Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জরুরি অবস্থায় বিএনপির প্রতি নির্বাচন কমিশনের আচরণ ছিল ‘বাড়াবাড়ি’

 গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জরুরি অবস্থার সময় নির্বাচন কমিশন বিএনপি’র সাথে যে আচরণ করেছে, সেটা ‘বাড়াবাড়ি’ ছিল বলে স্বীকার করেছেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার অব: সাখাওয়াত হোসেন।

জাস্ট নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা তখন বিএনপির সাথে যা করেছি, সেটা ভুল করেছিলাম, এতটুকু বাড়াবাড়ি না করলেও পারতাম।’ তার মতে, পুরো কমিশনের অনভিজ্ঞতার কারণেই এ ধরনের আচরণ করা হয়েছিল।

তবে তিনি এ কথাও বলেন, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে তারা বিএনপির বিপড়্গে কোনও সিদ্ধানত্ম নেননি। হয়তো তখনকার কিছু সিদ্ধানত্ম বিএনপির বিপড়্গে চলে গিয়েছিল।

ওয়ান ইলেভেনের সময় নির্বাচন কমিশন বিএনপির প্রতি অবিচার করেছিল বলে মনে করেন কিনা ? এমন প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা বলেন।

উল্লেখ করা দরকার, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে বিএনপির কিছু সংখ্যক নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ভেতরে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে দাবি করেন। এর পরিপ্রেড়্গিতে বেগম জিয়া প্রয়াত বিএনপি নেতা খন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে বিএনপির মহাসচিব করেন। একই সময়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ চলছিল। ফলে বেগম জিয়ার মনোনীত মহাসচিবকেই সংলাপে আমন্ত্রণ জানানোর দাবি উঠলেও নির্বাচন কমিশন থেকে সংস্কারবাদীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ নিয়ে সে সময় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পুরো নির্বাচন কমিশন।

সাখাওয়াত হোসেন অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমাদের অনভিজ্ঞতা ছিল। সে সময়ে চারিদিকে ‘সংস্কার’ ‘সংস্কার’ আবহাওয়ার কারণে ভেবেছিলাম রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে একটু গণতন্ত্র আসুক। কিন্তু দল ভাঙ্গার কোনও বিষয় ছিল না। ভাঙার অভিযোগ একটু বেশি বাড়াবাড়ি। আসলে কেউ দল ভাঙ্গার প্রসত্মাব নিয়েও আসেনি কমিশনে। এক গ্রম্নপ আরেক গ্রম্নপকে শুধু ‘অবৈধ’ বলেছিল। কারাবন্দি অবস্থায় খালেদা জিয়া যে কমিটি ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, সেটাকে একটি গ্রুপ অবৈধ বলেছিল। তবে তারা সবাই বলেছিলেন, খালেদা জিয়াই তাদের একমাত্র নেতা। যদিও তার নিয়োগ নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। অর্থাৎ কয়েকটি নিয়োগ বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়নি বলে তাদের অভিযোগ ছিল।’

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আসলে সংস্কারবাদী বলে পরিচিত  গ্রুপকে বিএনপির নিবন্ধন দেওয়ার জন্য ডাকা হয়নি। শুধুমাত্র আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল’। তবে সেটা না ডাকাই ভাল ছিল বলে মনত্মব্য করেন তিনি।

ওই সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতাসহ অর্ধশতাধিক সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর করা চিঠি নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়ে খালেদা জিয়ার নিয়োগের বিরোধিতা করা হয়। তবে তারা কেউই খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের বিরোধিতা করেননি বলে সাখাওয়াত জানান। নির্বাচন কমিশনে মেয়াদকালে এতোকিছুর পরও তিনি বিএনপির সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন। একই সাথে বলেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারও তার মতো এই বিষয়টি নিয়ে দু:খিত।

২০০৭ সালের ১৪ ফেব্রম্নয়ারি থেকে ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। বর্তমানে তিনি ‘নির্বাচন কমিশনে ৫ বছর’ নামে একটি বই লিখছেন। যেখানে এসব কথা লেখা হচেছ বলেও তিনি জানান। আগামী ফেব্রম্নয়ারির একুশে বইমেলায় এটি প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট