Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিডিআর বিদ্রোহের ‘পক্ষপাতদুষ্ট গণবিচার’ স্থগিত চায় এইচআরডব্লিউ

ঢাকা, ৪ জুলাই: বুধবার সকালে ঢাকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দেখিয়েছে, বাংলাদেশে ২০০৯-এর বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যায় সন্দেভাজনদের ওপর রাষ্ট্রীয় হেফাজতে প্রচণ্ড নির্যাতন করা হয়েছে- যাতে কমপক্ষে ৪৭ জন মারা গেছেন। বিশেষ ‘সামরিক ট্রাইব্যুনাল’-এ এই বিদ্রোহ ও হত্যার বিচারকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট গণবিচার’ হিসেবে দেখিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘কুখ্যাত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এই নির্যাতনগুলোর অনেকগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।’’

 

মানবাধিকার সংস্থাটির নিজস্ব গবেষকদলের করা ৫৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যেই ভয়ানক সহিংসতায় ৭৪ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন- তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু সে লক্ষে নির্যাতন ও পক্ষপাতদুষ্ট বিচারের আশ্রয় নিলে চলবে না। ‘ভয় আমাকে ছাড়ে না’: ২০০৯’র বিডিআর বিদ্রোহের পর হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন ও পক্ষপাতদুষ্ট বিচার’’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বিডিআর বিদ্রোহে সন্দেহভাজনদের ওপর নির্যাতন তদন্তে একটি ‘স্বাধীন টাস্কফোর্স’ ও ‘গণবিচার’ স্থগিতের দাবি করা হয়েছে।

 

বুধবার সকালে রাজধানীর ব্রাক সেন্টার ইন-এ প্রতিবেদনটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা উপলক্ষে এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ‘‘বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যায় দায়ীদের শনাক্ত করতে এবং পুরো বিচার প্রক্রিয়াসহ সরকারের সার্বিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে প্রচণ্ড নির্যাতন ও পক্ষপাতদুষ্ট বিচারের প্রামাণ্য দলিল হাজির করছে প্রতিবেদনটি।” অনুষ্ঠানে সংস্থাটির গবেষক তেজশ্রি থাপা বক্তৃতা করেন, তার নেতৃত্বেই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, এতে বিদ্রোহের একটি বিস্তারিত বর্ণনাসহ সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের ওপর সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের ঘটনাগুলো প্রামাণ্য আকারে তুলে ধরা হয়েছে। নির্যাতিত ও নিহতদের পরিবার সদস্য, দুই পক্ষের আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ মোট ৬০ জনের সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে। নির্যাতিতদের ‘হাতের ও পায়ের পাতায় মারা’, ‘বৈদ্যুতিক শক দেয়া’ ও ‘সিলিং থেকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা’সহ নানা ধরনের নির্যাতনের বর্ণনা দেয়া হয়েছে এতে।

 

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন নিহত হন। বাহিনীটির সারা দেশে স্থাপিত বিশেষ আদালতগুলো ওই বিদ্রোহ ও হত্যার পৃথক পৃথক মামলায় কয়েক হাজার বিডিআর সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে, ‘‘সংস্থাটি এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন যে, এই বিচারগুলোকে গণবিচার হিসেবে চালানো হচ্ছে যেখানে আটশ’রও বেশি অভিযুক্তের বিচার একসাথে করা হচ্ছে। সামরিক ট্রাইব্যুনালগুলোতে গণবিচারের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় চারহাজার বিডিআর সদস্যকে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিশেষভাবে গঠিত বেসামরিক আদালতে (বিশেষ আদালত) হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগের বিচারে এমনকি ৮৪৭ জন লোকের বিরুদ্ধে একটিমাত্র মামলায় শুনানি করা হয়েছে। যেই মামলাটিতে অন্তর্ভুক্ত অনেক অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধানও আছে।’’

 

অবিলম্বে এই বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত দাবি করে বুধবার প্রতিবেদনটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ব্রাড অ্যাডামস বললেন, “বিদ্রোহে নিহত ও নির্যাতিত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারগুলোকে অবশ্যই ন্যায্য বিচার দিতে হবে। কিন্তু পৃথক ও সুর্নিদিষ্ট মামলা না করে এভাবে সন্দেহভাজনদের নির্যাতন ও পক্ষপাতদুষ্ট বিচার করলে তা কোনো পক্ষকেই ন্যায়বিচার পেতে সাহায্য করবে না এবং বিদ্রোহ ও হত্যার প্রকৃত কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট