Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কালো টাকা সাদার সুযোগ দিয়ে অর্থবিল পাস

ঢাকা, ২৭ জুন: ব্যক্তি পর্যায়ে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়কর মুক্ত করা, কালো টাকা সাদা করা ও সব ধরনের মদের ওপর ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপের বিধান রেখে প্রস্তাবিত ২০১২-১৩ অর্থ বছরের বাজেটে সংসদে অর্থবিল ২০১২ পাস হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে বিলটি পাস হয়। এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সংসদের নির্ধারিত দিনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিলটি পাসের জন্য প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর আগে বিলটির ওপর আনিত জনমত যাচাই এবং সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইলের ওপর দুই শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করা হয়। পাসকৃত বিলে এই সারচার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ সংশোধন হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী সাত লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার কর প্রদান করতে হবে না। সাত লাখ টাকার ওপর থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত দুই শতাংশ হারে টার্নওভার কর প্রদান করতে হবে।

কালো টাকা সাদার করার বিষয়ে পাসৃকত অর্থ বিলের ৫৮ ধারার বিধান অনুযায়ী ব্যক্তি করদাতা ইনকাম-ট্যাক্স অর্ডিনেন্স ১৯৮৪ এর সেকশন ৮০ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির প্রদর্শিত নিট সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি টাকার অধিক হলে সেই রূপ ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে আয়কর প্রদান করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ হারে সারচার্জ প্রদান করতে হবে।

বিলে আগামী অর্থ বছরের জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়নি। চলতি অর্থ বছরের ন্যায় আগামী অর্থবছরেও এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়কর মুক্ত থাকবে। তবে মহিলা করদাতা এবং ৬৫ উর্ধ্ব বয়সের করদাতার করমুক্ত আয় সীমা দুই লাখ টাকা এবং প্রতিবন্ধী করদাতার করমুক্ত আয়সীমা দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা  নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থবিলে মোবাইল সিম অথবা রিম কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী যদি সিম অথবা রিম কিংবা এ জাতীয় অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ করে মাইক্রোচিপ, সিডিএমএ বা অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ হারে সম্পুরক শুল্ক প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

মোটরগাড়ি এবং অন্যান্য মোটরযানের সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি এক হাজার ৫০০ সিসি পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ হারে, এক হাজার ৫০১ সিসি থেকে এক হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ১০০ শতাংশ হারে, এক হাজার ৮০১  থেকে দুই হাজার সিসি পর্যন্ত ১৫০ শতাংশ হারে, দুই হাজার এক সিসি থেকে দুই হাজার ৭৫০ সিসি পর্যন্ত ২৫০ শতাংশ হারে, দুই হাজার ৭৫১ সিসি থেকে চার হাজার সিসি পর্যন্ত ৩৫০ শতাংশ হারে এবং চার হাজার সিসির উর্ধ্বে সকল যানবাহনের জন্য ৫০০ শতাংশ হারে সম্পুরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বিলে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং গ্যাসীয় অবস্থায় আমদানিকৃত সামগ্রীর ওপর ১০০ শতাংশ সম্পুরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফিনিশড চকলেট বা এ জাতীয় অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ সম্পুরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়া কোমল পানীয়, নন অ্যালকোহলিক বিয়ারের ওপর ১৫০ শতাংশ সম্পুরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তাজা আঙ্গুরের মদ, ফর্টিফাইড মদ, ভারমুথ ও তাজা আঙ্গুরের তৈরি মদ, অন্যান্য গাজানো পানি বা মদের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পুরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

অর্থ বিলে নিবন্ধনৃকত প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সিগারেট পেপার অথবা বুকলেট অথবা টিউবের আকারে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ এবং অনিবন্ধিত আমদানিকারকের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ সম্পুরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

তামাকের তৈরি সিগাররেট, চুরুট ও অযান্ত্রিক উপায়ে তৈরি বিড়ি, অন্যান্য প্রস্তুতকৃত তামাক এবং সমজাতীয় পদার্থের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ এবং তামাকের তৈরি সিগারেটের ওপর ৩৫০ শতাংশ হারে সম্পুরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

কসমেটিক্স তথা সকল প্রকার সুগন্ধী, প্রসাধনী পানি, সৌন্দর্য অথবা প্রসাধন সামগ্রী, ত্বক পরিচর্যার প্রসাধন সামগ্রী (ঔষধ ব্যতীত) সানস্ক্রিন বা সানট্যান সামগ্রী, হাত, নখ বা পায়ের প্রসাধন সামগ্রীর ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ হারে সম্পুরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি টয়লেট পেপার, টিস্যু পেপার, টাওয়েল, নেপকিন পেপার বা সমজাতীয় পণ্য, গৃহস্থালী, সেনিটারি বা অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত পণ্যের ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ হারে সম্পুরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে – জীবন্ত ঘোড়া, গাদা, গবাদি পশু, শুকর, ভেড়া ছাগল, পাখি, হাস, আড়াই কেজি পর্যন্ত পশুর মাংস, মাছ, দুধ, ননী, মিষ্টি জাতীয় পদার্থসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। এছাড়া ধারনের জন্য মৌলিক সেবা, সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রম, সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সামগ্রী ক্রয়ে কোনো মূল্য সংযোজন কর দিতে হবে না।

মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ সংশোধিত আইন অনুযায়ী কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি বা উৎসে মূল্য সংযোজনর কর কর্তনকারী আইনের অধীন প্রদেয় বা উৎসে কর্তিত কর অথবা আরোপিত অর্থদণ্ড অথবা অন্য কোনো পাওনা নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পরিশোধ বা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করতে ব্যর্থ হলে তাকে নির্ধারিত তারিখের পরবর্তী দিবস হতে অপরিশোধিত পরিমাণের ওপর মাসিক দুই শতাংশ হারে সুদ প্রদান করতে হবে।

তবে শর্ত থাকে যে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো মামলা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০১২-১৩ অর্থ বছরের আর্থিক ব্যয় নির্বাহ এবং কতিপয় আইন সংশোধনের জন্য এই অর্থবিলটি সংসদে পাস করা হয়। তবে অর্থবিল পাসের সময় যথারীতি বিরোধীদল ছিল অনুপস্থিত।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট