Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সপ্তম নৌবহরের ঘাঁটি রুখে দিন, ১৫ বুদ্ধিজীবীর আহ্বান

ঢাকা, ২৯ জুন: বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর ‘মোতায়েনের ষড়যন্ত্র’ ও এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকান রণতরীর ৬০ শতাংশ মোতায়েন ‘প্রতিহত’ করতে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ১৫ জন বুদ্ধিজীবী। শুক্রবার তাদের ডাকে ঢাকায় কয়েকটি রাজনৈতিক দল এক  ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সমাবেশ’ শেষে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে। সমাবেশ থেকে ‘যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সাথে সম্পাদিত চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ ও জাতীয় সংসদে পেশ করার দাবি’ জানানো হয়।

দেশের ১৫ জন শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীর আহবানে এ সমাবেশে সিপিবি, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, গণ সংহতি আন্দোলন, কমিউনিস্ট লীগ, গণতন্ত্রী বিপ্লবী পার্টির ছাত্র-যুব, শ্রমিক- কৃষক-ক্ষেতমজুর, নারী-শিশু-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেন।

আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লিওন পেনেট্টার ঘোষণা অনুসারে এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌশক্তি বৃদ্ধি করার পরিকল্পনার নিন্দা করে ‘‘আঞ্চলিক শান্তি রক্ষার স্বার্থে চীন, ভারত ও আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের নৌশক্তিকে সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচল পথকে শান্তিপূর্ণ ও অবরোধমুক্ত রাখার জন্য স্বচেষ্ট হতে উদাত্ত আহবান’’ জানান বক্তারা।

সমাবেশে বক্তৃতা করেন অধ্যাপক কে এম সা’দ উদ্দিন, প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সৈয়দ আবুল মকসুদ ও অধ্যাপক এমএম আকাশ। এ সময় বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অধ্যাপক আনিসুর রহমান, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক আহসানুল হক, অধ্যাপক ইমদাদুল হক, অধ্যাপক এএন রাশেদা, প্রকৌশলী ড. আবুল কাশেম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সাম্যবাদী দলের পলিটব্যুরো সদস্য শাহাবুদ্দিন আহমেদ, বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পার্টির মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, কমিউনিস্ট লীগের নজরুল ইসলামসহ বাম-প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র-যুব-শ্রমিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সমাবেশের ঘোষণা পাঠ করেন অধ্যাপক কে এম সা’দ উদ্দিন।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব, পুরানা পল্টন, জিরো পয়েন্ট, গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম হয়ে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।

সমাবেশে নেতারা বলেন, ‘‘বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার সপ্তম নৌবহর-এর খবরটির সত্যতা অস্বীকার করলেও বঙ্গোপসাগরসহ বাংলাদেশে নানা রুপে অস্থায়ী-স্থায়ী আমেরিকার সামরিক উপস্থিতির কথা এ পর্যন্ত কোনো পক্ষই নাকচ করেনি।  এছাড়া নৌবাহিনী বা অন্য কোন বাহিনীকে প্রশিক্ষণের জন্য আমেরিকার কর্মকর্তাদের বাংলাদেশে আসার খবরও এসেছে।’’

বক্তারা বলেন, ‘‘আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের অতীত নজির থেকে এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে তৃতীয় বিশ্বের যারাই আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছেন ‘তাদেরই পরবর্তীতে আর দ্বিতীয় শত্রুর প্রয়োজন হয়নি। এর সবচেয়ে উজ্জ্বল সাম্প্রতিক উদাহরণ হচ্ছে পাকিস্তান।’’

চুক্তি প্রকাশের দাবি
সমাবেশ থেকে বক্তারা বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ যাবত সম্পাদিত বা সম্পাদিত হওয়ার পথে চলমান নানা ধরনের যেসব চুক্তি রয়েছে (যেমন- সোফা চুক্তি, হানা চুক্তি, টেলিকমিউনিকেশন ও প্রযুক্তি চুক্তি, আখসা চুক্তি, টিকফা চুক্তি ইত্যাদি), সেগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ এবং সেগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে পার্লামেন্টে পেশ করার দাবি জানান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট