Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সংহত স্পেন না উজ্জীবিত ইতালি

বাকি আর দুটি দল। শিরোপা জিতবে একটি। স্পেন না ইতালি- কে হবে চ্যাম্পিয়ন- বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন একটিই। জয় হবে কার-শৈল্পিক ফুটবলের নাকি রক্ষণশীল ফুটবলের। ঘরে-বাইরে, সদরে-অন্দরে সবখানেই আলোচনার বিষয় যেন একটিই। দেশের ফুটবল নিয়ে যাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখা যায় না তারাও আজ সরব। ফুটবলামোদী মহলে চলছে বিশ্লেষণ আর বিশ্লেষণ। ইউরো ফুটবলের মুকুট জিতবে কোন দল? কেউ এগিয়ে রাখছেন স্পেনকে আর কেউ ইতালিকে। তিন সপ্তাহের জমজমাট লড়াইয়ের পর্দা নামছে আজ। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বিশ্বফুটবলের দুই জায়ান্ট। ইউরো কাপ না হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল বললেই বা অসুবিধা কোথায়। বিশ্বকাপের শেষ দুটি আসরের কোনটিতেই তো ফাইনালে ইউরোপের কোন দল স্থান পায়নি। আর দুই ফাইনালের বিজয়ী দলওতো এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকা স্পেন আর ইতালি। ২০০৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইতালি আর ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ইউরো ফাইনালে এদের চেয়ে ভাল প্রতিদ্বন্দ্বী আর কারা হতে পারতো। কেবল জাতীয় পর্যায়ে নয়, ক্লাব পর্যায়েও পিছিয়ে এ দুটি দেশ। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ২৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এ দুটি দেশের ক্লাব। তবে মজার ব্যাপার হলো- প্রথমপর্বে দুটি দলই ছিল একই গ্রুপে। আর প্রথম ম্যাচও এরা খেলেছে পরস্পরের বিপক্ষে। সমানতালেই খেলেছে দুদল। কেউ জেতেনি সে ম্যাচে। ইতালি প্রথম গোল করেও তা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। কাসানোর গোলের জবাব দ্রুতই দিয়ে দিয়েছিলেন ফ্যাব্রিগাস। প্রথম ম্যাচ হিসেবে হয়তো দুদলই ছিল অতিসতর্ক। আর এবার বেশি সতর্ক শেষ লড়াই বলে। জার্মানি-ফ্রান্স বা ইংল্যান্ড-পর্তুগালের জন্য আফসোস থাকতে পারে। তবে সন্দেহের কোন অবকাশই নেই যে সেরা দুটি দলই মুখোমুখি আজ ফাইনালে।
স্পেন খেলছে তার রাজত্বের মেয়াদকে বাড়াতে আর ইতালি চায় হারানো রাজত্ব ফিরে পেতে। স্পেন হতে পারে টানা তিনটি বড় আসর জয়ী প্রথম কোন দেশ। ২০০৮ ইউরো কাপ জয়ের পর বিশ্বকাপ জয় করে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কেবল বদ্ধপরিকরই নয় বরং জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে। নানা ঘাত-প্রতিঘাতে  জর্জরিত না হয়ে ইতালি যেন এবার পোড় খাওয়া সেনাবাহিনীর মতো। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ফিরেছে এবার স্বমহিমাকেও ছাপিয়ে। রক্ষণাত্মক ইমেজ ঘুচিয়ে ফিরেছে আক্রমণাত্মক মেজাজে। নেতিবাচক খেলার বদনাম কাটিয়ে দারুণ ইতিবাচক খেলা উপহার দিয়েছেন সিজার প্রাণদেলির শিষ্যরা। গতিশীল খেলা আর ফলপ্রসূ আক্রমণ কাকে বলে তাও তারা দেখিয়েছেন দুর্দান্ত জার্মানির বিপক্ষে। পাওয়ার হাউজ খ্যাত জার্মানি ঠিক দু’বছর আগে একইভাবে পাওয়ারলেস হয়ে গিয়েছিল স্পেনের বিপক্ষে।
ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা বলে ক্রিকেটপ্রেমীদের দাবি। কিন্তু ফুটবল কি এর ব্যতিক্রম? মোটেও নয়। চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো যাবে ঢের নজির ভবিষ্যদ্বাণীর উপায় নেই, নেই সুযোগও। তবে কাগজের হিসেবে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। মাঝমাঠ নিয়ে গর্ব করার মতো দল হলেও স্পেন এবার নিশ্ছিদ্র রক্ষণভাগের দল হিসেবেও নিজেদের চিনিয়েছে। বল দখলের লড়াইয়ে সবার ওপরে ভিসেন্তে দেল বস্কের শিষ্যরা। টিকি-টাকা খ্যাত ছোট ছোট পাসে ফল বয়ে আনার অসাধারণ নজির গড়েছে স্পেন। ১৯৭০ দশকের পশ্চিম জার্মানির পর এই প্রথম টানা তিন বড় আসরের ফাইনালে তারা।
এগিয়ে যতই থাক ফুটবলবোদ্ধাদের বড় একটি অংশই সংশয়ে পড়েছেন উজ্জীবিত আজ্জুরিদের সামনে কতটুকু টিকে থাকতে পারবে লা রোজারা। চার বছরের মধ্যে স্প্যানিশদের বড় পরীক্ষা আজ। জিতলেই তাদের নাম উঠে যাবে সর্বকালের সেরা দলগুলোর তালিকায়। তবে প্রতিযোগিতা শেষের পরাজয় স্পেন সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদকে অনেকটাই নামিয়ে আনবে।
দু’দল ভিন্ন মেজাজে
শেষ লড়াইয়ে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত দুই দল। খেলোয়াড় কর্মকর্তা সবাই এখন জমায়েত ইউক্রেনের রাজধানীতে। তবে দু’দলের মেজাজে ভিন্নতা রয়েছে খানিকটা। স্পেন ফাইনালে এসেছে। অনেকটা ভাগ্যের জোরে- পেনাল্টি শুটআউটে। তারা সহজেই ফাইনালে খেলবে বলে ভাবা হলেও সেমিফাইনালে ভাল খেলেছে পর্তুগালই। তাদের হারেই বরং দুঃখিত ও বিস্মিত হয়েছেন অনেকে। আর ইতালির ক্ষেত্রে উল্টো। বেশির ভাগেরই ধারণা ছিল জার্মানি অনায়াসে হারাবে ইতালিকে। কিন্তু প্রথমার্ধেই তার চেয়েও সহজে খেলা নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয় ইতালি।
দল হিসেবে স্পেন অনেক বেশি সংহত। বিশ্বকাপ জয়ের পর তারা অনেক বেশি অভিজ্ঞ। বার্সেলোনায় এক সঙ্গে খেলে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটাও যথেষ্ট ভাল। তবে খেলোয়াড়দের মধ্যে খানিক ক্লান্তির ছাপ পড়েছে। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন দেল বস্ক। আমরা খানিকটা পরিশ্রান্ত। ব্রেকিংপয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু সারা বছর এমন পরিস্থিতিতে খেলে আমরা অভ্যস্ত। আমি আশা করি ফাইনালে তারা ভালভাবেই খেলবে।
ইতালি স্পেনের চেয়ে একদিন কম বিশ্রাম পেলেও জার্মানির বিপক্ষে জয়ে তারাই যেন বেশি চাঙ্গা। প্রতিপক্ষের প্রাণেও কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন প্রাণদেলির শিষ্যরা। সবসময় ফেভারিটের তকমা থাকলেও এবার ছিল তারা আঁধারের ঘোড়ার মতো। গত বিশ্বকাপে একবারে ফ্লপ। এরপর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল দলটি। একেবারেই ছন্নছাড়া একটি দলকে খুব কম সময়ের মধ্যে দারুণভাবে গড়ে তুলেছেন ক্লাবের চেতনায়। প্রাণদেলি বলেছেন, আমরা স্পেনকে ভয় পাই না। ওরা কোন দিক থেকেই আমাদের চেয়ে শক্তিশালী নয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে এখন আমরা অনেক উন্নতি করেছি।

ইতালি-স্পেন হেড টু হেড
সার্বিক    মোট    বিশ্বকাপ    ইউরো    অন্যান্য
ইতালি জয়     ৮    ২    ১    ৫
স্পেন জয়     ৭    ০    ১    ৬
ড্র     ১১    ১    ৩    ৭
গোল ইতালি     ৩০    ৪    ২    ২৪
গোল স্পেন     ২৬    ২    ১    ২৩

রেকর্ডবুক
* ইতালি-স্পেন গ্রুপপর্বে পরস্পরের মুখোমুখি হয়। ইউরোর গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হওয়া দুই দলের মাঝে এটি চতুর্থ ফাইনাল। এর আগে ১৯৮৮ সালে নেদারল্যান্ডস-সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৯৬ সালে জার্মানি-চেক ও ২০০৪ সালে গ্রিস-পর্তুগাল ফাইনালের আগে গ্রুপপর্বে পরস্পরের মুখোমুখি হয়।
* এখন পর্যন্ত ২৬টি ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হয়েছে ইতালি। আটটি ম্যাচে ইতালি জয় পেলেও স্পেন পেয়েছে সাতটিতে জয়। বাকি এগারটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
* টাইব্রেকার ছাড়া বড় কোন ফুটবল আসরে এখন পর্যন্ত ইতালির বিপক্ষে জয়ের মুখ দেখেনি স্পেন। ২০০৮ সালে ইউরোতে টাইব্রেকারে ইতালির বিপক্ষে জয় পায় (৪-২) স্পেন। ওই একটি বাদ দিলে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলে এখন পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ খেলেছে দুই দল। তিনটি ম্যাচে ইতালি জয় পেলেও বাকি চারটি ড্র হয়েছে।
* ইতালির প্রধান কোচ হিসেবে সিজার প্রাণদেলি দুইবার স্পেনের মুখোমুখি হয়েছেন। এবারের ইউরোতে ১-১ গোলে ড্রয়ের আগে ২০১১ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে জয় তুলে নেয় প্রাণদেলির শিষ্যরা।
* দ্বিতীয় ইউরোপীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বড় ফুটবলের আসরের ফাইনালে উঠলো স্পেন। পশ্চিম জার্মানি ১৯৭২ সালের ইউরো, ৭৪’র বিশ্বকাপ ও ৭৬ সালের ইউরোর ফাইনালে উঠতে পেরেছিল। তবে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলে বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলে টানা তিনটি শিরোপা জেতা হবে লা-রোজাদের।
* প্রাণদেলির অধীনে ১৫টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে ইতালি। দশটি ম্যাচ জিতলেও পাঁচটিতে ড্র করে তারা।
* বালোতেলি ইতালির হয়ে আগের ১২টি যা করতে পারেননি তার চেয়ে বেশি করেছেন জার্মানির বিপক্ষে (২ গোল)। গোলমুখে সর্বোচ্চ ১০টি শট নিয়েছেন তিনি। ইতালির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোর এক আসরেই তিন গোল করেছেন বালোতেলি।
* বুফন বড় ফুটবল আসরে এখন পর্যন্ত ২৪টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মাধ্যমে দিনো জফকে ধরে ফেলেছেন তিনি। তবে ক্যাসিয়াসের চেয়ে (২৮) চার ম্যাচ পিছিয়ে রয়েছেন তিনি।
* ইনিয়েস্তা এবারের ইউরোতে গোলমুখে ১১টি শট নিয়েছেন কিন্তু কোন গোল পাননি। ১৯৮০ সালের পর এবারই প্রথম এমন ঘটনা ঘটেছে।
* সেস ফ্যাব্রিগাস ও কাজোরলা ইউরোর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার ব্যবহৃত হওয়া পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। সাতবার তাদেরকে মাঠে নামিয়েছেন কোচ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট