Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শুধু ইয়াবা নয়, অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবেও ফাঁসাতে চেয়েছিল র‌্যাব

 শুধু ইয়াবা নয়, অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবেও আমাকে ফাঁসাতে চেয়েছিল র‌্যাব। মামলাও করেছিল সাভার থানায়। মানবজমিন-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন সাভারের পোশাক ব্যবসায়ী এনামুল হক ওরফে আখের আলী (৬২)। তিনি বলেন, আমি সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি। কারণ, মামলা দেয়ার এক ঘণ্টা পরেই তা প্রত্যাহার করে নেয় র‌্যাব। কি কারণে প্রত্যাহার করেছিল তা বলতে পারবো না। গত ১৫ই মে সাভার থানাধীন সিআরপি রোডের ৮৮/২ নম্বর নিজের বাড়ির সামনে থেকে র‌্যাব তুলে নিয়ে যায়। নবীনগরের ক্যাম্পে নিয়ে তার সামনেই সাজানো মামলার অভিযোগ টাইপ করতে থাকেন কয়েকজন র‌্যাব কর্মকর্তা। এ সময় তারা আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলেন, কয়টি অস্ত্র পাওয়া গেছে। মামলায় ইয়াবার সংখ্যা কত হবে। এনামুল বলেন, আমি সিগারেটও খাই না। ইয়াবাও চিনি না।
তিনি বলেন, আমার একজন ঘনিষ্ঠ ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা সন্তাসীদের গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সিআরপিতে। ওইদিন দুপুরে আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। ডা. আবদুর রাজ্জাকের কক্ষে বসে তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। এসময় একজন ভাড়াটে পরিচয়ে আমার মোবাইল নম্বরে ফোন করেন। তিনি আমার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। বলেন, আপনার রুম ভাড়া নেবো। আমি আপনার বাড়ির সামনে অপেক্ষা করছি। ঘন্টা খানেক পর বাড়ির সামনে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি হ্যান্ডশেক করে। এ কথা সেকথা বলে বাসার দিকে না গিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ দেখি আমার চারপাশে ১২-১৪ জন লোক। সবাই সিভিল পোশাকে। আমাকে ঘিরে ধরে বলে, আমরা র‌্যাবের লোক। নবীনগর ক্যাম্প থেকে এসেছি। আপনাকে ক্যাম্পে যেতে হবে। তখন জোহরের নামাজ চলছিল। ডগরমোড়া মসজিদ সংলগ্ন রাস্তা থেকে তুলে নেয়ার সময় মসজিদের মুসল্লিরা পুরো ঘটনা দেখেন। আশপাশের দোকানদাররাও দেখেন। এসময় আমার স্ত্রী খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে চান, ‘কেন উনাকে নিয়ে যাচ্ছেন?’ তখন র‌্যাব জানায়, এক থেকে দেড় ঘন্টা পরে থানায় উনাকে পাবেন। র‌্যাব গাড়িতে তুলে উপস্থিত লোকজনকে বলেন, উনার কাছে অবৈধ মালামাল পাওয়া গেছে। মালামাল সম্পর্কে এলাকাবাসী র‌্যাবের কাছে জানতে চাইলে র‌্যাব নিজেদের ব্যাগ থেকে ইয়াবার প্যাকেট বের করে দেখায়। বলে, এগুলো পাওয়া গেছে। এ কথা বিশ্বাস করেননি উপস্থিত এলাকাবাসী ও মসজিদের মুসল্লিরা। এসময় র‌্যাব লিখিত সাক্ষ্য নেয়ার চেষ্টা বরেও ব্যর্থ হয়। এতে তারা কিছুটা বিব্রত হয়। এরপরপরই তারা গাড়িতে বসিয়ে নবীনগর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এনামুল বলেন, আমি তাদের কাছে বার বার আমার অপরাধ জানতে চাইলে বলেন,স্যার ডেকেছে। এসময় তারা আমার পকেটে হাত ঢোকানোর চেষ্টা করে। আমি নিজেই পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেই। ক্যাম্পে নিয়ে ঠিকানা নেয়ার পর তারা আমার ডাক নাম জানতে চায়। আমি তখনই বুঝতে পারি, আমার গ্রামের বাড়ি বরিশালের স্থানীয় প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে ফাসানোর চেষ্টা করছে। একেএম ওয়াহিদুল হক সজল নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা আমার প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের মালামাল ও মেসার্স ধানসিড়ি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কারখানার মেশিনারিজ আত্মসাৎ করেছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। পরে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। এছাড়া সাভারের নিজের বসত বাড়ির জমি নিয়ে তার পরিচিতদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। আমার আশঙ্কা এসব কারণেই তিনি র‌্যাব দিয়ে আমাকে সে শায়েস্তা করতে চেয়েছিল। র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডারের বরাত দিয়ে এস আই মনির এনামুল হককে বলেন, স্যার একজন নিরীহ লোক। এ ব্যাপারে কিছুই জানে না। ঘটনা ঘটিয়েছে ওয়ারেন্ট অফিসার রফিকসহ কয়েকজন। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এনামুল আরও বলেন, আমাকে ক্যাম্পে নিয়ে র‌্যাব কাকুতি মিনতি করে। যেন বিষয়টি লিখিত আকারে কোথাও না দেই। তাদের কথামতো অভিযোগ দেইনি। বিষয়টি আমার পরিচিত এক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে জানাই। তিনিই হয়তো আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। অন্যথায় আমাকে ঘায়েল করে ফেলতো। সাভার থানা পুলিশ জানায়, এনামুল হকের কাছ থেকে ইয়াবা পাওয়া গেছে মর্মে র‌্যাব থানায় অভিযোগ দিয়েছিল । মামলা নম্বর ছিল ৪২। ইয়াবাসহ তাকে থানায় সোপর্দ করে এ অভিযোগ দেয়ার প্রায় এক ঘন্টা পরেই র‌্যাব ৪-এর শীর্ষ কর্মকর্তা ফের ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। মামলার সব তথ্যপ্রমাণ নিয়ে যায়। একই সঙ্গে মুছে ফেলে মামলার রেকর্ড নম্বর। পরে র‌্যাবের ওই টিম থানা পুলিশের হেফাজত থেকে এনামুল হককে নিয়ে ফের ক্যাম্পে যায়। সাভার থানার একজন এসআই বলেন, এনামুলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আবার তা প্রত্যাহারের ঘটনাটি বিরল। ইতিপূর্বে র‌্যাব কারও বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এভাবে প্রত্যাহার করেনি।
সমপ্রতি এহেন সাজানো অভিযানে সদস্যদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় র‌্যাব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনামাও জারি করেছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান স্বাক্ষরিত তিন পাতার ওই নির্দেশনামায় নিরপরাধকে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে  দেয়ার উদ্দেশে অভিযান পরিচালনার কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়। যেগুলো র‌্যাব তদন্ত করে সাজানোর প্রমাণ পেয়েছে। ওই প্রতিবেদনে  ইয়াবা দিয়ে ব্যবসায়ীকে ফাঁসিয়ে  দেয়ার ঘটনাকে সাজানো উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধে ব্যাংকারের পক্ষ নিয়ে ‘শায়েস্তা করার জন্য’ মাত্র ১০টি ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া হয় সাভারের জমি ব্যবসায়ী এনামুল হককে। ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি সাজিয়ে অভিযানটি পরিচালনা করেন র‌্যাব-৪ সাভার ক্যাম্পের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এবিএম জাহিদুল করিম। এর আগের আরও দুটি সাজানো ঘটনার বর্ণনাও  দেয়া হয়েছে ওই নির্দেশনামায়। ২০১১ সালের ২১শে মে রাত ১২টার দিকে মেজর মো. কামরুজ্জামানের  নেতৃত্বে র‌্যাব-৬ এর একটি দল সাতক্ষীরার জনৈক সফিকুল ইসলামের বাড়িতে অস্ত্র রেখে তাকে ফাঁসানোর  চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘটনাটি প্রকাশ  পেয়ে যায়। এছাড়া, চলতি বছরের ২০শে এপ্রিল র‌্যাব-৭ এর সিপিসি-১, চট্টগ্রামের পতেঙ্গার একটি দল ইয়াবা দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে ধরা পড়ে যায়। র‌্যাবের নির্দেশনামায় বলা হয়, ‘র‌্যাব সদস্য কর্তৃক সজ্ঞানে বা তথ্যদাতা কর্তৃক প্রতারণামূলকভাবে এমন অভিযানে অংশগ্রহণ র‌্যাবের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে। উক্ত ঘটনা পরবর্তীতে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে ব্যাপক আকারে প্রকাশ পায়। যার ফলশ্রুতিতে র‌্যাবের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট