Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিরোধী দলের বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাজেট অধিবেশন

 প্রধান বিরোধী দল বিএনপির টানা বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নবম জাতীয় সংসদের ১৩ তম অধিবেশন শেষ হয়েছে। এটি ছিলো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের চতুর্থ বাজেট অধিবেশন। বিকেল সোয়া ৫টায় অধিবেশন শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এবং স্পিকার অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদের সমাপনী ভাষণের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শেষ হয়। সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার বলেন, সংসদ প্রাণবন্ত হয়ে উঠে বিতর্কের মাধ্যমে। আর বিতর্কের মাধ্যমেই সংসদ বিভিন্ন বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। সংসদীয় বিতর্কে বিরোধী দলই মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। এটা দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের প্রধান বিরোধী দল এবারের বাজেট অধিবেশনে যোগ দেয়নি। প্রধান বিরোধী দল বাজেট আলোচনায় অংশ নিলে হয়তোবা বাজেটের ছোটখাট ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো আরো বেশী তুলে ধরতে পারতো। এতে দেশবাসী উপকৃত হতো। তিনি আরো বলেন, জাতীয় বাজেটে জনকল্যাণে যে সব কর্মসূচী, লক্ষ্যমাত্রা ও আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক সম্পর্কে প্রধান বিরোধী দলের মূল্যবান মতামত ও প্রস্তাব থেকে জাতি বঞ্চিত হয়েছে। তবে আমি আশা করব খুব শীঘ্রই প্রধান বিরোধী দল সংসদে যোগ দিয়ে তাদের উপর জনগণের দেয়া দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধান বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে গত ২৭ মে শুরু হয়েছিল বাজেট অধিবেশন। এদিকে শেষ হওয়া বাজেট অধিবেশনে বেশকিছু ইস্যুতে দফায় দফায় উত্তপ্ত ছিল। বিশেষ করে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির স্পিকারকে কটাক্ষ করে কিছু মন্তব্য করলে সংসদে ওই বিচারপতিকে অপসারণের দাবি তোলা হয়। এ নিয়ে বেশকিছু দিন আলোচনার শীর্ষে ছিল ইস্যুটি। তবে স্পিকার তাঁর রুলিংয়ের মাধ্যমে জুডিশিয়াল কাউন্সিল করে ওই বিচারপতিকে অপসারণের দাবি নাকচ করে দিয়ে বিষয়টি সন্তোষজনক সমাধানের দায়িত্ব দেন প্রধান বিচারপতির কাছে।  এছাড়া বিশ্ব সাহিত্যে কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বক্তব্যে একটি গণমাধ্যমে ভুল করে প্রকাশিত হয়। ওই ভুল রিপোর্ট নিয়ে কয়েকজন এমপি আবু সায়ীদের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করলে স্পিকার সংসদের পক্ষ থেকে আবু সায়ীদের প্রতি দুঃখপ্রকাশ করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেয়া সকল অসংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জের নির্দেশ দেন।  এদিকে অধিবেশনে গত ৭ জুন এক লাখ ৯১ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়।  ২৮ জুন তা পাস হয়। অধিবেশনে ১৩ টি বিল পাস হয়েছে। ২০১২-২০১৩ বাজেটের উপর সাধারন আলোচনা বক্তব্য রাখেন মোট ২১৩ জন। ৪৬ ঘন্টা ৩০মিনিট আলোচনা হয় বাজেটের ওপর। সরকারী দল আওয়ামী লীগের ১৮০ জন ২২ ঘন্টা ৫৯ মিনিট, জাতীয় পাটির ১৭ জন ২ ঘন্টা ৩৩ মিনিট, ওয়ার্কাস পাটির ২জন ৩৩ মিনিট, জাসদের ৩ জন ৫৬ মিনিট ও স্বত্বন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিম আলোচনায় অংশ নেন। এবারের বাজেট অধিবেশনে মোট কার্যদিবস ছিল ২৯টি। বাজেট পাশ ছাড়া এ অধিবেশনে ৩১টি সরকারি বিলের মধ্যে ১৫টি বিল পাস হয়। পাশাপাশি কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধিতে ৫৩৭টি নোটিশ জমা পড়ে। এরমধ্যে ২৭টি নোটিশ গৃহন এবং গৃহীত নোটিশের মধ্যে ২১টি নোটিশ সংসদের বৈঠকে আলোচিত হয়। দুই মিনিটের আলোচিত নোটিশের সংখ্যা ছিলো ১৮০টি। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর জন্য সর্বমোট ১৮১টি প্রশ্ন ছিলো। এর মধ্যে তিনি সম্পুরকসহ ৬৮টি প্রশ্নের উত্তর দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য প্রাপ্ত মোট ৩৫০৩টি প্রশ্নের মধ্যে ২১৪৮টি প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রীরা।
পদ্মা সেতু নির্মাণে স্পিকারের প্রস্তাব
এদিকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ সংগ্রহ করতে ভিন্ন রকমের প্রস্তাব দিয়েছেন স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। তিনি মোবাইল ফোনের প্রতি কল থেকে ২৫ পয়সা সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের সমাপনী পর্ব চলাকালে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়ণে সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ করবেন বলে ঘোষণা দেন। আমি তাঁর এ ঘোষণার সঙ্গে একমত। এর আগে বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ গ্রাহকদের সুবিধার্থে মোবাইল ফোনের ওপর থেকে প্রস্তাবিত ভ্যাট কমানোর জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। অর্থমন্ত্রী তা অনুমোদন করেছেন। তবে আমি বলতে চাই, মোবাইল ফোন কল ব্যবহার করেই আমরা পদ্মা সেতুর জন্য বিপুল পরিমান অর্থ সংগ্রহ করতে পারি। গ্রাহকদের প্রতি কল থেকে পদ্মা সেতুর জন্য ২৫ পয়সা করে কেটে নেয়া যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমি স্পিকারের পদে থাকলেও আমি ভুলে যাই না যে আমিও একজন সাধারণ সংসদ সদস্য। সে হিসেবেই আমি দায়িত্ব পালন করি। আমি মনে করি, প্রত্যেক সংসদ সদস্য মোবাইল ফোন থেকে সেতু নির্মাণে অর্থ আদায়ে জনমত তৈরি করতে পারেন। তারা প্রত্যেকে এ নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় প্রচার চালালে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট