Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিশ্বব্যাংকই আসল দুর্নীতিবাজ: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ৪ জুলাই: পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনোভাবেই বিশ্বব্যাংককে বিশ্বাস করা যাবে না। যারা একটি পয়সা দেয়নি, তারা কিভাবে আমাদের দুর্নীতিবাজ বলে, এমনকি বিএনপি সরকারের সময়ও তারা যোগাযোগ খাতে কোনো অর্থ দেয়নি। তারাই আসল দুর্নীতিবাজ। ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল ও ফোর্বস ম্যাগাজিন এ দুটি সংবাদপত্র পড়লেই বুঝতে পারবেন দুর্নীতি কোথায় আছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ফজলুল আজিমের সংশ্লিষ্ট এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘‘পদ্মা সেতুতে একটি টাকা ছাড় দেয়নি। কিভাবে দুর্নীতি হয়। একটি বিশেষ পরামর্শক কোম্পানিকে কাজ দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংক বারবার চিঠি দিয়েছে, চাপ দিয়েছে। পরে দেখেছে ওই প্রতিষ্ঠান একটি ভুয়া। ব্রিজ করার জন্য আমাদের করা কমিটি তাদের চিঠির প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। পরে তারাও জেনেছে ওই পরামর্শক কোম্পানিটি ভুয়া।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘পদ্মা সেতু  নিয়ে আমি আরো বিস্তারিত বক্তব্য দেব। ইনশাল্লাহ আমরা এ সেতু করবো। আমরা গরিব হতে পারি, তবে কাজ বন্ধ থাকবে না। কাজ করব। মালয়েশিয়া আমাদের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্য দেশের প্রস্তাবও আমরা নেব। প্রয়োজনে পিপিপিতে কাজ করা হবে। আমরা যদি বিশ্ব মন্দার মধ্য দিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা ধরে রাখতে পারি, তবে পদ্মা ব্রিজও করতে পারবো।”

তিনি বলেন, “মঙ্গলবার আমরা আমাদের সেতু বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, কিভাবে নিজস্ব অর্থায়নে কাজটি শুরু করা যায়।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘যারা আমার দেশকে, দেশের মানুষকে অপমান করেছে, তারা এ পর্যন্ত একটি প্রমাণ দিতে পারেনি। আমি দেশবাসীকে বলতে চাই আমার পরিবার বলতে বোঝায় আমি আমার বোন ও পাঁচটি সন্তান। আমার পরিবারের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি কিছু চায় তবে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন। আমরা কমিশন খাওয়া পরিবার নই।’’

দুর্নীতি করলে কেউ থাকতে পারবে না, এ বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মন্ত্রী যদি দোষী হন সঙ্গে সঙ্গে তিনি চলে যাবেন। তাছাড়া মন্ত্রিসভা পরিবর্তন তো কোনো ব্যাপার না। যেকোনো সময় রিশাপল করা যাবে। আমাদের ২৩৩ জন এমপি, যে কাউকে মন্ত্রী করতে পারি।’’

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ কি সারাজীবন অন্যের সাহায্য চেয়ে আসবে? বাংলাদেশ কি নিজের পায়ে দাঁড়াবে না? সংসদ সদস্যদের মাথায় সব সময়ই সাহায্যের কথা আসে।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘বিএনপির আমলে দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক জ্বালানি, বিদ্যুৎখাতে সহায়তা বন্ধ করে রেখেছে। যোগাযোগের সাতটি প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। এর কারণে ঢাকা- ময়মনসিংহ হাইওয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এসে নিজেদের অর্থায়নে কাজ শুরু করি। তাদের জন্য বসে থেকে লাভ নেই।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ২০০১-০৬ ক্ষমতাকালে আমরা পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করতে চেয়েছি। কিন্তু বিএনপি এসে তা বন্ধ করে দেয়। আমরা এবার এসে আবার শুরু করলে বিশ্বব্যাংক নিজ থেকেই অর্থ দিতে চাইল। কনসোর্টিয়াম হলো। হঠাৎ করে তারা বলল, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। তাই তারা অর্থ বন্ধ করে দিল। যেখানে একটি টাকা তারা ছাড় দেয়নি, সেখানে দুর্নীতি কিভাবে হয়? আমরা নিজেদের অর্থ দিয়ে এ সেতুর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ শুরু করি। এ খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেখানে হয়নি।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসাবেল এদেশে আসল এবং আমাকে দুটি চিঠি দিল দুর্নীতি হয়েছে বলে। আমি তাকে বললাম, এটা আমার সরকারের নয়, বিএনপি সরকারের। আর যে যোগাযোগ মন্ত্রীর নাম ছিল সে চিঠি আমার নয়। বিএনপি সরকারের।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাংকের স্বচ্ছ তদন্তের জন্য আমি মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগমন্ত্রী ও সচিবকে সরিয়ে দেই। কিন্তু যোগাযোগ খাতে বিশ্বব্যাংক সাতটি প্রকল্পের অর্থ প্রত্যাহার করে নিলেও বিএনপি তাদের মন্ত্রীকে সরায়নি। কিন্তু আমরা সরিয়েছি। পদ্মা ব্রিজের বিশ্বব্যাংক অর্থ বন্ধ করেছে। ঠিক আছে, তারা এটা করতে পারে। অন্যরা তা করতে পারে। কিন্তু পদ্মা ব্রিজ করার জন্য আমার ষোল কোটি লোক আছে। ৮০ লাখ লোক দেশের বাইরে থাকে। আমরা এ ব্রিজ করব।”

প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ কিছু দাবি করলে শেখ হাসিনার ফোন নম্বরে ও ইমেইলে তা তাকে জানানোর জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট