Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কুলি থেকে টপটেরর

’৯৬ সালে সদরঘাটে কুলির কাজ নেয় শহীদ। সে সময় তার নাম ছিল কুলি শহীদ। পরে লঞ্চে ডাকাতি করতে গিয়েই তার নাম হয়ে যায়  ডাকাত শহীদ। মাত্র ২ বছর পর ১৯৯৮ সালেই ডাকাত শহীদ পুরনো ঢাকার ১ নম্বর সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়। রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ড দাপিয়ে  বেড়াতে শুরু করে তার সহযোগীরা। বিদেশে পলাতক থাকলেও তার কথায় বাঘে হরিণে এক ঘাটে জল খেতো। প্রতি মাসে লাখ টাকার চাঁদা উঠতো তার নামে। ডাকাত শহীদ পরিচয়ে ফোন পেলে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দিন কাটাতেন। দাবিকৃত চাঁদা না দিলে জীবনের প্রদীপ নিভিয়ে দিতো ডাকাতের সহযোগীরা। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তার ছিল ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।
মোবাইল সাম্রাজ্য: ডাকাত শহীদ তার অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়েছে মোবাইল ফোনে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও আর্থিকভাবে সচ্ছল মানুষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতো তার সহযোগীরা। বিদেশে বসে ডাকাত শহীদ সে সব নম্বরে ফোন করতো। মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতো। ঝামেলা এড়াতে অনেকেই তার আবদার মেটাতেন। পুলিশকে জানালে রহস্যজনকভাবে খবর পেতেন শহীদ। এরপর আর ওই ব্যক্তির রেহাই মিলতো না। এভাবেই আদায়কৃত লাখ টাকার চাঁদা হুন্ডির মাধ্যমে পৌঁছে যেতো তার কাছে।
বিলাসী জীবন: ডাকাত শহীদের চেহারার বর্ণনা কেউ দিতে পারেনি। তাকে দেখেছেন এমন প্রত্যক্ষদর্শীও পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাতের অনেক সহযোগী জানিয়েছেন শহীদ ছিল লম্বা ও ধবধবে ফর্সা। চালচলন ছিল কেতাদুরস্ত। সাহেবি। বিদেশী ব্র্যান্ডের দামি পোশাক পরতো তিনি। ব্যবহার করতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ। ডাকাত শহীদ স্যাটেলাইট ফোনও ব্যবহার করতো। বিদেশে থাকলেও রাজধানী থাকতো তার হাতের মুঠোয়। দেশের নামী টেক্সটাইল কোম্পানি জনি প্রিন্ট শাড়ির ৮০ শতাংশ শেয়ার ডাকাত শহীদের। তাছাড়া ঢাকায় তার রয়েছে অন্তত ১০টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। ডাকাতের সহযোগীরা ব্যবহার করে হাল ফ্যাশনের গাড়ি। তবে চেহারা না চেনায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে একাধিকবার ডাকাত শহীদ দেশে এসেছে। নানা কাজ শেষে আবার ফিরে গেছেন নিরাপদে। তার হাতে নিহত হয়েছে অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি। কিন্তু তাকে ধরতে বেগ পেতে হয়েছে র‌্যাব-পুলিশকে। তার পিতার নাম মৃত শামসুল হক ভূঁইয়া। পেশায় তিনি ছিলেন কৃষক। র‌্যাবের হিসাব অনুযায়ী ডাকাত শহীদের বয়স ৪২ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল তার যুবক বয়সের একটি অস্পষ্ট ছবি। সর্বশেষ সে জনসমক্ষে আসে ২০০৫ সালে ধলপুর ধোলাইখাল এলাকায়। ১৯৯৯ সালে একটি ডাকাতি মামলায় মুন্সীগঞ্জ কারাগারে তিন মাস বন্দি থাকার পর মুক্তি পায়। পরে সে কুয়েত চলে যায়। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে শহীদ। ওই সময় তার বিরুদ্ধে ট্রলার ও লঞ্চ ডাকাতির একাধিক মামলা হয়। ডাকাত শহীদের উত্থান ১৯৯৮ সালের শেষের দিকে। ছাত্রদল নেতা সগীর আহমেদ, যুবলীগ নেতা শিমুল এবং কাউন্সিলর আহাম্মদ হোসেন ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রেমকৃষ্ণ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডাকাতের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। চাঁদা না দেয়ায় শহীদ বাহিনীর হাতে খুন হয়েছেন পুরান ঢাকার বাবুবাজারের চাল ব্যবসায়ী আফিল উদ্দিন, তাঁতীবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী রাজীব চন্দ্র দাস, আবুল কালাম আজাদ ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ উল্লাহসহ প্রায় দুই ডজন ব্যবসায়ী। খুন, চাঁদাবাজি ছাড়াও পুরান ঢাকার নয়াবাজার এবং মিটফোর্ড এলাকাজুড়ে রয়েছে বিশাল মাদক বাণিজ্য। সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী ন্যূনতম দুই লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত চাঁদা ডাকাত শহীদের দাবি অনুযায়ী তার কাছে পৌঁছে যেতো। মাসে ৮ থেকে ১০ জায়গা থেকে গড়ে পাঁচ লাখ টাকা করে চাঁদা পেতো তার ক্যাশিয়ার বিদ্যুৎ। তার মূল কাজ ছিল আদায়কৃত চাঁদার হিসাব রাখা। ডাকাতের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা পরিচালনা করা। শহীদ নিয়োগ করেছিল অনেক আইনজীবীকেও। এসব আইনজীবী তার মামলাগুলো বছরে পর বছর ঝুলিয়ে রাখতে সহায়তা করতো।
১২ বিয়ে: ১৯৯৪ সালে কমলা নামে এক মহিলাকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে ডাকাত শহীদ। ওই সংসারের রনি ও জনি নামে দুই সন্তান রয়েছে। পরে সে রিনা নামে অপর এক মহিলাকে বিয়ে করলে সংসার অশান্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে কমলাকে ডিভোর্স দেয়। ডাকাত শহীদকে ভাল পথে ফিরিয়ে আনতে বহু চেষ্টা করেছে কমলা। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ভারতে তার একটি বাড়ি ররেছে। তিন মাস আগে অল্পবয়সী এক নেপালি মেয়েকে বিয়ে করে শহীদ। নেপালে থাকে তার ওই স্ত্রী। কলকাতা থেকে মাঝে-মধ্যে নেপাল যেতো সে। কলকাতায় পানিতে ডুবে তার এক সন্তান মারা যায়। এক মেয়ে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে মারা গেছে বলে জানা গেছে।
হাল ধরতে পারে যারা: ডাকাত শহীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে পুলিশের খাতায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলো সাজু, হানিফ, পলাশ, মামুন, মেড্ডা, পাতা রাসেল, সজল, কোমল, বাবু, গ্রীল দেলোয়ার, রাজীব, ধোলাইখাল ও দক্ষিণ মহিশুন্দি এলাকার আমান, বিদ্যুৎ, হকার্স লীগের লিটন, সোহেল, জুয়েল ওরফে ভাগিনা জুয়েল, দাদা লিটন, পাভেল, রানা, সোহেল, মোক্তার, হিন্দু রনি, সিরাজ, ফরহাদ ওরফে ফারদি, বিদ্যুৎ, কাউসার, জামাই শাহীন, উত্তম ও এরফান। এদেরই কেউ একজন হাল ধরতে পারে ডাকাত শহীদের আন্ডারওয়ার্ল্ড সাম্রাজ্যের।  র‌্যাব ১০-এর পরিচালক লে. কর্নেল আমির মজিদ খান বলেন, ডাকাত শহীদকে পাকড়াও করতে একাধিক টিম কাজ করেছে। যতবারই তাকে ধরতে অপারেশন চালানো হয়েছিল ততবারই সে ফসকে গেছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট