Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রোহিঙ্গাদের দেশান্তরে পাঠাতে বার্মিজ প্রেসিডেন্টের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান জাতিসংঘের

নেইপিদো, ১৩ জুলাই: মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) অঞ্চলের নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের দেশান্তরে পাঠাতে বার্মিজ প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন’র বক্তব্য প্রত্যাখান করেছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক দূত অ্যান্টনিও গুটেরেস সাংবাদিকদের বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা’র কাজ নয়। বরং জাতিসংঘ চায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হোক। খবর এপি’র।

 

এর আগে বার্মিজ প্রেসিডেন্ট দফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে সফররত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক দূত অ্যান্টনিও গুটেরেস’কে থেইন সেন বলেছেন, “আমরা আমাদের লোকেদের দায়িত্ব নেব। কিন্তু যারা নৃতাত্ত্বিকভাবে আমাদের লোক নয়, সেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করা অসম্ভব।” রোহিঙ্গাদের অন্য কোনো দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে তার সরকারের চিন্তার কথা জানান তিনি।

 

তবে তার পরপরই বার্তা সংস্থা এএফপি’কে দেয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, “শরণার্থী সৃষ্টি করার কাজ’ সংস্থাটি করে না।”

 

মিয়ানমারের এই বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন আরাকান অঞ্চলের নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দশকের পর দশক ধরে দেশটিতে তীব্র বর্ণবাদ ও রাষ্ট্রীয় দমননীতির শিকার হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র রাষ্ট্রীয় গণহত্যার শিকার কয়েক লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন দশকের পর দশক।

 

সর্বশেষ গত জুন মাসের শুরু থেকে সরকারি বিভিন্ন বাহিনী ও সংখ্যাগুরু রাখাইনদের যৌথ সহিংসতার শিকার হয়ে এ পর্যন্ত বেসরকারি হিসেবে কমপক্ষে তিনশত রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন। অসংখ্য রোহিঙ্গা শরণার্থী নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূলের অধিবাসীদের কাছে আশ্রয় পেয়েছেন সীমান্তরক্ষীদের চোখ এড়িয়ে। অবশ্য সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারের শরণার্থীদের সিংহভাগকেই আবার সাগরে ঠেলে দেয়া (পুশব্যাক) হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি নিজের ঢাকা সফরও বাতিল করেছেন থেইন সেন। দীর্ঘকাল ধরে বার্মিজ সামরিক শাসকরা যেভাবে রোহিঙ্গাদের ‘অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে শনাক্ত করে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে আসছেন, বৃহস্পতিবার সে সুরেই কথা বললেন সামরিক জান্তা’র সাবেক এই নেতা।

সর্বশেষ এ সহিংসতার ‘সমাধান’ বাতলে থেন সেইন বলেন, ‘দেশান্তর করা’ বা ‘জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়াই ছিল’একমাত্র সমাধান।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক দূতকে থেইন সেন বলেন, “যদি কোনো দেশ তাদের গ্রহণ করে তবে আমরা তাদের পাঠিয়ে দেব। এই বিষয়ে সমাধানে আমরা এমনটাই ভাবছি।

 

এর প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বৃহস্পতিবার রাতে বললেন, “এক দেশ থেকে আরেক দেশে পালিয়ে যাচ্ছেন এমন শরণার্থীদের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচির আয়োজন করে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা। সেটা একটা বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যেই করা হয়ে। এখানে সেরকম কোনো পরিস্থিতি নেই।”

 

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি নাগরিক হিসেবে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয়াই মিয়ানমারের সামনে একমাত্র সমাধান।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট