরা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে বুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আশা করি সরকার বর্তমান ভিসির পদত্যাগের পরে বিচার-বিবেচনা করে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নতুন ভিসি নিয়োগ দেবে। কোন দালালকে নিয়োগ দিয়ে বুয়েটের ধ্বংস ডেকে আনবে না। এদিকে বুয়েটের এ অস্থির পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের ভাষ্য, এভাবে দেশ সেরা প্রতিষ্ঠানটি যদি কারও গোলামির অথবা ষড়যন্ত্রের কারণে ধ্বংস হয়ে যায়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে শিক্ষাব্যবস্থা। বিশিষ্ট  শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে বুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমান সঙ্কট নিরসনে ভিসির পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা নেই। বুয়েটের ছুটি ঘোষণার প্রতিবাদ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, বুয়েটে ছুটি ঘোষণা করা ঠিক হয়নি। বৃহস্পতিবার বুয়েটের ভিসি ও প্রোভিসির সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বুয়েটের ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। সব মিলিয়ে দেশসেরা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুয়েট ভিসিকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও দাবি থেকে সরে যাওয়ার  কোন সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা তো দুই বছর ধরে তার সঙ্গে আলোচনা করে আসছি। তাতে কাজ হয়নি। এখন আর তার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ  নেই। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কেউ আলোচনা করতে চাইলে তারা রাজি আছেন বলে জানান এই শিক্ষক নেতা। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ভিসি ও প্রোভিসির পদত্যাগের পরেই এই আলোচনা সম্ভব, বলেন তিনি। তিনি মানবজমিনকে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আলোচনা করতে বলেছেন। আমরা এর আগেও প্রধানমন্ত্রীর কথায় আস্থা রেখেছিলাম। বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে ভিসি ও প্রোভিসির পদত্যাগের চেয়ে আর কোন শান্তিপূর্ণ সমাধান নেই। তিনি বলেন, ভিসিকে অনেক অনুরোধ করে বলেছি, আপনি নিয়ম মেনে চলুন। আমরা আপনাকে সহযোগিতা করে বুয়েটকে অনেক উপরে নিয়ে যাব। কিন্তু ভিসি তখন আমাদের কথায় আস্থা রাখলেও পরে আবার আগের মতোই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাই এখন আর আলোচনার পথ খোলা নেই। এদিকে বুয়েটের ভিসি এস এম নজরুল ইসলাম বলেছেন, আমি শিক্ষক সমিতির সঙ্গে আজকের মধ্যেই আলোচনা শুরু করব। আশা করি সেখান থেকে একটি ভাল ফল আসবে। তিনি আরও জানান, বুয়েটের সার্বিক পরিস্থিতি লিখিত আকারে চ্যান্সেলরের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ ও আমার বক্তব্য পাঠিয়েছি। তিনি বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তাই মেনে নেব। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যে কোন সময় আমাকে তিনি ডাকতে পারেন। এদিকে বুয়েটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রাত ৮টায় বৈঠক করেছেন বুয়েট শিক্ষক সমিতির নেতারা। সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা আগের কর্মসূচি বহাল রেখেছি। এ ছাড়া মিছিল ও মানববন্ধন করা হতে পারে। বুয়েট ভিসি ও প্রোভিসির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার হঠাৎ করে বুয়েট বন্ধ ঘোষণা করলে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট ক্যামপাস। ওই দিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক প্রতিবাদ সমাবেশ  থেকে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন শিক্ষ সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এ দাবিতে একযোগে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদে থাকা ২৪ জন শিক্ষক। এদিকে গতকাল বুয়েটের ভিসি-প্রোভিসি ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেছেন।
ধিক্কার ব্যানার: বুয়েটের  শিক্ষার্থীরা  গতকাল ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের পাশে কাউন্সিল ভবনের নিচ তলায় ধিক্কার ব্যানার টানিয়ে ভিসি ও প্রোভিসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য লিখে প্রতিবাদ করছেন। ব্যানারে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন- ভিসিকে নির্লজ্জ, বেহায়া বলে নির্লজ্জ বেহায়াদের অপমান করবেন না, ভিসি একটা অসুস্থ মানসিকতার লোক, বেহায়াপনাকে নতুন মাত্রা দিল ভিসি ও প্রোভিসি। গদি ধরে মারো টান ভিসি হবে খান খান, লাভ নাই, যতই ট্রাই করো যাইতে হইবো, অপসারণ চাই, অপসারণ ছাড়া উপায় নাই, জনাব ভিসি আপনার লজ্জা-শরম থাকাই উচিত ছিল, বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এইবার ঘুঘু তোমার বধিব পরাণ, মীরজাফর বিখ্যাত হয়েছিল বেঈমানির জন্য, ভিসি বিখ্যাত হলেন নির্লজ্জতার জন্য, আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, নতুন ভিসি দে, আমরা বর্তমান ভিসির কারণে বুয়েটের শিক্ষার্থী পরিচয় দিতে লজ্জা পাচ্ছি ইত্যাদি নানান ধরনের মন্তব্য।
ঢাবি শিক্ষকদের উদ্বেগ: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অচলাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষক উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতি দিয়েছেন। গতকাল এ বিবৃতিতে তারা বলেন, ভিসি ও প্রোভিসির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠসমূহের অন্যতম বুয়েটে সৃষ্ট অচলাবস্থায় বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ করে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম দলীয়করণ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ভিসি, প্রোভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকবৃন্দ। কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। যার ফলে বুয়েটের মতো একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমরা অবিলম্বে এ অবস্থার অবসান চাই। বিবৃতিদাতার হলেন- ঢাবির সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ, অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম, অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত, অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to যে কোন সময় বুয়েট ভিসি’র পদত্যাগ

  1. glisten sabit

    July 14, 2012 at 12:43 am

    hmmmmm……. kottin obostha