Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পদ্মা সেতু নির্মাণে মালয়েশিয়ার ৩ শর্ত

পদ্মা সেতু নির্মাণে ৩ শর্ত দিয়েছে মালয়েশিয়া। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর বিকল্প পাটুরিয়া-গোয়ালন্দে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছে। শর্তের মধ্যে রয়েছে মুনাফাসহ বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নিতে নির্ধারিত হারে যান চলাচলের নিশ্চয়তা চেয়েছে তারা। নির্ধারিত হারের চেয়ে কম যান চলাচল করলে সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে। চালু হওয়ার পর পঞ্চাশ বছর তারা সেতুর মালিকানা, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে। মালয়েশিয়ার দেয়া প্রাথমিক প্রস্তাবে এসব শর্ত দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির তদন্তকাজ চলার পাশাপাশি পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছে। গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংকের ঢাকাস্থ কার্যালয় থেকে সেতু বিভাগকে এ রকম কথা বলার পর সরকার মনে করছে, বিশ্বব্যাংক শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। অপরদিকে চীন সেতু নির্মাণে পুরো অর্থ যোগান দেয়া এবং নিজেদের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সেতু নির্মাণ করে দেয়ার কথা জানিয়েছে।
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অবস্থায় সরকার দ্বিধায় পড়েছে কোন পথে যাবে। মালয়েশিয়ার ব্যাপারে যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের গভীর আগ্রহ রয়েছে। তবে মালয়েশিয়ার শর্তগুলো সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মালয়েশিয়াও নমনীয় নয়। ২৮শে জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সামি ভ্যালু বাংলাদেশে আসছেন চূড়ান্ত প্রস্তাব নিয়ে। এদিকে বিশ্বব্যাংক নমনীয়তা দেখালেও ভবিষ্যতে তারা কি করেন, নতুন করে কোন শর্ত আরোপ করে নির্মাণকাজ ঝুলিয়ে দেন কিনা সরকারের মধ্যে এ সংশয়-শঙ্কাও কাজ করছে।
প্রাথমিক প্রস্তাবে মালয়েশিয়া মাওয়া-জাজিরায় পদ্মা সেতু নির্মাণের পর এর অদূরে বিকল্প কোন সেতু নির্মাণের বিরোধিতা করেছে। গোয়ালন্দ-পাটুরিয়ায় অবস্থানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জাইকা পরিচালিত বিস্তারিত সমীক্ষায় রেলসহ দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে ১৩ হাজার ১২১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা (১ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার) ব্যয় ধরা হয়। ব্যয় সংবলিত প্রকল্পের পিডিপিপি ২০০৯ এর ২৬শে আগস্ট পরিচালনা কমিশন কর্তৃক নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। দক্ষিণাঞ্চলের মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, নড়াইল, যশোর ও মাদারীপুর জেলার অংশবিশেষের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলের দূরত্ব মাওয়া-জাজিরা অবস্থানের চেয়ে অনেক কম হবে। কিন্তু মালয়েশিয়া বলেছে, এতে মাওয়া-জাজিরা অবস্থানের পদ্মা সেতুর আয় অনেক কমে যাবে। তারা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ না করার শর্ত দিয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ অবস্থানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। সরকারের এক বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা থেকে সরকার সরে আসছে না। মালয়েশিয়াকে তার শর্ত তুলে নিতে বলা হবে। মালয়েশিয়া তার অবস্থানে অটল থাকলে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকার চুক্তি করবে না।
জাইকা পরিচালিত সমীক্ষা অনুযায়ী চালু হওয়ার পর পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ২০৩০০ যান চলাচল করবে। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪১৬০০। এসব যানবাহনের শতকরা ৮৫ ভাগই হবে ভারতীয়। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু চালু হলে মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টের পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে কত যানবাহন চলবে তার সমীক্ষা করা হয়নি। সেতু বিভাগের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা মনে করেন দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হলেও প্রথম পদ্মা সেতু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ক্রস বর্ডার যান চলাচলে আন্তর্জাতিক চুক্তি হওয়ার পর যান চলাচলের হার বেড়ে যাবে। যান চলাচল কম হলে ক্ষতিপূরণ দেয়ার যে শর্ত মালয়েশিয়া দিয়েছে তা অমূলক বলে তারা মনে করেন।
যোগাযোগমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরকালে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল ৩০ বছরের মধ্যে তাদের নির্মাণ ব্যয় উঠে আসবে। ৫০ বছর মেয়াদি চুক্তির পরবর্তী ১০ বছর বিনিয়োগকারীরা টোল নেবে এবং অবশিষ্ট ১০ বছর নেবে বাংলাদেশ। ৫০ বছরই তারা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। এ অবস্থান থেকে সরে গিয়ে তারা এখন প্রাথমিক প্রস্তাবে ৫০ বছর টোল আদায়ের কথা বলেছেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করার কথাও বলেছে।
এদিকে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির তদন্ত চলার পাশাপাশি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করার কথা বলায় সরকার তা ইতিবাচক বলেই মনে করছে। তবে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পৃথক সংস্থা গঠন এবং এই সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী যাবতীয় কাজ করার শর্তে একমত নয় সরকার। আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে একটা গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় আসতে চায় অর্থ বিভাগ। কিন্তু সেতু বিভাগের ভয় হচ্ছে, তারা কখন কি শর্ত চাপিয়ে দেয়, যার ফলে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাংক ও মালয়েশিয়ার শর্তের প্রেক্ষাপটে চীনের সহযোগিতায় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তাবও সক্রিয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে। গত ১৯শে জুন যোগাযোগমন্ত্রী ও বাংলাদেশস্থ চীনা রাষ্ট্রদূত দীর্ঘ আলোচনায় মিলিত হন। চীনের ৩ ট্রিলিয়ন ডলার অব্যবহৃত রয়েছে। আর্থিক এবং কারিগরি, ইঞ্জিনিয়ারিং সহযোগিতায় চীন বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত সময়েই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা যায়।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মানবজমিনকে বলেন, আগ্রহী সবার সঙ্গেই আমরা কথা বলছি। যে কোন পরিস্থিতিতে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট