Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শুরু থেকেই সরকারের অস্বীকারের মনোভাব ছিল

পদ্মা সেতুর ব্যাপারে এরকম চরম সিদ্ধান্ত চলে আসতে পারে তা আগে থেকেই আশঙ্কা করছিলাম। কিন্তু সত্যি সত্যিই সত্য হবে তা আমাদের বিশ্বাসের ভিতর ছিল না। যেটা হয়েছে এটা দুর্ভাগ্যজনক, বিব্রতকর ও লজ্জাকরও বটে। এই ঘটনাটি সত্য-মিথ্যা যা-ই হোক দেশ ও বিদেশে আমাদের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো।
এই প্রকল্প নিয়ে এত আগ্রহ কেন? এত চিন্তা কেন? কারণ হলো- দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ নেই। এই সেতুটি নির্মাণ হলে প্রত্যক্ষভাবে ৩ কোটি মানুষ এর উপকার পাবে। এছাড়া বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এ সেতুটির উপকারভোগী হবে। আর এটা শুধু সেতু পরিবহনের জন্য নয়, এর মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল যাবে। সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক ভারসাম্য তৈরিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। ট্রানজিটের বেলায়ও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকৃতভাবে বললে আরও ১০ বছর আগে এ প্রকল্পটি হওয়া উচিত ছিল। আর এখন প্রথম প্রকল্পই হয়নি অথচ দ্বিতীয় প্রকল্পের আলোচনা করছি। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি ছিল, যা খুবই আকর্ষণীয়।
প্রশ্ন জাগে এই রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশমান বৃহৎ প্রকল্পের হঠাৎ করে এ রকম পরিণতিতে কেন গেল? এর উত্তর খুঁজে দেখলে মনে হবে, যখন বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠলো ঠিক কয়েকদিন আগে সরকারের কর্তা-ব্যক্তিদের মতামত শুনলে মনে হয়, তাদের কাছে এটা কোন গ্রাহ্যকরই মনে হয়নি। আর সরকার শুরু থেকেই একটা অস্বীকারের মনোভাবের মধ্যে ছিল।
যখন কর্মকর্তা বদল হলো, মন্ত্রী বদল হলো, দুর্নীতি দমন কমিশনকে দায়িত্ব দেয়া হলো এবং ওয়াশিংটনে আমাদের কর্তা-ব্যক্তিরা দেনদরবার করলো তখনও কিন্তু আমাদের আস্থার সৃষ্টি হলো না। আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেল। ফলে বিশ্বব্যাংক বাহ্যিকভাবে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা প্রতিভাত হলো না। এর মূল কারণ হলো সরকারের অস্বীকার করার মনোভাব।
অন্যদিকে যে অভিযোগগুলো প্রকল্পের ব্যাপারে উঠেছে তা বিশ্বব্যাংক চিঠি-পত্র দিয়ে এবং এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় এসে সরকারকে অবগত করেছেন। কিন্তু আমরা নাগরিক হিসেবে তা জানতে পারলাম না। আবার সরকারও বাস্তবসম্মত কোন পদক্ষেপ নিলো না। বিশ্বব্যাংকও সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করলো না। তবে আজকের এই মুক্ত বিশ্বে এক দিন না এক দিন তথ্য বের হবেই।
বর্তমান এই পরিস্থিতি সরকার মনে হয় অনুধাবন করতে পারেননি। এ জন্য মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলতে পারেন ‘অগ্রহণযোগ্য’। সরকার বলেন, টাকাই যখন আসেনি তখন দুর্নীতি হয় কি করে? সরকার হয়তো বুঝতে চাননি বা বুঝতে চেষ্টা করেননি যে, আজকের দুনিয়াতে বৈদেশিক সাহায্যের ব্যাপারে কি কঠিন মানদণ্ডে দুর্নীতির বিচার করা হয়। তারা সম্পাদিত দুর্নীতি আর দুর্নীতির অভিপ্রায়- এ দু’টির মধ্যে পার্থক্য করেন না। আমাদের দেশে তহবিল পেয়ে তছরুপ করাই আইন অনুযায়ী দুর্নীতি। আর বিদেশে অবৈধ অর্থ লাভের জন্য কেউ যদি কোন পদক্ষেপ নেন অথবা অবৈধ অর্থ লাভের প্রত্যাশায় কেউ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন তবে তাকেও দুর্নীতি বলা হয়ে থাকে। আমাদের সরকার এ বিষয়টি অনুধাবনে নেননি।
বলা হয়ে থাকে, ইউনূস সম্পর্কে হিলারি অনেক কিছু বলেছেন, সেজন্য হিলারি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে পদ্মা সেতুর ব্যাপারে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ধরনের চিন্তা অজ্ঞতা ছাড়া কিছু নয়। আবার ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এ ধারণাও ভুল। কারণ নতুন প্রেসিডেন্ট এসে আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন- সেটাও ঠিক না। সব মিলিয়ে আমাদের কর্তা-ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের প্রতি ভালভাবে মনোযোগ দিয়েছেন বলে মনে হয় না। সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে- এই বিষয়টি আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
পদ্মা সেতু বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের। সুতরাং তার যে এ প্রকল্প বাতিল করে স্থিতিতে থাকবেন তা মনে হয় না। তাদের পরিচালকরাও অনেক পেরেশানের মধ্যে থাকবেন তা-ও এখন দেখার বিষয়। এছাড়া দাতাগোষ্ঠীদের সঙ্গে আমরা বৈঠকও করতে পারছি না গত ২ বছর হলো। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও ২টি সংস্থা রয়েছে জাইকা ও এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক। তাদের সঙ্গে এ চুক্তির অধীনে আলোচনা করাও জটিল হবে। নতুন করে যদি কিছু করা যায় সেটা ভিন্ন ব্যাপার।
বাংলাদেশের জনগণ এখন খুবই ঘনিষ্ঠভাবে এসব বিষয় অনুধাবন করে। সরকার যদি নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কাজ করেন তাহলে ভাল হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- প্রকল্পটি সরকারকে করতে হবে। যত দেরি হবে তত প্রকল্প ব্যয় বাড়বে এবং ঋণের বোঝা বাড়বে।
তবে সরকার নিজের টাকায় করতে পারে। পুঁজিবাজার থেকে, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে করতে পারে। কিন্তু এই দুই জায়গায় তারল্য সঙ্কট প্রচুর পরিমাণে। অতএব এটাও বাদ। অনেকেই বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে করতে বলেন। কিন্তু বাংলাদেশর বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার যে মজুত তা দিয়েও সম্ভব নয়। আসল উপায় হলো- সহজ শর্তে ঋণের মাধ্যমে এ প্রকল্প তৈরি করা। এ প্রকল্প তৈরিতে তাদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করার বিকল্প পথ নেই। পুনর্বিবেচনা করা দরকার। বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত দরকার। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সাহসিকতার সিদ্ধান্তে আসতে হবে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
নাগরিক হিসেবে এর দায়-দায়িত্ব কেন আমার কাছে চলে আসবে? আবার রাজনৈতিক সরকারও কেন এর দায় নেবে? নাগরিক হিসেবে দাবি করবো- আসল ঘটনা বের করা হোক। ব্যক্তি বিশেষ কেউ অপরাধী হলে তার বিচার করতে হবে। কিন্তু জাতি হিসেবে কেন সবাই এর ভাগী  হবো? এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন আগেই সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়। আমরা তাদের কার্যকারিতার যৌক্তিকতা বুঝে উঠতে পারি না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট