Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘জামায়াত নেতাদের হত্যার লাইসেন্স দিয়েছিলেন গোলাম আযম’

ঢাকা, ১ জুলাই: ছাত্ররা কিভাবে শিক্ষককে মিথ্যে বলে গাড়িতে করে নিয়ে হত্যা করতে পারে এটা আশ্চর্যের বিষয় এবং ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করলেন গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী মুনতাসির মামুন।

 

ওই সময় তিনি বলেন, “আল বদর বাহিনীর বেশির ভাগ সদস্যই ছিল ছাত্রশিবিরের কর্মী। কতটা মনুষ্যত্ব বিবর্জিত হলে ছাত্ররা শিক্ষকদের মিথ্যা কথা বলে গাড়িতে করে নিয়ে হত্যা করতে পারে!”

 

তৎকালীন আলবদর বাহিনীর বেশির ভাগ সদস্যই ইসলামী ছাত্রশিবিরের বলে তিনি জানান। তারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় মূল ভূমিকা পালন করে বলেও মন্তব্য করেন মুনতাসির মামুন।

 

তিনি বলেন, “আলবদর বাহিনীর সদস্যরা আমার অনেক শিক্ষককে হত্যা করেছে। তার ভেতরে বিশেষ করে অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহেম্মেদের কথা মনে পড়ে।”

 

এই শিক্ষাবিদ বলেন, “যারা হত্যাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছিলো তাদের এক ধরনের লাইসেন্স দিয়েছিলেন জামায়াতের নেতা গোলাম আযম।”

 

তিনি বলেন, “সে সময়ে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও পিডিপির নেতৃত্বে শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী ও আলবদর  বাহিনী গঠন করেছিল। এর মধ্যে জামায়াতের কমীদেরই আধিক্য ছিল।”

 

মুতাসির মামুন বলেন, “তৎকালীন জামায়াত ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বড় রাজনৈতিক দল। তাই তাদের দলের প্রভাব ছিল সব সময় বেশি। তৎকালীন জামায়াতের আমির গোলাম আযম বিভিন্নভাবে বক্তৃতা দিয়ে তার দলের নেতাকর্মীদের উৎসাহিত করতেন তারা যেন শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করে।”

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মুনতাসির মামুন তার জবাবন্দিতে এসব কথা দেন।

 

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের হত্যা, ধর্ষন গুম, অগ্নিসংযোগ লুটের কথা স্মরণে এলে এখনো গা শিউরে ওঠে।”

 

তিনি আরো বলেন, “ওই সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে যদি হত্যাযজ্ঞে বা পাকিস্তানের দোসরদের বিভিন্ন কর্মে বাংলাদেশী বিভিন্ন দলের লোকেরা সহযোগিতা না করতে তাহলে তারা আমাদের দেশে এত ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারতো না।

 

আর আমরা নয় মাস সময়ের আগে মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হতে পারতাম। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর থেকে যে দলগুলো পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারকে এবং তাদের প্রতিনিধি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে তারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিল। পাকিস্তানিদের সহযোগিতায় যারা অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে তাদের মধ্যে বাংলদেশের জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ছিল অন্যতম।”

 

মুনতাসির মামুনের জবানবন্দির শুরুতেই তিনি তার নাম মুনতাসির মামুন ও বয়স ৬১ বছরে বলেন। পরে তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনের বর্ণনা দেন। কবে কি কি পুরস্কার পেয়েছেন তার কথা উল্লেখ করেন। পরে ইতিহাস ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়ে ১৯৭১ সালের তৎকালীন বিষয়ে বক্তব্য দেন।

 

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এর আগে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে তাকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় হাজির করা হয়। পরে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলে দুপুর ১২টার দিকে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ বলে তাকে আবার এজলাস থেকে নামিয়ে হাসপতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

 

তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে ট্রাইব্যুনালের এজলাস থেকে নামিয়ে নেয়া হচ্ছে।”

 

গত ২৪ জুন তাজুল ইসলাম মামলার কার্যক্রম দুই সপ্তাহ পেছানো এবং সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবির আবেদন করলে এবং রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষীৗ উপস্থিত না থাকায় ওই দিন মামলার কার্যক্রম পিছিয়ে আজকে প্রথম দিনের মতো গোলাম আযমের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি শুরু হলো ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

 

রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মুনতাসির মামুনের জবানবন্দি শেষ না  করে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়। এক ঘন্টা বিরতির পরে আবারো তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।

 

পরে তার আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তাকে জেরা করবেন বলে জানা গেছে।

 

রোববার সকালে গোলাম আযমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ১০ জুন সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী পাঁচ ধরনের অপরাধের ৬২টি অভিযোগে অভিযুক্ত করে গত ১৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে  ট্রাইব্যুনাল-১।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট