Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নির্ধারিত ছুটির আগেই বুয়েট বন্ধ ঘোষণা

 শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতির হুমকিতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট। মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামি তিনদিনের মধ্যে উপাচার্য ও সহ উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষক সমিতি শনিবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষনা দেয়ার পরই বন্ধ করে দেয়া হলো প্রতিষ্ঠানটি। তবে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে কূটকৌশল বলছে শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করে ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, বুয়েটকে মূলত বন্ধ ঘোষনা করা হয়নি। ঈদ ও রোজার জন্য আগামি ১লা আগস্ট থেকে নির্ধারিত ছুটি ছিল। আমরা সেই ছুটিটাকেই একটু এগিয়ে এনেছি। আর সেই ছুটি শুরু হবে বুধবার থেকে। চলবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত।  আর তাই এসময়ে সব শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

ভিসি আরো জানান, শিক্ষকদের মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে একদল শিক্ষার্থী অংশ নেয়। আরেক দল শিক্ষার্থী এর বিরোধিতা করে। শিক্ষকদের কর্মসূচিতে ছাত্রদের অংশ নেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত সাধারণ শিক্ষার্থি ও শিক্ষকরা। তারা বলছেন, কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্ত বুয়েটের জন্য ভাল ফল বয়ে আনবে না।

আন্দোলনরত শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুজিবুর রহমান জাস্ট নিউজকে বলেন,আন্দোলন দমাতেই মূলত বুয়েটকে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিসি প্রভিসি দমনের আন্দোলনে মাঠে নেমেছেন। তাই ভিসি এবার অন্য কৌশল নিয়েছেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এটা কর্তৃপক্ষের কূটকৌশল। নিজেদের পদ রক্ষার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনায় বুধবার সাধারণ সভা ডেকেছে বুয়েটের শিক্ষক সমিতি। সাধারণ সভা শেষে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

এস এম নজরুল ইসলাম ও সহ-উপাচার্য হাবিবুর রহমানের পদত্যাগ দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে মৌনমিছিল ও সমাবেশ করে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বুয়েট শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষকরা। সমাবেশ থেকে বুয়েটের অচলাবস্থা সমাধানে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। সমাবেশে বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, নিজেদের স্বার্থেই উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য অনিয়ম করেছেন। বুয়েটের অস্তিত্ব রক্ষা এবং সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য তাই তাঁদের পদত্যাগ করতে হবে।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি মাকসুদ হেলালী, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বুয়েটের বর্তমান উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘন করে ভূতাপেক্ষ নিয়োগ দেওয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদ বুয়েট শাখার সভাপতি ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার কামাল উদ্দীনকে রেজিস্ট্রার করার উদ্যোগ, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন পদে দলীয়করণসহ ১৬টি অভিযোগ এনে গত ৭ এপ্রিল থেকে টানা ২৮ দিন কর্মবিরতি পালন করে শিক্ষক সমিতি। সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করে তারা। এরপর দুই মাস পার হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। প্রায় দেড় মাস বন্ধ ঘোষণা করায় দেশের শীর্ষস্থানীয় এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট