Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হঠাৎ কৌশল বদল বিএনপি’র

তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আলটিমেটাম ও নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবিতে রাজপথে উত্তাপ সৃষ্টির পর হঠাৎ কৌশল বদল করেছে বিরোধী দল। আলটিমেটাম শেষে ১১ই জুনের সমাবেশ থেকে কড়া আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণার কথা বলেছিলেন তারা। সে অনুযায়ী জনসম্পৃক্ততামূলক কিছু কর্মসূচিও প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু ১১ই জুন সকালে পাল্টে যায় সবকিছু। নমনীয় হয়ে ‘ধীরে চলো নীতি’ অবলম্বন করে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। সমাবেশে অংশ নিলেও কড়া কর্মসূচি ঘোষণা থেকে বিরত থাকেন জোট নেতা খালেদা জিয়া। বর্ষাকাল ও আসন্ন রমজানকে ‘ধীরে চলো নীতি’র কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও নেপথ্যে রয়েছে আরও কিছু ঘটনা। বিএনপি সূত্র জানায়, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলা, নেতাদের আত্মগোপন কৌশলে প্ররোচিত করা এবং মামলা পরিচালনার ধরন সহ নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে সমপ্রতি নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তার ভূমিকা নিয়ে দলের নানামহলে প্রকাশ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। গণমাধ্যমেও মওদুদের ভূমিকা নিয়ে নেতাকর্মীদের সন্দেহ ও অসন্তোষের কথা প্রকাশ পায়। হরতালে গাড়ি পোড়ানো ও সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় বিএনপি’র শীর্ষপর্যায়ের নেতারা কারাবন্দি থাকাকালে দলের মুখপাত্র হিসেবে দেখা দেন তিনি। কিছুদিন পরে প্রথমে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং পরে তরিকুল ইসলামকে অঘোষিত মুখপাত্রের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া। এতে মওদুদ আহমদ মনঃক্ষুণ্ন হন। একপর্যায়ে তিনি বিরোধী নেতা খালেদা জিয়াকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন দলের নানামহলে তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের যে আলোচনা হচ্ছে তা না থামালে তিনি অবস্থান পাল্টাতে বাধ্য হবেন। কারণ মামলাসহ নানা কারণে ঝুঁকি নেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমঝোতার পথে হাঁটাই দলের কৌশল হওয়া উচিত। তাই তিনি মধ্যপন্থায় কাজ করছেন।  আর সেই সমঝোতামূলক মনোভাবের অংশ হিসেবেই মুক্তি পেয়েছেন বিরোধী দলের ৫ এমপি। ব্যারিস্টার মওদুদ ওয়ান ইলেভেনের পরিস্থিতি তুলে ধরে খালেদা জিয়াকে জানান, নতুন করে নেতারা বিভক্ত হলে তা সামাল দেয়ার উপায় থাকবে না। তখন সরকার নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার দোহাই দিয়ে নিজেদের অধীনে আগাম নির্বাচন আয়োজন করে বিএনপিকে সে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারে। তাতে অংশ নিতে পারে দলের বড় একটি অংশ। এমনকি সরকার খালেদা জিয়াসহ জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার গেরো টেনে পুরো জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকেই একটি অস্তিত্বের সঙ্কটে ফেলে দিতে পারে। এ অবস্থায় রাজনীতিতে মওদুদের স্বভাবসুলভ অবস্থান ও তার নেতৃত্বে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও সংস্কারপন্থি কিছু নেতার তৎপরতার খবর পান খালেদা জিয়া। এছাড়া, দলের আরেকটি অংশ যারা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না- তারা সার্বিক পরিস্থিতিতে একটি পর্যবেক্ষণকারীর ভূমিকায় অবস্থান করছেন। কর্মসূচিতে নিজেদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা অনুযায়ী ভূমিকা রাখছেন না। ফলে তাদের গতিবিধি নিয়েও সন্তুষ্ট নন খালেদা জিয়া।
বিএনপি সূত্র থেকে জানা গেছে, ১১ই জুন সকালে একটি ভিন্ন পরিস্থিতি আঁচ করতে পারেন খালেদা জিয়া। বিশেষ সূত্রে জানতে পারেন সমাবেশ থেকে বিরত রাখতে তাকে গৃহবন্দি করা হতে পারে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে। সেই সঙ্গে আটকে দেয়া হবে কারাবন্দি কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তি। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি দ্রুত বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের সহায়তা চান। খালেদা জিয়ার পক্ষে এই দৌত্যের ভূমিকায় নামেন জোটের শরিক দলের এক তরুণ এমপি। অন্যদিকে দুটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন সাবেক উপদেষ্টা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা সরকারের কিছু শর্ত নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গেও কথা বলেন। তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়া হয়, হরতাল-অবরোধ, জেলা সফরের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা যাবে না। সে ধরনের কিছু করা হলে সরকার আরও কঠোর অবস্থানে যাবে। পরে মৌখিক কিছু অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। ওদিকে দলের ভাঙন ঠেকানো ও সরকারের মামলা কৌশল মোকাবিলায় অনেকটা বাধ্য হয়েই নমনীয় অবস্থান নেয় বিরোধী দল। এর প্রেক্ষিতে সমাবেশে অংশ নিলেও খালেদা জিয়া অবরোধ ও জেলা পর্যায়ে তার নেতৃত্বে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা থেকে বিরত থাকেন। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে আন্দোলনের মেজাজ ধরে রাখতে আগামী মধ্য জুলাই পর্যন্ত ধারাবাহিক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে রমজানের পর নতুন উদ্যমে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। জোট সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশ থেকে মাঝারি ধাঁচের কিছু কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। তিনি সেগুলো গ্রহণও করেছিলেন। তবে ১১ই জুন একপর্যায়ে সমাবেশে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে তিনি সমাবেশে অংশ নিলেও সিদ্ধান্ত নেয়া কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেননি।
এদিকে কারামুক্তির পর দলভাঙার আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিযোগিতা। সব দলেই এটা থাকে। তিনি বলেন, সরকার বিরোধীদলকে দুর্বল করতে অগণতান্ত্রিক পন্থায় নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, এখন বড় কর্মসূচি দেয়া হলে নৈরাজ্যের ঘটনা দেখিয়ে সরকার নতুন মামলা দেবে। সেই সঙ্গে পুরনো মামলা নিয়ে বিরোধী নেতাদের রাজনৈতিকভাবে কব্জা করবে। এমন কিছু ঘটনা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। তিনি দলের কিছু নেতার সন্দেহজনক ভূমিকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নানা কৌশল অবলম্বন করছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে মামলায় জর্জরিত। মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের অনেককে মানসিকভাবে দুর্বল করা হচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট