Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইয়াবা গডফাদার আমিন কারাগারে

 বাংলাদেশে ইয়াবার প্রথম আমদানিকারক ও মাদক সম্রাট আমিন হুদা কারাগারে। গতকাল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক আমিন হুদার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত ও র‌্যাব সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ইয়াবা ব্যবসা ও ইয়াবা তৈরির শীর্ষ গড ফাদার আমিন হুদা। তিনিই প্রথম এদেশে ইয়াবার চালান নিয়ে আসেন। জার্মানি থেকে এমফিটামিন নামে ইয়াবার কাঁচামাল সংগ্রহ করে দেশেই ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। ২০০৭ সালের ২৫শে অক্টোবর র‌্যাব গুলশানের ১২৩ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার বাড়ি থেকে এক লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, বিপুল পরিমাণ বিদেশী মদ, ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির মেশিন, ভারতীয় ফেন্সিডিল ও বৈদেশিক মুদ্রা আটক করে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দুটি মামলা হয়। ওই বছরের ২৯শে অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলা দুটির তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-১। র‌্যাব-১ এর এসআই জাহিদুল ইসলাম প্রায় এক মাস ধরে মামলা দুটির তদন্ত করে ২৭শে নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে এ মামলা ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়। ২০০৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের বিচারক ইসমাইল হোসেন আমিন হুদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণকালে ১০-০৪-০৮ তারিখে আসামি আমিন হুদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে মামলা বাতিল ও জামিন প্রার্থনা করেন। একইভাবে গুলশান থানার অপর মামলাটিও বাতিল করার জন্য তিনি আপিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৮ সালের ১৫ই মে ওই দুই মামলার আসামি আমিন হুদাকে জামিন দেয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে র‌্যাবও তাৎক্ষণিকভাবে আবেদন করে। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৩রা জুন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মামলা দুটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমিন হুদার জামিন আদেশ স্থগিত করেন। ওদিকে একই সময়ে হাইকোর্ট আসামির দায়ের করা ক্রিমিন্যাল মিস কেস মঞ্জুর করে মামলা বাতিল করে দেন। মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধের মামলা তদন্তের এখতিয়ার র‌্যাবের নেই মর্মে অভিমত প্রদান করে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আসামি আমিন হুদার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটি বাতিল করে দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে র‌্যাবের পক্ষ থেকে ফের আবেদন করা হয়। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ প্রাথমিকভাবে উভয়পক্ষের শুনানি গ্রহণ শেষে র‌্যাবের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মামলা দুটির চূড়ান্ত শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন। র‌্যাব ও আদালত সূত্র জানায়, মামলা দুটির চূড়ান্ত শুনানির জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে অব্যাহত চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে আমিন হুদার পক্ষ থেকে মামলা দুটির চূড়ান্ত শুনানি বিলম্ব করার নানা চেষ্টাও  চলতে থাকে। একপর্যায়ে গত ২০১১ সালের ১লা জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা দুটির চূড়ান্ত শুনানি হয়। শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩রা জুন আপিল বিভাগ আমিন হুদার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় র‌্যাবের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সঠিক বলে রায় দেন। ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধান অনুযায়ী মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার র‌্যাবের নেই বলে হাইকোর্ট যে রায় দেন তা সঠিক নয় বলে মত দেন আপিল বিভাগ। ওই রায়ে বলা হয়, মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার র‌্যাবের আছে। একই সঙ্গে আদালত হাইকোর্টের রায় আতিল করে মামলা সচলের নির্দেশ দেয়। আসামি আমিন হুদাকে এ রায় পাওয়ার ৬ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আমিন হুদা ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির হলে তার বিরুদ্ধে পুনরায় বিচার শুরু হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট