Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘সাদিয়াকে মুখ টিপে ও দাদিকে লোহার রড দিয়ে খুন করি’ -ঘাতক মাহবুবের জবানবন্দি

 ‘মুখে টিপা দিয়ে ধরি শিশু সাদিয়াকে। এমন সময় সাদিয়া চিৎকার দেয়। এতে আমি আরও রেগে যাই। এরপর সাদিয়ার মুখে আবারও টিপা  দেই। গোঙাতে থাকে সাদিয়া। এক সময় সে মাটিতে পড়ে যায়। এমন সময় লাঠি দিয়ে সাদিয়ার মাথায় কয়েকটি আঘাত করি। এক সময় নিস্তেজ হয়ে পড়ে সাদিয়া। এই ফাঁকে সেখানে এসে হাজির হন সাদিয়ার দাদি মোমেনা খাতুন। তিনি সাদিয়া বেঁচে আছে না মারা গেছে তা দেখছিলেন। এ সময় পিছন থেকে তার মাথায় আঘাত করি। উপর্যুরিপরি কয়েকটি আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার ঘাড়ে রড দিয়ে খোঁচা মারি। দেখি তিনিও নিস্তেজ। এরপর ল্যাপটপ ও মোবাইল নিয়ে আমি পালিয়ে আসি।’- সিলেটের আলোচিত দাদি-নাতনি খুনের ঘটনার হোতা মাহবুব আলম গতকাল বুধবার সিলেটের র‌্যাব ৯-এর সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে খুনের ঘটনার বিবরণ দেয় এভাবে। সে জানায়, খুনের সময় তার একবারও হাত কাঁপেনি। সিলেট শহরতলির পূর্ব দলইপাড়ার আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব। ঘটনার ১১ দিনের মাথায় তারা গতকাল আসামিদের মিডিয়ার মুখোমুখি করেছে। সেই সঙ্গে ওই দিন বাড়ি থেকে লুট হওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করেছে। ৯ই জুন বিকালে সিলেট শহরতলির পূর্ব দলইরপাড়া গ্রামে বাড়িতে ঢুকে খুন করা হয় এফআইডিবি’র প্রাইমারী ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক নাসির উদ্দিনের ৬ বছরের শিশুকন্যা সাদিয়া ও মা সত্তরোর্ধ্ব মোমেনা খাতনকে। সাদিয়ার মা রোকসানা বেগম এফআইভিডিবি পরিচালিত কানুগুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। প্রতিদিনের মতো নাসির উদ্দিন ও রোকসানা বেগম কর্মস্থলে চলে গেলে এই খুনের ঘটনা ঘটে। এর হোতা সদ্য উনিশে পা দেয়া মাহবুব আলম। সে নিহত শিশুকন্যা সাদিয়ার খালাতো ভাই। মাহবুব ছোটো থাকতেই মারা যান তার মা শাহানারা বেগম। এরপর থেকে সাদিয়ার মা রোকশানাসহ আত্মীয়-স্বজনরা তাকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেন। বড় করেন। মাহবুবের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে। তার পিতার নাম শফিকুল হক। মাহবুব দীর্ঘদিন ধরে দলইরপাড়ার পার্শ্ববর্তী বিআইডিসি এলাকায় তার মামার বাড়িতে থাকতো। সে প্রায়ইই খালা রোকশানার বাসায় যেতো। ঘটনার বিবরণ দিয়ে মাহবুব সাংবাদিকদের জানায়, প্রায়ই সে খালার বাড়িতে যেতো। তখন খালার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনের দিকে তার নজর পড়ে। এজন্য সে কয়েক দিন আগেও দু’টি চুরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। চুরি করতে সে চার-পাঁচদিন গেলেও সুযোগ না পাওয়ায় কাজ হয়নি। ৯ই জুন দুপুর একটার দিকে মাহবুব একাই যায়। এ সময় দেখে তার খালাতো বোন সাদিয়া ঘরের ভেতরে খেলা করছে। দাদি বাসার কাজে ব্যস্ত। ফাঁকা বাড়ি থাকায় সে ড্রয়ারে থাকা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সেট চুরি করে। এ সময় ঘরের পিছনের জানালা দিয়ে পালাতে গিয়ে সাদিয়া তাকে দেখে ফেলে। মোবাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে কোথায় যাচ্ছো- এ কথা জিজ্ঞেস করতেই রেগে যায় মাহবুব। এ সময় সে সাদিয়ার মুখ টিপে ধরে। এমন সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সাদিয়া জোরে চিৎকার দিলে মাহবুব আবারও তার মুখ টিপে ধরে। এবার সাদিয়া মাটিতে পড়ে গেলে সে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। পরে দাদি মোমেনা খাতুন ঘরে এলে তার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। এতে মোমেনা খাতুনও অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর সাদিয়ার মাথার চুল কেটে ফেলে সে। দু’জন নিস্তেজ হয়ে গেলে মোবাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে সে পালিয়ে আসে। জোড়াখুন করে মাহবুব চলে আসে বিআইডিসি এলাকায় তার মামার বাড়ি। মোবাইল ও ল্যাপটপ রাখে অন্যত্র। বিকাল ৫টার দিকে মাত্র ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে সে মোবাইল ফোন সেট ও ল্যাপটপ বিক্রি করে তার বন্ধু রুহুল আমীন রানার কাছে। র‌্যাব পুরো ঘটনার তথ্য উদঘাটন করতে গিয়ে রানাকে গ্রেপ্তার করেছে। রুহুল আমীন রানা গতকাল র‌্যাব অফিসে সাংবাদিকদের জানায়, মাহবুব তাকে বলেছে এই মোবাইল ফোন সেট ও ল্যাপটপ ওই এলাকার একজনের। তবে ওই সময় রানা ধারণা করেছিল এগুলো চুরি করা। এ কারণে দেরি না করে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সেট সে নগরীর করিম উল্লাহ মার্কেটের একটি দোকানের মালিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। তবে রানা দাবি করে, এতবড় ঘটনা আলম ঘটাতে পারে তা কল্পনা করতে পারেনি সে। এদিকে, ঘটনার পর পাঁচ দিন কেটে গেলে মাহবুব তার খালা রোকশানার বাড়িতে যায়নি। তবুও তাকে সন্দেহ করতে পারেনি কেউ। পুলিশ ও র‌্যাব বরং আফজল ও তারেক নামের দুই ডিশ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালায়। এ সময় আত্মীয়-স্বজনদের কথায় মাহবুবকে ডেকে। এতে বাড়িতে দেখাশোনার জন্য রাখা হয়। এক সপ্তাহ সে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই সাদিয়াদের বাড়িতেই বসবাস করে। মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে র‌্যাব। পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনে র‌্যাবের একটি চৌকস দল কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব ৯-এর উপ অধিনায়ক মেজর সাব্বির আহমদ সিদ্দিকী। সাংবাদিকদের কাছে তিনি জানান, খুনের ঘটনার পর আমরা খুনি ধরতে কাজ শুরু করিনি। সেটি নিয়ে আমাদের কোন মাথাব্যথা ছিল না। আমরা জানি সঠিকভাবে এগোতে পারলে সব পাওয়া যাবে। এ কারণে খুনের ঘটনার পর উচ্চতর প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুনামগঞ্জের ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে মোবাইল ফোন সেট এবং সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকা থেকে ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। ল্যাপটপ উদ্ধারের পর ক্রেতারা জানান, রুহুল আমীন রানার কাছ থেকে মাত্র ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা মোবাইল ও ল্যাপটপ কিনেছেন। পরে রানাকে ধরে আনে র‌্যাব। রানা জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানায়, মাহবুব ল্যাপটপ ও মোবাইল তার কাছে বিক্রি করেছে। পরে নিহতদের বাড়ি থেকে মাহবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সে অকপটে সবকিছু স্বীকার করে। রোকশানা বেগম গতকাল র‌্যাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, কে জানতো মাহবুবই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মাহবুব তার মেজো বোন শাহনারার পুত্র। ছোটকালে মা-হারা হয় মাহবুব। এরপর তারাই তাকে কোলেপিঠে মানুষ করেন। আর আজ সে আমার ফুলের মতো মেয়েকে খুন করেছে। তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, আমার মেয়ের খুনিকে নিয়ে এক ছাদের নিচে আমরা বসবাস করেছি। এর চেয়ে দুঃখের আর কি হতে পারে। তিনি বলেন, মাহবুব বখাটে হয়ে গেছে তা আমরা জানি না। তার সঙ্গে রানার সুসম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার পর মাহবুবের সঙ্গে রানাও তাদের বাড়ি গেছে। র‌্যাব কার্যালয়ে বসে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন এনজিও কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন। কোন ভাষা নেই তার কথা বলার। কেঁদে কেঁদে তিনি বলছিলেন, আমি খুনির বিচার চাই। আমার কোল খালি করে সে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, খুনির বিচার ও ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। সে যদি ১৪ বছরের জেলে থাকে তাহলে বেরিয়ে এসে আবার আমার বড় মেয়ে কিংবা আমাদের ক্ষতি করতে পারে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to ‘সাদিয়াকে মুখ টিপে ও দাদিকে লোহার রড দিয়ে খুন করি’ -ঘাতক মাহবুবের জবানবন্দি

  1. Jacobmartin

    June 21, 2012 at 3:08 pm

    Dangerous news.Earth is gradually going to destroy.

  2. quamrul

    June 21, 2012 at 3:56 pm

    Bangladesh er Samajik abosthar obokhoy dina dina promanito hossa.