Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এমপি একরামুল করিমের পদত্যাগ, এতটা অপমানিত হয়ে রাজনীতি করা যায় না

দলীয় পদ থেকে এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা। এ নিয়ে তার নিজ এলাকা নোয়াখালীতে চলছে চরম উত্তেজনা। কি কারণে তিনি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ ছাড়লেন? এর নেপথ্যে কি? নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। শুধু দলীয় পদই নয়, একরামুল করিম রাজনীতি ছেড়ে দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এএইচএম খায়রুল আনম সেলিমের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সভাপতি মিটিং আহ্বান করেন। এরপরই জানাজানি হয় বিষয়টি। একরামুল করিমের সমর্থকরা নোয়াখালীতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নোয়াখালী। এসপির সমর্থকরা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। এতে সভা পণ্ড হয়ে যায়। কিন্তু কি কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিলেন? এমপি একরামুল করিম বলেন, একজন ওসি’র কাছে লাঞ্ছিত হয়ে দলের হাই কমান্ডের কাছে বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু ৪ মাসেও আমি বিচার পাইনি। এতে আমি কষ্ট পেয়েছি। মনোবেদনা নিয়ে দলের কাছে অব্যাহতি চেয়েছি। তিনি বলেন, এতটা অপমানিত হয়ে রাজনীতি করা যায় না। ওদিকে নোয়াখালীতে কর্তব্যে অবহেলার দায়ে সুধারাম থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগ ওসি মনিরুজ্জামানের বিচার না হলে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। ঘটনাটি গত ২২শে মার্চ রাতের। সেদিন একরামুল করিম চৌধুরীর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল ধানমন্ডিতে। পাত্র ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম আবদুস সাত্তার ভুঁইয়ার পুত্র ব্যারিস্টার আহসান। বিয়ের অনুষ্ঠানে কয়েকটি আতশবাজি ফুটিয়েছিল পাত্র পক্ষের ক’জন কিশোর। আতশবাজি ফুটানোর কারণে ক্ষিপ্ত হন সে সময়কার ধানমন্ডি থানার ওসি মনিরুজ্জামান। একদল পুলিশ নিয়ে ওসি মনিরুজ্জামান অভিযান চালান পাত্র পক্ষের বাড়িতে। গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন বাড়ির কয়েকজন সহ বেশ কিছু অতিথিকে। আতশবাজি ফুটানোর কারণে ওসি মনিরুজ্জামানের কাছে ভুল স্বীকার করে গ্রেপ্তারকৃতদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন একরামুল করিম চৌধুরী এমপি। ওসি রাজি হননি। তাদের সবাইকে থানায় নিয়ে যান। এরপর এমপি একরামুল করিমও তাদের ছাড়িয়ে আনতে থানায় যান। নিজেকে আওয়ামী লীগের এমপি পরিচয় দেয়ার পর ওসি ক্ষেপে ওঠেন। বলেন ‘আমি গোপালগঞ্জের ওসি, এমপি গোনার সময় নেই। আত্মীয়দের ছাড়িয়ে আনতে সারা রাত থানায় বসে থাকেন তিনি। সকালে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সংসদের হুইপ মির্জা আজম ধানমন্ডি থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। এমপি একরামুল করিম বলেন, আমি গোপালগঞ্জের ওসি। এমপি গোনার সময় নেই কথাগুলো বলতে বলতে থানার ভেতরে পাঁয়চারি করছিলেন ওসি মনিরুজ্জামান। বারবার অনুরোধ করেও তাকে কোন কথাই শুনাতে পারছিলাম না। আমি আওয়ামী লীগের এমপি পরিচয় দিয়েও কোন লাভ হয়নি। সারা রাত বাসে ছিলাম ধানমন্ডি থানায়। সকালে মির্জা আজম গিয়ে আমাকে থানা থেকে নিয়ে আসেন। একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর ওসি’র আচরণ নিয়ে বিচার চেয়ে যোগাযোগ মন্ত্রী আমার নেতা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদেরের কাছে নালিশ জানাই।  কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি কোন বিচার পাইনি। ক্ষমতাসীন দলের একজন এমপি হয়ে একজন ওসি’র কাছে লাঞ্ছিত হয়ে কোন বিচার পাবো না এটাকে আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অপমান মনে হয়েছে। সে কারণে মনের কষ্টে আমি দল থেকে অব্যাহতি চেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছে পত্র দিয়েছি। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনি দল থেকে পদত্যাগ করলে তাতে তো আপনার আসন শূন্য হয়ে যাবে। আপনি এমপি পদ হারাবেন? একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, এটা আমি জানি, তাছাড়াও শুনছি দলের হাই কমান্ড আমার ওপর নাখোশ। আমার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। আমার কথা হলো, যে কোন ব্যবস্থা হাইকমান্ড নিক। বাকি জীবন গ্রামে বসে কাটাবো, আর রাজনীতিই করবো না। ক্ষমতাসীন দলের এমপি হয়ে একজন ওসি’র হাতে লাঞ্ছিত হয়ে বিচার পাবো না, এতটা অপমানিত হয়ে রাজনীতি করা যায় না। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আলটিমেটাম: ওদিকে স্টাফ রিপোর্টার নোয়াখালী থেকে জানান, ডিএমপি’র আলোচিত ওসি মনিরুজ্জামানের বিচার দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ। ওসির বিচার না হলে প্রয়োজনে দল থেকে পদত্যাগ করবেন নোয়াখালী জেলার সকল উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মহিউদ্দিন টোকনের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ঢাকায় এমপি একরামুল করিমের মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোভন আচরণ করেন। উপরিউক্ত বিষয়ে দলীয় হাই কমান্ড  কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ার প্রতিবাদে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে একরামুল করিম চৌধুরী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বরাবর অব্যাহতিপত্র দিয়েছেন। এ বিষয়ে ২১শে জুন জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এমপি একরামুলের সঙ্গে ওসি’র আচরণের বিচার দীর্ঘদিনেও না হওয়ায় এমপি একরামুলের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন পেশ করার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভায় ওসি মনিরুজ্জামানের বিচার না হলে নোয়াখালী জেলা, পৌরসভা, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পদত্যাগ ও সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এএইচ এম খায়রুল আনম সেলিম এমপি  একরামুলের অব্যাহতির আবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘আমরা তাকে তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়ার অনুরোধ করেছি। তিনি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আমরা সবাই দল থেকে পদত্যাগ করব।’ কর্তব্যে অবহেলা, সুধারামের ওসি প্রত্যাহার: বৃহস্পতিবার একরামুল করিম চৌধুরীর সমর্থকদের তাণ্ডবে ভাঙচুর ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সময়ে নীরব ভূমিকা পালন করায় নোয়াখালীর সুধারাম থানার ওসি মোশাররফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে নোয়াখালীর জেলা পুলিশ সুপার হারুন-উর-রশীদ হাযারী মানব জমিনকে বলেন, গোলযোগের সময় আমি জেলাতে না থাকায় ওসির দায়িত্ব অবহেলার কারণে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে তাকে মডেল থানা থেকে জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওসি মোশারফ হোসেন তরফদার জানান, ক্ষমতাসীন  দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে পড়ায়  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট