Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দারিদ্র্যই পাক ক্রিকেটে দুর্নীতির কারণ

ইসলামাবাদ, ৪ জুলাই: পাকিস্তানের ক্রিকেট অনেক মেধাবী ক্রিকেটারদের উপস্থিতি বরাবরই লক্ষণীয়। কিন্তু  লেগ স্পিনার দানিশ কানেরিয়াকে  স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে আজীবন নিষিদ্ধ করার পর প্রশ্ন উঠেছে যে, এত মেধা থাকার পরও কেন দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ছে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা।

লর্ডস টেস্টে ২০১০ সালের স্পট ফিক্সিংয়ের কলঙ্ক এখনো পাকিস্তানিদের শরীর থেকে ফিকে হয়ে যায়নি। সাবেক টেস্ট অধিনায়ক সালমান বাট, পেসার মোহাম্মদ আমির এবং মোহাম্মদ আসিফ সেই ঘটনায় দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন। লন্ডনের সাউদওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাভোগও করেছেন এরা। এই কলঙ্ক তিলক মুছে যাওয়ার আগেই কানেরিয়ার ঘটনা অবশ্যই পাকিস্তান ক্রিকেট অঙ্গনের জন্য বিরাট এক ধাক্কা।
পাকিস্তানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে বলেই মনে করা হয়। ব্যবসায়ীরা পাকিস্তানের প্রধান শত্রু হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকেন দুর্নীতিকেই। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ফাইল পুনরায় চালু করার জন্য আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে তার পদ হারিয়েছেন।

অকার্যকর সরকার, ভয়াবহ লোডশেডিং, তালেবান সন্ত্রাস এবং আল কায়েদার শক্তিশালী ঘাঁটির দেশ পাকিস্তান। এতসব নেতিবাচক উপসর্গের মাঝে কেবলমাত্র ক্রিকেটই সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম।

করাচির ফেডারেল উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের প্রধান তৌসিফ খান বলেছেন, “আমাদের রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খুবই সাধারণ বিষয়।  কিন্তু মাত্র ১৯ বছর বয়সী আমিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ হজম করাটা একটু কঠিন। সমাজে অব্যাহত দুর্নীতির প্রমাণই এটা।”

যারা মেধাবী তাদের জন্য  দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেট। বিশেষ করে রাজধানী ইসলামাবাদের বাইরে দারিদ্রপীড়িত একটা অঞ্চল থেকে উঠে আসা আমীরের মতো ক্রিকেটারদের জন্য বিষয়টা হাতে স্বর্গ পাওয়া।

ক্রিকেটের বাণিজ্যীকিকরণের সময় থেকে, বিশেষ করে ১৯৭০-এর দশকের শেষদিক থেকে ক্রিকেটাররা কোটি কোটি ডলার উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। সেই সাথে বেড়েছে দুর্নীতির সুযোগও।

সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক মুশতাক মুহাম্মদ বলেছেন,  “পাকিস্তানের অধিকাংশ ক্রিকেটার এসেছে দরিদ্র পরিবার থেকে । দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, চারপাশে অনেক বেশি টাকা উড়তে দেখে ওদের মাথা ঠিক থাকে না। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, ইনজামামউল হক, সাঈদ আনোয়ার এবং মুশতাক আহম্মেদকে ২০০০ সালে জরিমানা এবং সেলিম মালিক ও আতাউর রেহমানের ওপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরও এই কালো ছায়া থেকে ক্রিকেটারদের বের করে আনতে না পারার জন্য অনেকেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) দায়ী করে থাকে।”

সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক এবং হালে টিভি ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজাও এসব তারকা ক্রিকেটারের সাথে খেলেছেন। তিনি এসব দুর্নীতির পেছনে অবকাঠামোর অভাবকে দায়ী করেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে রমিজ বলেছেন, “বর্তমান অবকাঠামো খেলোয়াড়দেরকে প্রতিনিধিত্বের বিষয়টা শেখাতে পারছে না। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ জড়িত। ভালোমন্দ বোঝার জন্য শিক্ষার অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়কে দুর্নীতির জন্য দায়ী করা যায়।”

ক্রিকেটারদের সামাজিকভাবে এতটাই মহান ভাবা হয় যে, তারা দুর্নীতির সাথে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টা ভক্তরা মেনে নিতে চান না। গত  এপ্রিলে আদালত অবমাননার দায়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর গদিচ্যুত হওয়ার পরও লন্ডনের কারাগার থেকে সাজাভোগ শেষে সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান বাট দেশে ফিরে যখন উষ্ণ অভ্যর্থনা পান তখন বিষয়টাকে অনেক বেশি দৃষ্টিকটু মনে হয়। রাজা বলেছেন, অনেক সময়ই ক্রিকেটাররা কিছু না জানার কথা বলে পার পেয়ে যান। এ ধরনের কথা বলে কোনো শাস্তি না পেয়ে পার হয়ে  যাওয়া  ক্রিকেটারের সংখ্যা কম নয়।

নিজের সন্তান দোষী জানা সত্ত্বেও পাকিস্তানি পিতামাতারা যে সন্তানের পক্ষ নিয়ে লড়াই করতে নামেন, এটাকেও জাতির অবক্ষয়ের কারণ বলে মনে করছেন রাজা। তিনি বলেছেন, সুনাগরিক হিসেবে একজনের গড়ে ওঠার পেছনে পিতামাতার ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

২০১০ সালের স্পট ফিক্সিংয়ের ঘটনা পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকেই সংকটের মুখে ফেলেছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকেই বাদ দেয়ার দাবি উঠেছিল।

সে সময়ই পিসিবি ক্রিকেট থেকে স্পট ফিক্সিং এবং অন্যান্য দুর্নীতির মূল উৎপাটনে শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার বিষয় ভাবতে শুরু করে।

কিন্তু পাকিস্তানের দৈনিক পত্রিকাগুলোর অধিকাংশ শিরোনামই যখন থাকে দুর্নীতির বিষয়ে, তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা এর বিষবাষ্প থেকে বেরিয়ে আসতে কতটা সক্ষম হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট