Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পিছিয়ে যেতে পারে মিয়ানমার প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর!

কালোছায়া পড়েছে ঢাকা-নেপিড’ কূটনৈতিক সম্পর্কে। রোহিঙ্গা ও সীমান্ত সমস্যাসহ দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো সমাধানের আলোচনা যখন চূড়ান্ত হওয়ার পথে তখন হঠাৎ করেই সব থেমে গেছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধানের সফর- সবই আটকে গেছে। সম্পর্ক উন্নয়নে উদ্যোগ শীর্ষ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী ১৫ই জুলাই ঢাকা আসার কথা ছিল মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন-এর। আর ওই সফর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জুলাই প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় দু’দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ফরেন অফিস কনসালটেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাতে এখন আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না নেপিড’। প্রস্তুতি বৈঠকে না হওয়ায় প্রেসিডেন্টের সফর পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র বলছে, গত ৮ই জুন দেশটির রাখাইন প্রদেশে শুরু হওয়া জাতিগত দাঙ্গার পর রোহিঙ্গা ইস্যুতে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে যেমন কালোছায়া পড়তে শুরু করেছে, তেমনি সফর নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এখনও জোর দিয়ে বলছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২২শে জুন ঢাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এতে মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনীর প্রধান থিন মাই যোগ দেবেন বলে ঢাকাকে নিশ্চিত করেছিল নেপিড’। বৈঠকে দুই বাহিনীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে বৈঠক হয়নি। এর আগে রোহিঙ্গা ইস্যুতে পতাকা বৈঠকের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। কিন্তু তাতেও সাড়া দেয়নি নাসাকা। মিয়ানমার প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকে সামনে রেখে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’-এ দু’দেশের মধ্যে বিজনেস কাউন্সিল গঠন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ বৈঠকে তাদের আগ্রহ না থাকায় সে আয়োজনও ভেস্তে যেতে বসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংও গত মাসের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমার সফর করেছেন। দেশটির গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ অবস্থা মিয়ানমার প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল দু’পক্ষই। কূটনৈতিক অঙ্গনেও ছিল ইতিবাচক আলোচনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, মিয়ানমারের এই উন্নয়নের অংশীদার হতে বাংলাদেশও চেষ্টা করছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী গত ডিসেম্বরে মিয়ানমার সফর করেন। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের ফিরতি সফরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে অগ্রগতির আশা ঢাকার। এছাড়া উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি সংযোগ সড়ক স্থাপন, বাণিজ্য বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সমস্যা, দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল, গ্যাস ও বিদুৎ আমদানিসহ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলোর আলোচনা প্রধান্য পাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সফর পিছিয়ে গেলে মিয়ানমারের সঙ্গে ৪০ বছর ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাগুলো সেই তিমিরেই থেকে যাবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট