Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নষ্ট হচ্ছে চন্দ্রিমার পরিবেশ

বোঝা যায়, ওরা স্কুল পালানো। কাঁধে বইয়ের ব্যাগ। স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোশাকও গায়ে। এসেছে যুগলভাবে। কারও কারও খানিকটা লজ্জা, ভয়ের ছাপও চোখেমুখে। তবুও ঘুরছে, হৈহুল্লোড় করছে। আবার কেউ কেউ গুটিগুটি বসে আছে ঝোপঝাড় লতাপাতার আড়ালে। বেপরোয়া প্রেমিক যুগলও আছে। তাদের লজ্জাহীন আচরণে বিব্রত হতে হয় অনেককে। দেখা মিললো বেশ ক’জন ভাসমান যৌনকর্মীরও। ঠোঁটে লাল লিপিস্টিক মেখে অপেক্ষায় আছে খদ্দেরের। হকারের ছদ্মাবরণে দাপটে আছে বখাটেদের সংঘবদ্ধ চক্র। পাশাপাশি ঢিলেঢালা পুলিশি ব্যবস্থা। পায়ে পায়ে বিব্রত হতে হচ্ছে নির্মল বিনোদনের জন্য আসা মানুষদের, এমনটাই দেখা গেল চন্দ্রিমা উদ্যান ঘুরে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিট। চন্দ্রিমা উদ্যান যেন নিভৃত কোন গাঁ। অঝোর বৃষ্টি হচ্ছিলো। চন্দ্রিমায় নিয়মিত চা ফেরি করা ত্রিশোর্ধ্ব আমির উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি কমলেই জমে ওঠবে কর্মব্যস্ত ঢাকার এই বিনোদন কেন্দ্র। ব্যস্ত ঢাকা শহরের মানুষগুলো খানিকটা শান্তির পরশ নিতে ছুটে আসেন চন্দ্রিমা উদ্যানে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এই বিনোদন কেন্দ্রটির  সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পার্কটিকে ঘিরে অসামাজিক কার্যকলাপ, বখাটেদের অবাধ যাতায়াত, পুলিশ-আনসারদের দায়িত্বে অবহেলা, হকার আর ফেরিওয়ালাদের উৎপাত ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে চন্দ্রিমা উদ্যানকে এখন আর নিরাপদ আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র বলা যায় না কিছুতেই। সরজমিন উদ্যানটিতে ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে সর্বত্র। উদ্যানের চারদিকে ঘন ঘাসের জঙ্গল। দেখে মনে হয় পরিষ্কার হয় না দীর্ঘদিন। পরিচ্ছন্ন কর্মীও চোখে পড়েনি তেমনভাবে। পার্কের চটপটিওয়ালা ওয়াসকুরুনি পাগলা বলেন এই ঘন জঙ্গলই অসামাজিক কার্যক্রমের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। সন্ধ্যার পর চলে মাদকসেবীদের মাদক গ্রহণের প্রতিযোগিতা আর পতিতাদের খদ্দেরের অপেক্ষা তো আছেই। অভিযোগ রয়েছে উদ্যানে দায়িত্বরত পুলিশ ও উদ্যানের পাশেই থাকা আনসার ক্যাম্পের আনসাররা এবং স্থানীয় বখাটেদের যোগসাজশে এসব অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে। এ বিষয়ে কথা বললে উদ্যানে দায়িত্ব পালনরত আগারগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল আলীম ও আনসার সদস্য আ. আজাদ অভিযোগ কিছুটা স্বীকার করে তারা দাবি করেন রাজধানী ঢাকার অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রের চাইতে চন্দ্রিমা উদ্যানের পরিবেশ এখন আগের চেয়ে অনেক ভাল। তাদের দাবি মাদকদ্রব্য ও মাদকসেবীদের উৎপাত এখন আর নেই বললেই চলে। আর সন্ধ্যার পর উদ্যানে প্রবেশ নিষেধ করা সত্ত্বেও অনেকেই তা মানতে চান না। চন্দ্রিমা উদ্যান ঘুরে ও উদ্যানে কর্মরত বিভিন্ন পেশার লোকজনের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান উদ্যানের আশপাশে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, তেজগাঁও কলেজ, পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রছাত্রীদের আনাগোনা এখানে বেশি। তবে অন্যান্য শ্রেণী- পেশার মানুষও এখানে আসেন। তাদের একই কথা উদ্যানের পরিবেশ দিনকে দিন নষ্ট হচ্ছে।
বিশেষ করে যেখানেই প্রেমিক যুগল সেখানেই তাদের উৎপাত। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও নবদম্পতি আসিফ ও তাহসিনা দুপুরে উদ্যানে ঘুরতে এসে পড়লেন বখাটেদের খপ্পরে। ঠাণ্ডা পানীয় ক্যান বাজার মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে বখাটেরা যারপরনাই উৎপাত করছে এই নবদম্পতিকে। কিন্তু তারা কিনতে নারাজ। তারপরও বখাটেরা তাদের দাবি থেকে সরে না এসে নানানভাবে উৎপাত ও টিপ্পনি কাটছে তাদের। শেষে আরেক বখাটের হস্তক্ষেপে প্রায় একই দামে কিনতে হলো তাদের। বোঝা গেল আগন্তুক তাদেরই দলনেতা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চন্দ্রিমা উদ্যানও লোকারণ্য। প্রেমিক যুগলের দেখা মিলছে এখানে  ওখানে। তারা যেন কিছুটা বেপরোয়া। স্কুল পালিয়ে কাঁধে ব্যাগ ঝোলানো ছাত্রছাত্রীরাও আসছে। তাদের চোখে-মুখে যেন ভয় আর অপরাধবোধের লজ্জা। ইন্দিরা রোডের বাসিন্দা গৃহবধূ  রোজিনা খানম বললেন, বাচ্চার বায়না মেটাতে স্কুল ছুটির পর চন্দ্রিমা উদ্যানে এসে পরিবেশ দেখে ও ছেলের কৌতূহল হাজার প্রশ্নের জবাব দিতে আমি নিজেই বিব্রতবোধ করছি। মনে হচ্ছে, এই সময়ে এখানে না আসাটাই ভাল ছিল।
চন্দ্রিমা উদ্যানের ফেরিওয়ালা জামালকে প্রশ্ন করে জানা গেল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্যানে আগন্তুকদের সঙ্গে বখাটেদের বচসা লেগেই থাকে। কখনও কখনও তা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। পুলিশ-আনসারও বখাটেদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার না নেয়ায় চন্দ্রিমা উদ্যানের বিনোদনের খোঁজে বেড়াতে আসা লোকজনের সংখ্যা কমছে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো পার্কটিতে পরিচ্ছন্নতার খুব অভাব। এখানে ওখানে কাদা পানি মাখামাখি, সেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট কিছু বেঞ্চ ছাড়া রোদ বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য নেই কোন ছাউনি, আর পাবলিক টয়লেটের অবস্থা খুবই নোংরা। নোটিশ বোর্ডে লেখা নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামে প্রাকৃতিক কর্ম সারতে হচ্ছে উদ্যানে আসা দর্শনার্থীদের। পার্কে ঘুরতে আসা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের সঙ্গে কথা বললে তারা এ উদ্যানটিকে রক্ষায় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করে এর সৌন্দর্য রক্ষা ও চন্দ্রিমা উদ্যানে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট