Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিধিবহির্ভূত কিছু হয়েছে: দুদক চেয়ারম্যান

১০ পার্সেন্ট ঘুষ বিতর্কে পদ্মা সেতু প্রকল্প। কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিরা কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের কাছে শতকরা ১০ ভাগ ঘুষ চেয়েছিলেন। পত্র-পত্রিকায় এ খবর প্রকাশের পর গতকাল দিনব্যাপী তোলপাড় ছিল সর্বত্র। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ঘুষ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রকাশিত সংবাদটি পুরোপুরি মিথ্যা। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। গতকাল দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিধিবহির্ভূত কিছু কাজ হয়েছে। তবে ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি তিনি সরাসরি অস্বীকার করে বলেছেন, এ জাতীয় কোন তথ্য দুদকে নেই। মন্ত্রী, সচিব বা প্রকল্প পরিচালকদের ১০ পার্সেন্ট ঘুষ চেয়েছেন কিনা তা তদন্তেই জানা যাবে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বব্যাংক দুদককে কিছু তথ্য দিয়েছে। সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। দুদকের অনুসন্ধান বা প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। কয়েকটি সংবাদপত্রে পদ্মা সেতুর অনিয়মের বিষয়ে যে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে তার সঙ্গে দুদকের প্রাপ্ত তথ্যের মিল নেই। প্রকাশিত সংবাদে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুদক ব্যবস্থা নিতে পারে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো দুদক প্রত্যাখ্যান করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যাখ্যান করছি না। কারণ, কোন পত্রিকায় দুদকের বিষয়টি বলা হয়নি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রয়েছে। কোন সংবাদপত্র যে কোন সোর্স থেকে তথ্য পেতেই পারে। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের পুরো বিষয়টি ছিল দরপত্র প্রক্রিয়ার মধ্যে, যেখানে পরামর্শক নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রী, সচিব বা এ ধরনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারেন না। সাধারণত কোন ব্যর্থতার ঘটনা ঘটলে শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি অভিযোগের আঙুল ওঠে। এ ক্ষেত্রেও হয়তো তা-ই হয়েছে। মন্ত্রী, সচিব বা প্রকল্প পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তদন্তের স্বার্থে যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা সত্যিকারে জড়িত ছিল কিনা সেটা তদন্তে বের হয়ে আসবে। পদ্মা সেতু দুর্নীতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের চিঠিতে যে অভিযোগ করা হয়েছে তাতে অনেকেরই নাম রয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল কয়েকটি সংবাদপত্রে বলা হয়েছে- পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ পাইয়ে দিতে কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের কাছে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ছাড়াও ১০ শতাংশ ঘুষ চেয়েছিলেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া এবং পদ্মা সেতুর সাবেক প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম। এসএনসি-লাভালিনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়েরে দুহাইম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার কাছ থেকে এসব তথ্য পেয়েছে কানাডার পুলিশ।
এদিকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির বিষয়ে কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে অনুসন্ধান করছে। রেলওয়ের অর্থ কেলেঙ্কারি ও নিয়োগ বাণিজ্য ও ডেসটিনি’র অনুসন্ধান সম্পর্কে দুদক সচিব জানান, এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। বিস্তারিত বলার সময় এখনও হয়নি। তিনি জানান, মে মাসে ৬১টি মামলার চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এসব মামলায় ৯৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সরকারি কর্মচারী ৩৫ জন, ব্যবসায়ী ৪৫ জন, জনপ্রতিনিধি ৪ জন এবং বেসরকারি কর্মচারী ও অন্যান্য পেশাজীবী ১৩ জন। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দুদকের কাছে ৪৬১৬টি অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে ৫২০টি গৃহীত হয়েছে। ২৯৪টির বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া তথ্য-উপাত্ত না থাকায় ৩৮০২টি অভিযোগ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে সৈয়দ অবুল হোসেন এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, গতকাল পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে কতিপয় পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা ভিত্তিহীন, অসত্য, মনগড়া ও উদ্দেশ্যমূলক। আমি যখন যোগাযোগমন্ত্রী ছিলাম তখন কানাডার সাবেক রাষ্ট্রদূত দু’বার এসএনসি লাভালিন বিষয়ে আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তাদের রেফারেন্সে বিভিন্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। আমি যখন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি তখন সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। কখনও একা কারও সঙ্গে দেখা করিনি। যারা আমার সঙ্গে দেখা করেছেন, আমি তাদের সবাইকে বলেছি, আইন ও নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য বিবেচিত হলে এবং আমার পর্যায়ে উপস্থাপিত হলে আমি বিষয়টি দেখবো- যাতে কারও প্রতি অবিচার করা না হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট