Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘দেশের টাকাতেই পদ্মাসেতু, বিদেশিরা চাইলে আসতে পারে’

দেশের ভেতর থেকে সংগ্রহ করা অর্থেই পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করবে সরকার। আর তা শুরু হবে অর্থবছর থেকেই। সেতু নির্মাণ বাবদ মোট খরচের বেশীর ভাগ অর্থ এডিপি বরাদ্দ থেকে নেয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন বাজেট থেকে আমরা সাশ্রয় করত পারব। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাদের কৃচ্ছ সাধন করতে হবে।” একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “আমরা নিজেরাই সেতুর কাজ শুরু করতে পারি। বিদেশিরা যদি আসতে চায়, আসতে পারে।”

রোববার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের শেষদিনে বক্তৃতা করতে গিয়ে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি দেশের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরেন সংসদে।

সংসদ নেতা জানান, সরকার পদ্মাসেতুর সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরেছে ২২ হাজার ৫৫৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। আর এই টাকা ব্যয় করা হবে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত। এরমধ্যে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩ হাজার ১৯৭ কোটি ৯৭ লাখ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭ হাজার ৮৬৮ কোটি ১৮ লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৫ লাখ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে খরচ করা হবে ৩ হাজার ৭০০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এরমধ্যে সেতুর মূলকাঠামো নির্মাণে খরচ হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা, নদী শাসনে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা, জাজিরা পয়েন্টে সংযোগ সড়ক নির্মাণে ১ হাজার ৩৫০ কোটি, মাওয়া পয়েন্টে সংযোগ সড়ক নির্মাণে ৩১০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেতুর জন্য ভূমি অধি নেয়া বাবদ ইতোমধ্যে ১৫শ’ কোটি খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।

সেতুতে অর্থায়নে ৭৫ কোটি ডলারের সার্বভৌম (সভরেন) বন্ড ছাড়া এবং সারচার্জ আরোপ করা হতে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। পাশাপাশি চলতি বাজেটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ৩ হাজার কোটি টাকা থেকেও পদ্মা প্রকল্পে অর্থায়নের ইঙ্গিত দেন তিনি।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করার পর থেকে দেশীয় অর্থে পদ্মাসেতু নির্মাণের কথা বলে আসছিলেন সরকারি দলের নেতারা। আর এর ধারাবাহিকতায় এই রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্ব ব্যাংকের সিদ্ধান্তে উষ্মা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা কোনো টাকাই দেয়নি, দুর্নীতির প্রশ্ন আসে কীভাবে?”

বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন সময়ে দেয়া প্রেসক্রিপশনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা আমাদের গিনিপিগ করে রাখতে চায়। দুর্বল করে রাখতে চায়। তারা চায় আমরা যেন সারাক্ষণ হাত পেতে থাকি। আমরা তাদের কাছ থেকে ঋণ নেই ঠিকই, কিন্তু সেই ঋণ সুদে-আসলে ফেরত দিয়ে থাকি, ভিক্ষা নিই না।”

“তাদের প্রেসক্রিপশনে আদমজী পাটকল বন্ধ করে পাটশিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের পরামর্শে চলতে গিয়ে আমাদের রেল প্রায় মৃত। বিআরটিসি বন্ধ করে দিতে বলেছিল, টিসিবি বন্ধ করতে বলেছিল। তাদের পরামর্শে শিল্প প্রতিষ্ঠান ঢালাও বেসরকারিকরণ করা হয়েছিল,”— এসবই আমাদের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে দাবি করে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক। ২৯০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এডিবি, ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক, আইডিবি ও জাইকারও ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিলের পর পদ্মাসেতু প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় এডিবিও। তবে আইডিবি ও জাইকা এখনো তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট