Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

স্পেনের মাথায় হ্যাটট্রিক শিরোপার মুকুট

ইউরোর ফাইনালে ইতালিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০০৮ সাল থেকে ২০১২, এই চার বছরে একটি বিশ্বকাপ ও পরপর দু’বার ইউরো কাপ জয়ের মাধ্যমে হ্যাটট্রিক শিরোপার মুকুট মাথায় তোলার অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে স্পেন।

রবিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে নান্দনিক ফুটবলের এক চমৎকার প্রদর্শনীতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে স্পেন। ইতালির ‘ব্যাড বয়’ মারিও বালোতেলি স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে চার গোল করতে চেয়েছিলেন। উল্টো চার গোল হজম করে স্পেনের কাছে হারতে হয়েছে ইতালিকেই।

স্পেনের প্রথম গোলটি আসে খেলা শুরুর ১৪ মিনিটের মাথায়। ইতালির বামপাশের গোললাইন থেকে সেস ফ্যাব্রিগাসের ভাসিয়ে দেওয়া দেওয়া বলে যথাসময়ে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ডেভিড সিলভা।

দ্বিতীয় গোলটি করেন জরদি আলবা। ৪১ মিনিটে জাভি হার্নান্দেজের লং পাস থেকে ইতালির দু’জন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল ধরে গোললাইন ছেড়ে এগিয়ে আসা বুফনকে বোকা বানিয়ে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক বড় ম্যাচে গোলের স্বাদ নেন আলবা।

সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে খেলা ইতালিকে ফাইনালে খুঁজেই পাওয়া যায় নি। পুরো ম্যাচেই ইতালিকে ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখা যায়। বিশেষত প্রথমার্ধেই ২ গোলে পিছিয়ে থেকে আজ্জুরিরা যেন সব উৎসাহ একেবারেই হারিয়ে ফেলে। স্প্যানিশদের বিপক্ষে আক্রমণে গিয়ে গোলের চেষ্টার চেয়ে বরং গোল ঠেকানোর প্রচেষ্ঠাতেই ব্যস্ত থাকে বেশি।

প্রথমদিকে এই কৌশলে কিছুটা সফলও হয় ইতালি। স্পেনের একের পর এক গোলের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থও করে। তবে এভাবে কী শেষরক্ষা হয়? বিশেষত ২ গোলে পিছিয়ে থেকে? যে কারণে আক্রমণের পর আক্রমণ দিয়ে ইতালির রক্ষণভাগের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয় স্পেন।

৮৪ মিনিটে তৃতীয়বার আজ্জুরিদের জালে বল জড়ায় স্প্যানিশরা। সেস ফ্যাব্রেগাসের বদলি হিসেবে সদ্য মাঠে নামা ফার্নান্দো তোরেস ইতালির জালে বল পাঠিয়ে ইউরোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দু’টো ফাইনালে গোল করার অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী হন।

এর মাত্র ৪ মিনিট পরেই ইতালির কফিনে ৪র্থ পেরেকটি পুঁতে দেন জুয়ান মাতা। তবে শেষ গোলটিতে জুয়ানের চেয়ে তোরেসের কৃতিত্বই বেশি। সার্জিও বাকেটের কাছ থেকে  বল পেয়ে বুফনকে নিজের দিকে টেনে এনে শেষ মুহূর্তে জুয়ানের দিকে বল ঠেলে দেন তোরেস। এক মিনিট আগে মাঠে নামা অখ্যাত জুয়ান ইতালির ফাঁকা জালে বল জড়াতে কোনো ভুলই করেন নি।

কোনো স্ট্রাইকার না ব্যবহার করে ভিনসেন্ট দেল বঙ এই ইউরোয় যে জাদু দেখালেন, তা সত্যিই অসাধারণ। ‘মুন্ডহীন ছক’ নামের এই কৌশল ব্যবহার করতে এখন যে-কোনো দলই চেষ্টা করবে।

ছোট ছোট ‘তিকি তাকা’ পাসের অপূর্ব প্রদর্শনীতে আবারও বাজিমাত করলো দেল বঙের শিষ্যেরা। এমনকি আজ্জুরিদের রক্ষণভাগে গিয়েও সেই একই কৌশল প্রয়োগ করেছে স্প্যানিশরা।

ইতালির ‘ব্যাড বয়’ বালোতেলি আগের ম্যাচেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী দু’টি গোল করে স্পেনের বিপক্ষে যেন ‘গুড বয়’ বনে গিয়েছেন। এমনকি স্পেনের বিপক্ষে হলুদ কার্ডও পান নি বালোতেলি। নিজের স্বভাবসূলভ আগ্রাসী মেজাজ পাল্টানোর প্রভাব পড়েছে মাঠেও। ‘গুড বয়’ বনে বরং বালোতেলি ব্যর্থই হয়েছেন তার সেরাটা দিতে।

স্পেনের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের নেপথ্যের কারিগর ভিনসেন্ট দেল বঙ জয়ের পর বলেন ‘পর পর তিনটি শিরোপা জেতা প্রায় অসম্ভব। ছেলেদের অভিনন্দন। আমি এমন কোচ হতে চাই নি, যে শুধু জয়টাকেই সবকিছু বলে মনে করে। আমি চেয়েছি ছেলেদের ভালো করে খেলা শেখাতে। ভবিষ্যতেও আমি এই কাজ করে যেতে চাই।’

স্পেনের দ্বিতীয় গোলের নায়ক জরদি আলবা প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘এটা ছিল আমার জীবনের প্রথম ফাইনাল। আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেলেছি। আমার অসম্ভব ভালো লাগছে। এখনো যেন ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না।’

২০০৬ সালের বিশ্বকাপকে কিয়েভে ফিরিয়ে আনতে না পারলেও একেবারে হতাশ নন ইতালির কোচ সিজার প্রাণদেলি। ‘খেলার শুরু থেকেই ওরা (স্পেন) ছিল দারুণ উজ্জ্বীবিত। গত কয়েক সপ্তাহে আমরা আমাদের শক্তি ব্যয় করে ফেলেছি। এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে আমরা শারীরিকভাবে প্রাণবন্ত থাকার চেষ্টা করবো।’ পরাজয়ের পর প্রাণদেলির সরল স্বীকারোক্তি।

১৯৬৪ ও ২০০৮ সালের পর স্পেন এবারের ইউরো জেতায় জার্মানির সঙ্গে সর্বোচ্চ তিনবার ইউরো শিরোপা অর্জনের কৃতিত্ব দেখালো।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট