Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিমানের এমডি ও সিইও পদে আট বিদেশীর আবেদন

বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে আবেদন করেছেন ৮ বিদেশী। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আইরিশ, ভারত, বেলজিয়ামের আবেদনকারী রয়েছেন। আবেদনপত্রের সঙ্গে তারা দিয়েছেন অভিজ্ঞতার বর্ণনা ও নথিপত্র। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশী আবেদন করায় খুশি বিমান কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল ওই পদে আবেদন জমা দেয়ার শেষ দিন। বিমান সূত্র জানায়, এবারই প্রথম বিমানের এই পদে বিদেশীদের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়। এর আগে এমডি পদে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাৎকার নিয়ে এমডি নিয়োগ করা হলেও বেশির ভাগ সময়ই এমডি নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিমানের ভেতর থেকে এমডি নিয়োগ না করে বিমান বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে কিংবা সরকারের আমলাদের ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, দক্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালক না নেয়ায় বিমান ৪০ বছরের মধ্যে ২৩ বছরই লোকসান গুনেছে। কর্তৃপক্ষ এবার মনে করছে, বিদেশী এমডি ও সিইও নিয়োগ করলে বিমানের জন্য ভাল হবে এবং প্রফেশনাল এমডি তারা পাবেন। তবে বিদেশী এমডি নিলেই লাভ করা যাবে- এমনটি মনে করছেন না বাংলাদেশ পাইলট এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন হেলালউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যেখানে বিমানের উড়োজাহাজ নেই, জ্বালানির অভাব, রুটের সঠিক পরিকল্পনাও নেই, মার্কেটিং পলিসিতেও সমস্যা রয়েছে, এছাড়া রয়েছে আরও সমস্যা- সেখানে বিদেশী এডি নিয়োগ করা হলেই বিমান ঠিকমতো চলবে, লোকসান কাটিয়ে লাভ করতে পারবে- এটা মনে করার সুযোগ কম। দক্ষ এমডি’র সঙ্গে প্রয়োজন আনুষঙ্গিক সব সুযোগ-সুবিধা, সঠিক এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিকল্পনা। বিদেশী এমডি নিয়োগ করা হলে দেশের টাকা বাইরে যাবে। বেশি টাকায় বেতন দিয়ে তাকে নিয়োগ করতে হবে। এতে খরচ বাড়বে বৈ কমবে না। এছাড়া দেশীয় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে বিদেশী এমডি ও সিইও নিয়োগ করার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতাও থাকতে পারে। সূত্র জানায়, ওই পদে ইতিমধ্যে ৩৩টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে আটজন বিদেশী। বিমানের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিদেশীরা প্রথমবার আবেদনে সাড়া দেয়াতে আমরা খুশি। তিনি বলেন, আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের এভিয়েশন এক্সপার্টরা বিমানে আসতে রাজি- এটাই একটা বিরাট ব্যাপার। এদিকে আজ ও আগামীকালও আবেদন জমা দেয়ার সময় রয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ মনে করছেন তারা আরও বেশ কিছু আবেদন পাবেন।
এদিকে গত দু’দিন ধরে বিমানে নতুন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও-র দায়িত্ব পালন করছেন বিমানের পরিচালক মোসাদ্দিক আহমেদ। ২৬শে জুন বিমানের পরিচালনার পরিষদের বৈঠকে তাকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। এর আগের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ক্যাপ্টেন নাসেরকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছে। কারণ, বিমান কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালে প্রশাসনিক আদেশ বলে বিমানের ছয় পাইলটের বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করে। ওই ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে বাপা আদালতের দ্বারস্থ হয়। এরপর আদালত বিমান কর্তৃপক্ষ দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে সমঝোতার নির্দেশ দিলেও তারা তা করেননি। সমপ্রতি আরবিশেন কোর্টে বিমানের ওই আদেশকে বেআইনি ও অবৈধ বলে রায় দেয়া হয়। সেই সঙ্গে ওই আদেশকে কেন্দ্র করে আরও যেসব প্রশানসিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তা-ও বেআইনি বলে রায় দেয়া হয়। ফলে বয়স বাড়ানো পাইলটদের বিমানে আর রাখার সুযোগ না থাকায় বিমান এক আদেশে তাদের চাকরি থেকে অবসরে পাঠায়। বিমানের পরিচালনা পরিষদ তা অনুমোদন করে। উল্লেখ, এর আগে বিমানের পরিচালনার পরিষদের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে ওই সময়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এয়ার কমোডোর (অব.) জাকিউল ইসলাম পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরই নতুন এমডি ও সিইও নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক খান মোশাররফ হোসেন বলেন, এই প্রথমবারের মতো বিদেশীদের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বেশ কয়েকজন আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কর্তৃপক্ষ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট