Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মজিনার শঙ্কা সত্যি হচ্ছে?

 ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার হুঁশিয়ারি কি সত্যে পরিণত হতে চলেছে? কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে তৈরী পোশাক রপ্তানির টার্গেট পূরণ হয়নি। এই ব্যর্থতার কোন কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ক্লিন ক্লথ’ নিয়ে বহুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে নানা টেনশন চলছিল। আমিনুল ইসলাম মার্কিন টিভি এবিসি’র জন্য একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশে সহায়তা দিয়েছিলেন। এরপর তিনি রহস্যজনকভাবে খুন হন। তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত অনুষ্ঠানে সরকারের নির্লিপ্ততা এবং আগে থেকে চলে আসা নেতিবাচকতার কারণে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনা আনুষ্ঠানিকতায় তাদের আমদানি আদেশ কমিয়ে দিতে পারেন। সামনের অর্থবছরে এটা আরও স্পষ্ট হতে পারে। তবে সরকার যথারীতি বলেছে, বিশ্বমন্দার কারণেই এটা ঘটেছে।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণচুক্তি বাতিলের আগেই দাতারা নীরবে সাহায্যের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। কিন্তু সরকার তা স্বীকার করেনি। তারাও লুকিয়ে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ব্যাংকে তারল্য সঙ্কট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। আর দেশের  মানুষকে  এ বিষয়ে কখনও বিশ্ববাজারের মন্দা, কখনও তেলের দাম বৃদ্ধি ইত্যাদি অজুহাত দেখানো হয় বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
গতকালের রয়টার্সের এক রিপোর্টে বলেছে, বাংলাদেশের গার্মেন্ট রপ্তানি ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে সদ্যসমাপ্ত জুনে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু এটা সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। রয়টার্স অবশ্য এর কারণ চিহ্নিত করে  বলেছে, পাশ্চাত্যের উল্লেখযোগ্য বাজারগুলোতে বাংলাদেশী পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরকারি টার্গেটের পতন ঘটলো।
বাংলাদেশের গার্মেন্ট রপ্তানির প্রায় ৭০ ভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারনির্ভর। সেখানে চাহিদা বাড়বে ধরে নিয়েই ২৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার টার্গেট করা হয়েছিল। কিন্তু এবারে তা আট ভাগেরও বেশি মার খেয়েছে। এক বছর আগের ১৯ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্ট রপ্তানির চেয়ে এবারে সাড়ে ছয় ভাগ বেড়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রধান শুভাশিস বোসের দাবি, ‘আমাদের পোশাক তৈরির ক্ষমতা ক্রমবর্ধমান কিন্তু বিশ্ববাজারের মন্দার কারণে চাহিদা কমে গেছে।’  গত ১লা জুলাইয়ে শুরু হওয়া নতুন আর্থিক বছরে জাপান, চীন, রাশিয়া, ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো নতুন বাজারে বাংলাদেশ ঢুকতে পারবে আশা করে এবারে ২৮ বিলিয়ন ডলারের টার্গেট ধরা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দীর্ঘকাল চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পেরে উঠছিল না। কিন্তু চীনা শ্রমিকদের জীবনমান যথেষ্ট উন্নত হওয়ার কারণে সেখানে আর আগের মতো সস্তায় পোশাক তৈরি করা যায় না। সে কারণে ক্রেতারা বাংলাদেশের মতো দেশে ঝুঁকছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজিনা বলেন, বাংলাদেশের সামনে অসাধারণ এক সম্ভাবনা জ্বলজ্বল করছে। এরকমের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারে। কিন্তু এরকম একটি সময়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। তারা শ্রম বাজারের এমন সব শর্ত পূরণে গড়িমসি করছে যা বড় বড় ক্রেতাদের বিচলিত করছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হেরিটেজ ফাউন্ডেশনে তিনি আমেরিকান সংস্থা সমর্থিত ট্রেড ইউনিয়ন নেতা আমিনুল হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সেক্রেটারি হিলারি ক্লিনটন আমিনুলের বিষয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। গভীর রাতে মার্কিন ক্রেতা সংগঠনের প্রধান নির্বাহী তাকে ফোন করেন। এফবিসিসিআই সভাপতি ডিনারে ডেকে আন্তর্জাতিক বৃহৎ ক্রেতা প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাকে কথা বলার সুযোগ করে দেন। তারা বিরাজমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
একটি মানবাধিকার সংগঠনের একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা, যিনি আমিনুল হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছেন, তিনি দাবি করেন যে, এই হত্যারহস্য ভেদে সরকারি সংস্থাগুলোর অসহযোগিতা স্পষ্ট চোখে পড়ে। গত ৯ই এপ্রিল নিউ ইয়র্ক টাইমস এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলেছে, আমিনুল দু’বছর আগে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন। এবার তার লাশ মিলেছে।
গত মাসের গোড়ায় ড্যান মজিনা ঢাকায় সতর্ক করেন যে, আমিনুলের হত্যাকাণ্ডে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণে রপ্তানি হ্রাস পেতে পারে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to মজিনার শঙ্কা সত্যি হচ্ছে?

  1. Md. Shakawat Hossain Joney

    July 11, 2012 at 1:39 pm

    This is now our Golden Fiber of Bangladesh so we should support our garments industry, our worker, our buyer & keep better relation with our foreign frnd.