Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নবীগঞ্জে সাংবাদিকের ২০ টুকরা লাশ

নবীগঞ্জের তরুণ সাংবাদিক জুনাইদ আহমদ জুনেদ (৩৩)-এর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ। গতকাল সকালে রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা ২০ টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ- নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ টুকরা টুকরা করে শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে ফেলে রাখা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকালে সাংবাদিক জুনাইদ আহমদ পেশাগত কাজে হবিগঞ্জ যান। রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেননি। রাত ১১টায় স্থানীয় মেম্বার মারাজ মিয়ার সঙ্গে তার শেষবারের মতো মোবাইলে কথা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা-সিলেট রেলপথের শায়েস্তাগঞ্জে মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রামগামী উদয়ন ট্রেনের চালক শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশকে জানান, একজন ব্যক্তির লাশ রেললাইনে কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। লাশের প্যান্টের পকেটে সমকালের নবীগঞ্জ প্রতিনিধি এমএ আহমদ আজাদের ভিজিটিং কার্ড পাওয়া যায়। গতকাল সকাল ৮টায় তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে সাংবাদিক জুনাঈদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন ছুটে আসেন। জুনাঈদ আহমদ উপজেলার সাতাইহাল গ্রামের দক্ষিণ কুর্শা এলাকার ইসমাইল মিয়ার পুত্র এবং নবীগঞ্জ থেকে প্রকাশিত বিবিয়ানা পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার। এছাড়াও তিনি উপজেলা যুবদলের শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক এবং স্থানীয় গজনাইপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার সাহিদুর রহমান জানান, রাত ১২টা ১০ মিনিটে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের প্রায় ৩শ’ গজ পূর্বে শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেটের কাছে পড়ে থাকার খবরটি সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন ট্রেনের চালক তাকে জানিয়েছেন। রেললাইনের নিচে কাটা লাশের টুকরাগুলো দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। সকাল ৯টায় রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক শাহ আলম লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন। স্থানীয় মেম্বার ও জুনাঈদের ঘনিষ্ঠ মারাজ মিয়া বলেন, আমার সঙ্গে রাত ১১টায় জুনাঈদের আলাপ হয়েছে। সে আমাকে বলেছে, পেশাগত কাজে হবিগঞ্জে রয়েছি। এখন লাশের আলামত দেখে মনে হচ্ছে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গ্রামের একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ নিয়ে থানায় জিডি করা হয়। জুনাঈদের পিতা ইসমাঈল মিয়া বলেন, আমার ছেলেকে পূর্ববিরোধের জের ধরে খুন করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। চাঞ্চল্যকর ঘটনার মোটিভ উদঘাটনে পুলিশ নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। নিহত জুনাঈদ ৪ ভাই ৪ বোনের মধ্যে ৪র্থ। তিনি অবিবাহিত। ওদিকে জুনাঈদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীরা ছুটে যান নিহতের বাড়ি ও হাসপাতাল মর্গে। সেখানে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌর মেয়র আলহাজ জিকে গউছ, জেলা যুবদল সভাপতি আজিজুর রহমান কাজল, সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াছ, জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মহসিন শিকদার, নবীগঞ্জ উপজেলা যুবদল সভাপতি এটিএম সালাম, সেক্রেটারি সোহেল আহমদ রিপন প্রমুখ। এ সময় জিকে গউছ বলেন, সাহসী যুবনেতা জুনাঈদের নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন নেই। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। উপজেলা যুবদল এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। গতকাল রাতে জানাজা শেষে মরহুমের লাশ দাফন করা হয়। এতে সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের বিপুল সংখ্যক মুসল্লি জানাজায় যোগ দেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট