Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মীর কাসেম পালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না: ব্যারিস্টার রাজ্জাক

ঢাকা, ১৮ জুন: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক  ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, “মীর কাসেম আলীর যে সামাজিক অবস্থান তাকে জামিন দিলে তিনি পালিয়ে যাবেন না। তার অনেকগুলো সামাজিক প্রতিষ্ঠান আছে যার সাঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত। এগুলো ফেলে তার পালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

সোমবার মীর কাসেম আলীর জামিন আবেদনের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “আমি ট্রাইব্যুনালকে বলেছি তার পায়ে অপারেশন করা আছে, শরীরে ডায়াবেটিক, হার্টের প্রবলেম এবং দুই তিন দিন পর পর তাকে ফিজিওথেরাপি নিতে হয়ে। অন্তত মানবিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে তাকে জামিন দিন।”

প্রয়োজনে তার পাসপোর্ট জমাসহ যেকোনো শর্তে মীর কাসেমকে জামিন দেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক।

মীর কাসেম আলী প্রতি মাসে দেশের বাইরে গিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে প্রসিকিউশনের এ অভিযোগ অবাস্তব উল্লেখ করে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “২০১০ সালে তিনি একবার বিদেশে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি দেশের বাইরে কোথাও যায়নি। বিচার বাধাগ্রস্ত করার তো প্রশ্নই উঠে না।”

তিনি বলেন, “প্রায় ২৪ মাস হলো তাকে গৃহবন্দি না হোক অন্তত পুলিশের নজরদারিতে রাখো হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি কখনো কোথাও যাবেন এটা মনে করা ঠিক হবে না। প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তাও ঠিক না।”

মীর কাসেম আলীকে জামিন দেয়া হলে সাক্ষীরা হুমকির মুখে পড়বে যা তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি করবে-প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমের এমন কথার জবাবে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “প্রসিকিউশন সাক্ষীদের হুমকি এবং অন্যান্য যেসব অভিযোগের কথা বলেছেন তার একটাও লিখিত প্রমাণ দিতে পারবে না। শুধু মৌখিকভাবে এসব অভিযোগ গ্রহণযোগ্য না। কাকে কোথায় কখন হুমকি দেয়া হয়েছে তা তারা লিখিতভাবে উপস্থাপন করতে পারবে না।”

রাজ্জাক বলেন, “মীর কাসেম আলীর আইনজীবী হিসেবে আমার ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল জামিন আবেদনের বিষয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করে দেন।”

অন্যদিকে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন, “আসামির জামিন আবেদনে অনেক তথ্য গোপন করেছে। তার সম্পর্কে তদন্তে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে অনেক মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। চট্টগ্রামের তৎকালীন মহামায়া হোটেলে যার বর্তমান নাম ডালিম হোটেল তাতে তিনি অনেককে আটকে রেখে নির্যাতন করে পরে তাদেরকে হত্যা করেছেন।”

জেয়াদ আল মালুম আরো বলেন, “মীর কাসেম আলী নিজে এবং অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের বাচাঁনোর জন্য দেশে বিদেশে হেন অপপ্রচার চালিয়েছেন। তিনি অনেকগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থেকে বিপুল পরিমাণে টাকা বিদেশে প্রাচার করছেন এবং দেশের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থেকে রোহিঙ্গাদেরকেও ইন্ধন দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।”

ওই সময় তিনি বলেন, “মীর কাসেম আলী কোনোভোবেই জামিন পেতে পারেন না। তিনি জামিন পেলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে এবং আশঙ্কা করছি সাক্ষীরা হত্যা ও গুমের শিকার হতে পারেন যেকোনো সময়।”

রোববার রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের এক আবেদনের পর ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে জামায়াতের প্রভাবশালী শিল্পপতি নেতা মীর কাসেম আলীকে মতিঝিলে দৈনিক নয়া দিগন্তের অফিস থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

পরে একই দিন তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করলে বিচারক নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তাকে জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে রাত সাড়ে ৮ টায় পুলিশ তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যায়। সোমবার শুনানির জন্য তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট