Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জার্মান দুর্গ ভেঙে তছনছ করে দিলো বালোতেলিরা

ওয়ারশ, ২৯ জুন: ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, এবারের ইউরোয় ফাইনাল খেলবে স্পেন আর জার্মানি। বিরতিতে যখন জার্মানি ০-২ পিছিয়ে গেল তখনই প্রমাণিত হলো ফুটবলে অন্তত ভবিষ্যদ্বাণী খাটে না।”আর এটাই ফুটবল খেলাটার মজা।

প্রায় ক্ল্যাসিকের পর্যায়ে উত্তীর্ণ এই ম্যাচটায় অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলল ইতালি। জার্মান ডিফেন্সকে নিয়ে একটা সময় ছিনিমিনি খেলল। অন্য দিকে এবারের ইউরোয় যে জার্মানিকে এতদিন দেখা গেছে, সেই জার্মানিকে চেনাই যায়নি। ৪-২-৩-১ ছকে নেমেছিল জার্মানি। সামনে স্ট্রাইকার মারিও গোমেজ। প্রথমার্ধে ওকে শুধু দর্শক মনে হলো।

অন্য দিকে বালোতেলি। বরাবরই খামখেয়ালি স্ট্রাইকার। আগের দিনই বেশ কিছু নিশ্চিত গোল মিস করেছে। কিন্তু যেদিন খেলে অপ্রতিরোধ্য। প্রথম গোলটার কথা ভাবুন। দু’জনকে কাটিয়ে কাসানোর চমৎকার ক্রসটায় প্রায় চিলের মতো ছোঁ মেরে মাথা ছোঁয়ানো। আর দ্বিতীয় গোলটা বক্সের মাথা থেকে মারা একটা মিসাইল। ন্যুয়ের নড়ারও সময় পায়নি। সত্তর মিনিট মাঠে ছিল বালোতেলি, আসল কাজটা ঠিক করে দিয়ে গেল। দুটো গোলের সময়েই জার্মান ডিফেন্সকে নড়বড়ে লেগেছে। ইনজুরি টাইমে পেনাল্টিতে গোল করে জার্মানির ওজিল ১-২ করেছিল। কিন্তু কখনও মনে হয়নি, জার্মানরা জিতবে। গত সত্তর বছরে বড় টুর্নামেন্ট হলেই ইতালি জার্মানিকে হারিয়েছে। গত সাতটা ম্যাচে ইতালি ওদের কাছে অপরাজিত। এই ইতিহাসটা পাথর হয়ে বসেছিল জার্মানির কাঁধে। নইলে এ ভাবে আত্মসমর্পণ করে কেউ?

দ্বিতীয়াধের্র শুরুতেই পোডোলস্কি আর গোমেজকে বসিয়ে ক্রুস আর ক্লোসেকে নামিয়েছিলেন জোয়াকিম লো। কিন্তু সমস্যা হলো, এত বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে ০-২ পিছিয়ে পড়লে ফেরা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যদি না খেলায় চমকপ্রদ কিছু থাকে। সেরকম চমক জার্মানির মতো টিমের কাছেই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু পাওয়া যায়নি। সোয়াইনস্টাইগার সাধারণ মাঝমাঠটা নিয়ন্ত্রণ করে, সঙ্গে থাকে মেসুট ওজিলের জাদু। যেখান থেকে ম্যাচটা ধরে জার্মানি। প্রথমার্ধে তার বদলে মাঝমাঠটা শাসন করল পির্লো আর দি রোসি। এই টুর্নামেন্টে প্রতি ম্যাচে পির্লো মুগ্ধ করেছে। এই মুহূর্তে ও-ই বিশ্বের সেরা গেমমেকার। সেমিফাইনালেও দেখা গেল, যেখানে বল সেখানেই পির্লো। এমন ফুটবলার যেকোনো কোচের কাছে সম্পদ।

যেকোনো ফুটবল কোচ সব সময়ই ফর্মেশনের ব্যাপারে নতুন কিছু খুঁজবেন। একটা আয়তক্ষেত্রাকার মাঠে বাইশ জন লোক। এগারো জনকে কিভাবে সাজাবেন বা কিভাবে সাজালে বিপক্ষ যেভাবে সাজিয়েছে, তার চেয়ে অন্যরকম হবে, যাতে হাতে থাকা পুঁজিগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটা একটা ধাঁধার মতো। কোনো সন্দেহ নেই, এই ধাঁধার চমকপ্রদ সমাধান ইউরো সেমিফাইনালে পেশ করলেন ইতালি কোচ প্রান্দেলি। টানা ১৫টা ম্যাচ জিতে ওঠা দুর্দান্ত ফুটবল খেলা জার্মানিকে আটকে দিলেন। অন্য দিকে গোটা টুর্নামেন্টে তার স্ট্র্যাটেজি কাজে দিলেও সেমিফাইনালে আগে স্ট্রাইকার হিসেবে গোমেজকে নামিয়ে ডুবলেন লো।

ইতালির বিশ্বজয়ী টিমের কোচ লিপ্পি পির্লো সম্পর্কে একটা কথা বলেছিলেন। সাইলেন্ট লিডার মানে নীরব নেতা। যে পা দিয়ে কথা বলে। এবারে ইউরোয় ইতালি টিমটা যে আস্তে আস্তে ‘পিক’ করল, তার পিছনের কারিগর কিন্তু পির্লো। ম্যাচের একেবারে শুরুতে জার্মানি এগিয়ে যেতে পারত এবং গোললাইনে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তে বল বাঁচিয়ে দেন পির্লোই। সঙ্গে বলতেই হবে বুফোঁর কথা। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের জন্য জার্মানি যখন মরিয়া, রুসের দুর্দান্ত ফ্রিকিকে অবিশ্বাস্য সেভ বুফোঁর। আসলে নিজেদের দেশে ফুটবল গড়াপেটা বিতর্কে বিপর্যস্ত হলে কী হবে, ইতালি বড় টুর্নামেন্টে ঠিক নিজেদের মেলে ধরল। শুরুতে ভালো খেলতে না পারলেও যত সময় গেল, ওদের খেলা খুলল।

এখন খুব স্বাভাবিক প্রশ্ন, ফাইনালে কী হবে? এই ইতালির পক্ষে কি স্পেনকে হারানো সম্ভব? ওরা সেমিফাইনালে যে ফুটবল খেলল, অবশ্যই সম্ভব।বলা হচ্ছিল, স্পেন আর জার্মানি ফাইনাল খেলবে।কিন্তু ইতালি সবাইকেই চমকে দিয়েছে। ‘গোল খাব না’ এখন আর ইতালির ফুটবলে প্রধান কথা নয়, তার বদলে ইতালিও খেলছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। এমন ফুটবল যেটা চোখ টেনে নিচ্ছে, নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কোচেদের। সূত্র: ওয়েবসাইট।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট