Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

থমকে গেছে অনুসন্ধান

 নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর যাবতীয় অনুসন্ধান-তৎপরতা থমকে গেছে। থেমে যাচ্ছে আন্দোলনও। ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসছে পুরো পরিস্থিতি। সিলেটে মামলায় বিপর্যস্ত হাজার হাজার নেতা-কর্মী এখন নিজেদের ঝামেলা পোহাতে ব্যস্ত। সিলেট বিএনপিতে দেখা দিয়েছে অনৈক্যের সুর। নেতারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় চাপা পড়ে যাচ্ছে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর ইস্যুটি। তবে আশার কথা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবার বিশ্বনাথমুখী হতে যাচ্ছেন। দলের শীর্ষ পর্যায়ে দুই নেতার মধ্যে যে কোন একজন এরই মধ্যে বিশ্বনাথ আসতে পারেন।
১৭ই এপ্রিল ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। সঙ্গে নিখোঁজ হন তার গাড়িচালক আনসার। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সিলেটের বিএনপি অভিযোগ করে আসছে সরকারই তাকে গুম করে রেখেছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করতে তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। ইলিয়াস আলী সন্ধানে সিলেটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হলেও বাস্তবে সেটি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও সিলেটের বেশ কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় অচেনা গাড়ির আনাগোনা দেখা গেছে। ঢাকায় এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে নিয়ে অভিযান চালালেও র‌্যাব সফলতা পায়নি। এরপর থেকে র‌্যাবের অনুসন্ধান চলছে। কিন্তু আড়াই মাসেও তারা ইলিয়াসের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। এই মূহূর্তে ইলিয়াস আলীর সন্ধান-তৎপরতা পুরোপুরি থমকে গেছে। কোথাও কোন অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি। আর ওদিকে সিলেটের ইলিয়াস আলীকে ফিরে পেতে ঘটনার পরদিন থেকে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গোটা দেশে ৫ দিন হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালে আন্দোলন চালাতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ৫ জন। এর মধ্যে বিশ্বনাথেই নিহত হন ৩ জন। এ আন্দোলনের পর সিলেটের বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১২ হাজার নেতা-কর্মীকে। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়ের করা এসব মামলায় ইতিমধ্যে শতাধিক নেতা-কর্মী জেল খেটেছেন। এখনও সিলেটের কারাগারে আছে অনেক নেতা-কর্মী। সিলেট বিএনপির সহ-সভাপতি মোজাহিদ আলীসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী প্রায় এক মাস জেল খাটার পর কয়েক দিন আগে মুক্তি পেয়েছেন। বিশ্বনাথের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। মামলায় জামিন নিলেও বহু নেতা-কর্মী বাড়ি ফিরতে পারছেন না। এখনও চলছে পুলিশি অভিযান। শনিবার রাতেও বিশ্বনাথে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর বাসায় পুলিশি অভিযান চলেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি বেশ স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। অপেক্ষার প্রহর শেষ না হওয়ায় সিলেটের বিএনপির নেতাদের মধ্যে অনেকটা অনৈক্যর সুর বেজে উঠেছে। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর সিলেট বিএনপিতে স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়েছেন সিলেট বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ মকন মিয়া চেয়ারম্যান, মহানগরের সহসভাপতি এডভোকেট নোমান মাহমুদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট জামান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এ টি এম ফয়েজসহ সিনিয়র নেতারা। তারা কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে নিয়ে ইলিয়াস মুক্তি পরিষদ গঠন করেছেন। পরিষদের শীর্ষ নেতা এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান গতকাল জানিয়েছেন, আমরা বিশ্বাস করি ইলিয়াস আলী সরকারের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে ফিরিয়ে আনতে আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো। এদিকে, ইলিয়াস মুক্তি পরিষদ গঠনের পর সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা ইলিয়াস আলীর সন্ধানের জন্য আন্দোলনে নামেন। জেলা ও মহানগরের ব্যানারে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সিলেটে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হলেও মাঠ গরমের কর্মসূচি থেকে বিরত রয়েছেন সিনিয়র নেতারা। সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ জানান, আমাদের আন্দোলন থেমে নেই। আমাদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলছে। এরপর স্মারকলিপি পেশ ছাড়াও থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি বলেন, এ আন্দোলন কেবল বিএনপির আন্দোলন নয়। আমরা আন্দোলনে নেমে দেখেছি সাধারণ মানুষ নীরবে এ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে ও সমর্থন জানাচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট