Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ঘুমন্ত সহপাঠীর গলা কেটে পালালো সাইফুর

 ‘গলায় তখনও ছুরি গেঁথে। ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছে। আর সেই রক্ত গিয়ে পড়ে ঘুমন্ত সহপাঠীদের নাকে-মুখে। এতে  ঘুম থেকে জেগে ওঠে সহপাঠীরা। তারা চোখ মেলেই তাকিয়ে দেখে তাদের বন্ধু আমির আব্বাস বাঁচার চেষ্টা করছে। গলায় আটকানো ছুরি খুলে বের করতে বার বার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু পারলো না। এভাবে কিছু সময় করার পর ধপাস করে মাটিতে পড়ে নিথর হয়ে যায় আব্বাসের দেহ। আর রক্তে ভরে যায় চারদিক।’ এভাবেই গতকাল সোমবার ভোররাতে সিলেটের দরগাহ মাদরাসার মেধাবী ছাত্র আমির আব্বাস সহপাঠীদের চোখের সামনেই মারা যায়। একই কক্ষে থাকা আমির আব্বাসের সহপাঠীরা আমির আব্বাস খুনের ঘটনার বিবরণ দেয় এভাবে। ঘটনাস্থল সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহস্থ ক্বাসিমুল উলুম মাদ্‌রাসার হিফজ শাখার ছাত্রাবাসে। মাদ্‌রাসার আবাসিক হোস্টেলের ১৬ নং কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। খুন হওয়া আমির আব্বাসের পাশেই ঘুমিয়ে ছিল তার বন্ধু সাইফুর রহমান। দুই জনই সমবয়সী। আর এই সাইফুর রহমান ঘুমন্ত আমির আব্বাসকে খুন করে ভোররাতেই মাদরাসা থেকে পালিয়েছে। খুনের ঘটনায় দরগাহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত আব্বাসের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে দরগাহ এলাকার পরিবেশ। ক্বাসিমুল উলুম মাদরাসার হিফজ শাখায় ৭০ জন ছাত্র। এদের বসবাস ও খাওয়ার জন্য দরগাহের ঝরনার পাড় এলাকার ফটকের পাশে একটি ছাত্রাবাস। এতে গাদাগাদি করে থাকে ছাত্ররা। রোববার রাতে একটি কক্ষে ঘুমায় ৩৪ জন ছাত্র। এদের মধ্যে নিহত আমির আব্বাস ও সাইফুর রহমানও ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা গতকাল জানান, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে মাদরাসার হিফজ শাখায় পড়ালেখা করছে শাহ্‌ সাইফুর রহমান ও আমির আব্বাস। তারা এখন মাদরাসার হিফজ বিভাগের শেষ বর্ষের (দাওরার) ছাত্র। দুই জনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এক সঙ্গে খাওয়া, এক সঙ্গে নাওয়া, এক সঙ্গে পড়ালেখা সবকিছু। সুসম্পর্কের কারণে তাদের মধ্যে কি এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তারা জানে না। তবে আমির আব্বাসকে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশতে নিষেধ করতো সাইফুর রহমান। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সময় তারা ঘুমিয়ে ছিল। আব্বাসের গলা কাটার পর রক্ত ছিটকে পড়লে কয়েক ছাত্রের ঘুম ভেঙে যায়। এরপর দেখা যায় বাঁচার জন্য আমির আব্বাস গলায় ধারালো ছোরা লাগানো অবস্থায় বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মেঝেতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তার সহপাঠীরা। এরই মধ্যে সাইফুর উধাও হয়ে যায়। পরে ঘটনাটি মাদরাসার হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ক থেকে শুরু করে সকলেই জানতে পেরে ঘটনাস্থলে হাজির হন।
আমির আব্বাস (১৮) সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থানাধীন ভাদেরটেক গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুস সালামের পুত্র। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি  কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও নিহতের বাড়িতে মোবাইল ফোনে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ও নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দু’টি ছোরা উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের বড় ভাই আমির হামজা জানান, আমির আব্বাস হিফজ বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিল। কয়েকদিন পর তার হাফিজ হয়ে বেরুনোর কথা। সে সুবাদে গতকাল সোমবার আরেকটি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল তার। তিনি বলেন, জানি না আমার ভাই এমন কি দোষ করেছে যে তাকে হত্যা করতে হবে। তিনি খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী  কোতোয়ালি থানার এস আই শাহ্‌ মো. মোবাশ্বির জানান, হত্যাকাণ্ড ঘটাতে খুনি ফল কাটার দু’টি ছোরা নিয়ে আসে। কিন্তু এর মধ্যে একটি ছোরা দিয়ে তাকে জবাই করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে তিনি একথা উল্লেখ করেন। তার ধারণা ওই দুই ছাত্রের মধ্যে সমকামিতার ঘটনায় বাধা দানের কারণে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। খুনের দায়ে অভিযুক্ত শাহ্‌ সাইফুর রহমান (২০) ওসমানীনগর থানার গলমুকাপন গ্রামের (পীরবাড়ি) শাহ্‌ মতিউর রহমানের ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ তাকে ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুরতহাল প্রতিবেদনের পর লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাদরাসার হোস্টেল সুপার হাফিজ আহসান উল্লাহ জানান, হিফজ বিভাগে ৭০ জন ছাত্র। এর মধ্যে হোস্টেলে অবস্থানকৃত ৪৭ ছাত্রের মধ্যে ওই কক্ষে ছিল ৩৪ ছাত্র। তাদের মধ্যে আমির আব্বাস ছিল সবচেয়ে মেধাবী। তবে পলাতক ছাত্রকে সরাসরি তারা খুনের দায়ে অভিযুক্ত করছেন না। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় ছাত্র শাহ্‌ সাইফুর রহমান জড়িত থাকতে পারে এমনটি সন্দেহ করছেন তারা। মাদ্‌রাসার মুহতামীম হাফিজ আবুল কালাম জাকারিয়া জানান, হিফজ বিভাগের ১৬নং কক্ষে ৩৪ জন ছাত্র থাকতো। খুনি পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, মাদরাসার প্রধান ফটক রাতের বেলা বন্ধ থাকে। তবে ফজরের নামাজের আগে ওই ফটক খুলে দেয়া হয়। এ কারণে খুনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট