Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আগাম নির্বাচনের চিন্তা

 রাজনৈতিক চাপ সামলানোর কৌশল হিসেবে আগাম নির্বাচন দিতে পারে সরকার। এ ধরনের প্রস্তুতিও চলছে ভেতর থেকে। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এমনই পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। আগামী বছরের শুরুর দিকেই আচমকা এই নির্বাচনের ঘোষণা আসতে পারে সরকারি মহল থেকে। বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকারি দল সাংগঠনিকভাবেও সুসংহত হওয়ার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে দলটি সহযোগী সংগঠনগুলোর কাউন্সিল প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চলতি বছরের শেষের দিকে আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র জানায়, আগাম নির্বাচন
ঘোষণা দিলে কোন কোন দল নির্বাচনে অংশ নেবে এবং কারা অংশ নেবে না তারও হিসাব-নিকাশ হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যে আগাম নির্বাচনে অংশ নেবে না- তা অনেকটাই নিশ্চিত। এ কারণে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং বিরোধী দলের একটি অংশকেও যাতে নির্বাচনে নেয়া যায় এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি এ নির্বাচনে অংশ নেবে। তারা আগাম নির্বাচনের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহী বলে সূত্র জানিয়েছে। এরশাদ মনে করছেন- বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন হলে তিনিই হবেন বিরোধী দলের নেতা। মহাজোট নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী দল আসুক আর না আসুক সময় মতো তিনি নির্বাচন চান।
এদিকে বিরোধী দলে বিভেদ এবং ভাঙনের একটি তৎপরতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের বিশেষ লোকজন কাজ করছে বলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে- বিরোধী দলে বিভেদ সৃষ্টি করে কিছু নেতাকর্মীদের একটি গ্রুপ করে তাদের নির্বাচনের পক্ষে নিয়ে যাওয়া এবং বিরোধী দলের হয়ে সংখ্যায় অল্প হলে কিছু লোক নির্বাচনে অংশ নিলে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে- এমনটি মাথায় নিয়েই সরকারি দল কাজ করছে। বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা সরকারের এই ফাঁদে পা দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেক নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে দলের বিরুদ্ধে কথা বলে বহিষ্কৃত হয়েছেন। আরেকজন প্রভাবশালী নেতার বিষয়ে নেতাকর্মীদের সন্দেহ রয়েছে প্রবল। এ কারণে তিনি এখন তার নির্বাচনী এলাকায় ঠিকমতো যাওয়া-আসা করতে পারছেন না। এছাড়া বিএনপি শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগকে সরকার বিভিন্ন মামলায় জড়ালেও ওই নেতা এ পর্যন্ত সরকারের দেয়া মামলা-হামলার শিকার হননি বলে সরকারের সঙ্গে তার অদৃশ্য যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে করেন কেউ কেউ। একই সঙ্গে দলের মধ্যম সারির কিছু নেতাকেও আলাদা বলয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল যেসব দল নিয়ে ১৮ দলীয় জোট করেছে তাদের নিয়েও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। এর মধ্যে ১৮ দলের বড় শরিক দল জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং মামলায় বিপর্যস্ত। মাঠের রাজনীতিতে অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এ দলটির সঙ্গেও সরকারের একটি অংশের যোগাযোগ হচ্ছে এমন আলোচনাও রয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে ছাড় দেয়া এবং সামনে বিনা বাধায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে কৌশলে আলোচনা করছে দলটি। এক্ষেত্রে সরকার চাইছে পাকিস্তান ভিত্তিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যেসব নেতা জড়িত ছিলেন তাদের ছাড়া বাংলাদেশ ভিত্তিক নতুন জামায়াত গঠন করতে। আর এই ‘বাংলাদেশ জামায়াতে’র নেতৃত্ব দেবেন এই প্রজন্মের নেতারা। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে গোয়েন্দা তৎপরতাও রয়েছে। এ কারণেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যেসব নেতা কারাগারে রয়েছেন, তাদের বিষয়ে সংগঠনে দলে মিশ্র অবস্থান রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতের সমর্থনপুষ্ট ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরে গত বছর বিভক্তি দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে এই ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখনও মিশ্র অবস্থান রয়েছে। সরকারের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও এ বিষয়ে জামায়াত ও শিবিরের তরুণ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন- যারা মুক্তিযুদ্ধের পরের প্রজন্ম তারা যেন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ না নেন।
এদিকে আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে তৃতীয় একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে জোরেশোরে। এ নিয়ে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনাও হচ্ছে ভেতরে ভেতরে। এর মধ্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আসম আবদুর রব, ব্যারিস্টার মঈনুল  হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এই জোট গঠন প্রক্রিয়ায় কাজ করছেন বলে জানা গেছে। বাসদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সিপিবি আলাদা বাম রাজনৈতিক জোট গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে- তৃতীয় রাজনৈতিক জোট হলে তারা সেখানেই যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে। তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আলোচনা থাকলেও রাজনৈতিক লাভালাভের হিসেবে তা এতদিন আলোর মুখ দেখেনি। এবার নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের জোট গঠনে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে সরকার আগাম নির্বাচনের চিন্তা করলে সরকারি দলেরই অনেক নেতা বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন পদ্ধতি ঠিক করা এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করার পক্ষে। এজন্য বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা। তবে তারা প্রকাশ্যে এই মতামত দিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরাগভাজন হতে চাইছেন না।
সূত্র জানায়, সরকার আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছে বলেই তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী না। সংলাপে দেশের ভেতরে সুশীল সমাজের চাপ, কূটনীতিক পরামর্শ এবং বন্ধু রাষ্ট্রদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের চাপ থাকলেও সরকার তা এখনই আমলে নিচ্ছে না। তবে সরকার আগাম নির্বাচনের দিকে যাবে নাকি সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনের পথ পরিষ্কার করবে- তা অনেকটা নির্ভর করছে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পরবর্তী সময়ে বিরোধী দল কি ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি দেয় তার ওপর।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to আগাম নির্বাচনের চিন্তা

  1. israfil hossain

    July 12, 2012 at 6:18 pm

    ata korla awamileague e postabe