Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ডায়েরির পাতাজুড়ে তামান্নাকে নিয়ে যত লেখা

‘TO LOVE IS TO WAIT WITH PAIN’, ‘অকারণে সৃষ্টি হয় যে কারণ, কারণে হয় না কখনও নিবারণ’- এমনই সব উদ্ধৃতি দিয়ে ডায়েরির শুরু। এরপর ডায়েরির প্রায় সব পাতায়ই সানজিদা আক্তার আশা ওরফে রিফাহ্‌ তামান্নাকে নিয়ে নানা কথা, তার সঙ্গে সম্পর্কের নানা স্মৃতি। ফোনে আলাপ, প্রথম দেখা, মা-বোনের সঙ্গে পরিচয়, বিভিন্ন স্থানে ডেটিং, সেক্স বিষয়ে আলাপ, বিয়ে, বিয়ে পরবর্তী সম্পর্ক, অপবাদ, নানা টানাপড়েন। দু’জনার সম্পর্কের বিভিন্ন পর্বের স্মৃতিগুলো দিন তারিখ সময় পর্যন্ত উল্লেখ করে লিখে রেখেছে মিরাজ।
মিরাজ লিখেছে, ২০১১-এর ২২শে ফেব্রুয়ারি তার স্মরণীয় দিন। এদিন প্রথম দেখা হয় তামান্নার সঙ্গে। এরপর ৮ই মার্চ। ২৬শে মার্চ মায়ের সঙ্গে দেখা। এভাবে নানা পরিক্রমায় বছর পেরিয়ে চলতি বছর ১০ই এপ্রিল একমত হয় দু’জন। এ বছরই ২৩শে এপ্রিল তাদের বিয়ে হয়। গত ৩রা জুন তারা দেখা করে স্থানীয় ব্যাপ্টিস্ট চার্চে। ১৩ই জুন শহরের সেন্ট্রাল হাসপাতালে বোন ও মায়ের সঙ্গে তামান্নাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। এ দিনের ডায়েরিতে ‘জীবন, পরিবার ও নিজের মধ্যে কে প্রাধান্য পায় বা পায় না এসব বিষয়ে ছক করে মিরাজ। ১৭ই জুন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ‘ফিজিক্যাল মিট’ হয় তাদের। তামান্নার জন্য আজীবন অপেক্ষায় থাকার কথাও লেখে সে। ১৯শে জুন স্থানীয় ডায়াবেটিক হাসপাতালে দুপুর দেড়টায় ফের দেখা করে তারা। এর আগে ১১ই মে সম্ভবত মিরাজকে গালমন্দ করে অপবাদ দেয় তামান্নাদের বাড়ির কেউ। ভাঙা ভাঙা লেখায় অনুমান করা যায়, মিরাজ তামান্নাকে ফোন করলে তার মা ফোন তুললেও কথা বলেন মামা। ‘কর্ণপাত করেনি রিফাহ্‌ তামান্না’- এমনই লেখা ডায়েরিতে। ১৮ই মে মিরাজের খুব মন খারাপ থাকে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর্বগুলো সে ‘ধূমপান-এমফাইসিমা-মিরাজ-মৃত্যু’ এভাবে বর্ণনা করে। ৮ই মার্চ মিরাজ লেখে সেক্স বিষয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে ওপেন ডিসকাসন হয়। এ বিষয়ে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে প্রথম আলাপের কথা জানা যায় ২রা এপ্রিল। এরপর ৭ই এপ্রিল সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মিরাজের কক্ষে এসে তামান্না দেখা করে। ২৩শে মার্চ তামান্নাকে খুব মিস করে সে।  ডায়েরিতে লিখেছে “মানুষের বড় কাজ লড়াই করে যাওয়া, সাফল্য আল্লাহর দান।”
মিরাজের রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া এই ডায়েরির পাতাগুলোই এখন তার চেপে যাওয়া যত কষ্টের স্মৃতি বয়ে চলেছে। মন বিষিয়ে তুলেছে মিরাজের ঘনিষ্ঠ মেস-মেট ও কলেজ বন্ধুদের। সবার কেবল একটাই জিজ্ঞাসা, কার ভুলে বা অবহেলায় অকালে প্রাণ গেল মিরাজের। ২২শে জুন নিখোঁজের মাত্র ৩ দিন আগেও দেখা হয়, কথা হয় মিরাজের প্রেমিকার সঙ্গে। এরও ২ দিন আগে ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে সময় কাটে দু’জনের। এরপর কি এমন ঘটনা ঘটলো যে মৃত্যুর পূর্বক্ষণে ৪০বার ফোন করেও সাড়া পেলো না প্রেমিকার। শেষ একটিবারের জন্যও পাগলপারা প্রেমিক স্বামীর মুখটি দেখতে মন চাইল না পাষাণী প্রেমিকার। কেনই-বা মিরাজ নিজের মৃত্যুর জন্য হঠাৎ রাতারাতি ছুটে গিয়েছিল সুদূর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে। নেপথ্যে কারও ইন্ধন না-কি অন্য কিছু ছিল! গতকাল বিকালে ফরিদপুরের গ্রাসরুট টেক্সটাইল কলেজে মিরাজের আত্মার মাগফিরাতের জন্য মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান করেছে সহপাঠীরা।
উল্লেখ্য, ফরিদপুর গ্রাসরুট টেক্সটাইল কলেজের ৪র্থ বর্ষের ফার্স্ট বয় মনিরুজ্জামান মিরাজ মুন্সী গত শুক্রবার রাতে শহরের ছাত্র-মেস থেকে নিখোঁজের পরদিন শনিবার সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে রেল লাইনের ওপর তার দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় জিআরপি থানা পুলিশ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to ডায়েরির পাতাজুড়ে তামান্নাকে নিয়ে যত লেখা

  1. Mehedi Hasan Nill

    June 27, 2012 at 10:50 am

    Eta2 akabareay porisker je Tamannake tr family atkea rake ay joghonnotoma kaj korace.ey jonno Tamannake dos dea asole kno lav ni.karon meara poristeter siker.mear maa baba jokon brain wash kore tokhon meader mon emnye change hoy…..2obe jara ey kaj korace tader dhore dristanto mulok sasti deoa hok.ami mone kore mear familyke ak2 valovabe gigasabad kora uchet………..