Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অবশেষে জয়ের দেখা পেয়েছে মুশফিকরা

ঢাকা, ২১ জুন: ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ হারের পর আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না মুশফিকদের। হেরে গেলেই ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। আর টিকে থাকতে হলে আজ জিততেই হবে এমন চাপের ম্যাচে বাংলাদেশ মানসিক চাপ কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের মাটিতে এক বছর পর জয়ের দেখা পেয়েছে।

হারারেতে জিম্বাবুয়েকে মুশফিকরা ৬ উইকেটে হারিয়েছে ১৪ বল বাকি থাকতেই। নতুন দায়িত্ব পাওয়া কোচ রিচার্ড পাইবাসের প্রথম মিশনে এটাই প্রথম সাফল্য। তবে এই সিরিজের ফাইনালে খেলতে হলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যেমন দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয় পেতে হবে তেমনি মুশফিকদেরও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো প্রতিষ্ঠিত দলকে হারাতে হবে।

আবারো টস জয় জিম্বাবুয়ের ভাগ্যে! পর পর দুই ম্যাচে মুশফিকদের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট হাতে তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে। হারারে স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে স্বাগতিক দলের দুই ওপেনার সিবান্দা আর মাসাকাদজা শুরুটা ভালোই করেছিলেন। তবে বেশি সময় ওপেনিং জুটিকে টিকে থাকতে দেননি স্পিনার রাজ্জাক। সরাসরি থ্রোতে রাজ্জাক সিবান্দাকে দলের ২২ রানে আর ব্যক্তিগত ১২ রানে ফেরত পাঠান।

মাসাকাদজা আর টেইলর জুটি দ্বিতীয় উইকেটে দলকে ৪৮ রান এনে দেন। মিডল অর্ডারে টেইলরকে জিয়াউর রহমান তার ২৭ রানে ক্যাচে পরিণত করেন। আর মাসাকাদজা ৫৬ রান পর্যন্ত টিকে গেলেন। মিডল অর্ডারে আরভিনকে শূন্য রানে রিয়াদ বোল্ড করলে বেশ খানিকটা চাপে পড়ে। মাসাকাদজাকে ফেরত যাবার আগে আসল কাজটা করে গেলেন চতুর্থ উইকেটে মাতসিকিনারীকে সঙ্গী করে ৫১ রান যোগ করে। মাতসিকিনারীকে সাজঘরে ফেরত পাঠানের দায়িত্বটা পালন করলেন ইলিয়াস সানী। ১২৫ রানে ১৬.১ ওভারে মাতসিকিনারীকে যখন ফেরত গেলেন তখন ৪ উইকেট পতন ঘটেছে জিম্বাবুয়ের। মাতসিকিনারীর ব্যক্তিগত স্কোর ছিল ২৭।

দলীয় ১২৮ রান পর্যন্ত মাসাকাদজা অটল ছিলেন। তাকে আটকানো যাচ্ছিল না। মাসাকাদজাকে ফেরত পাঠানোর দায়িত্বটা পালন করলেন মাশরাফি নিজেই। মুশফিকের ক্যাচে পরিণত হলেন মাসাকাদজা মাশরাফির ডেলিভারিতে। শেষদিকে ক্রেমারের ১০ আর পেসার জারভিসের ৭ রান যোগ হলে জিম্বাবুয়ে ১৪৯ রানে পৌঁছায়। মাশরাফি ২টি,  ইলিয়াস সানি, আবুল হাসান, মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ ও জিয়াউর রহমান একটি করে উইকেট নেন।

১৫০ রানে জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামেন আশরাফুল আর তামিম। ইনজুরি কাটিয়ে তামিম মাঠে নেমে এক কথায় চমৎকার খেলেছেন। তবে আশরাফুল যেন আগের সেই ফর্মে ফিরে গিয়েছিলেন এই ম্যাচে। ইনিংসের ১ম ওভারেই ১০ আর দ্বিতীয় ওভারে ১৫ রান। ২ ওভারে ২৫! তামিম ৬ আর আশরাফুল ৮ বলে ১৯ রান। কিন্তু এখানেই বিপত্তি ঘটালেন আশরাফুল। কারণ ওয়েল সেট আশরাফুল মিডল স্ট্যাস্পের বল পেছনে পায়ে ভর দিয়ে উইকেটরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিম-আনামুল সেট হবার পথে। তখনই নিজের দোষেই তামিম বাজেভাবে রান আউট হন ব্যক্তিগত ১৩ রানে। আনামুল হক মুশফিকের সঙ্গী হলেন। তবে তিনিও টিকলেন না। জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয়বার ব্যাটহাতে মাঠে নামা আনামুল উইকেটরক্ষকের হাতে বল জমা দিলেন ১১ রান করে। তৃতীয় জুটি মাত্র ৯ রান যোগ করে।

চতুর্থ জুটিতে মুশফিক-নাসির বেশ দেখেশুনে খেলছিলেন। ৩ উইকেটে ৬৪ রান। নাসির ৪ রানে আর মুশফিক ১২ রানে। দুই সেট ব্যাটসম্যানের ভুলে রান আউটের আবেদন করে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ার তা নাকচ করে দেন। কিন্তু কিছুটা সময় পরই সেট মুশফিক আবারো সেই ভুল করলেন। রান আউট হলেন মুশফিক ৩১ রানে। জাতীয় দলের তিন তারকার রান আউটের দৃশ্য দেখে এক সময় মনে হয়েছিল বাংলাদেশের স্বপ্ন শেষ! কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়টাকে বাস্তবে রূপ দিলেন নাসির আর রিয়াদ জুটি।

মুশফিক যখন বিদায় নেন তখন ১৩.৩ ওভারে স্কোর ৯৯ রান। জয়ের জন্য দরকার ৪০ বলে ৫১ রান। নাসিরের সঙ্গী এবার সহ-অধিনায়ক রিয়াদ। কোনো ভুল করলেন না এই দুই তারকা। ১৬তম ওভারে পর পর দুটি চার মারলেন রিয়াদ। দুই জনের চেষ্টায় ঐ ওভারে রান আসে ১৩। এক পর্যায়ে ২৪ বলে ২২ রান দরকার হয়। শেষ পর্যন্ত এই জুটিই দলকে জয়ের বন্দরে ভেড়ান। রিয়াদের বাউন্ডারিতে আসে বাংলাদেশের উইনিং রান। ৪১ রানে নাসির আর রিয়াদ ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচে সেরা হন মাশরাফি।

কাল বাংলাদেশ খেলবে দ. আফ্রিকার বিপক্ষে। কালকের ম্যাচে জয় পেলেই মুশফিকের ফাইনালের স্বপ্ন বাস্তব হতে পারে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট