Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিদেশের মাটিতে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া হল না মুশফিকের

ঢাকা, ১৭ জুন: ত্রিদেশীয় টি২০ টুর্নামেন্ট একদিকে ছিল বিশ্বকাপ টি২০-র প্রস্তুতি। অন্যদিকে মুশফিকের অধিনায়কত্বে জাতীয় দলের বিদেশের মাটিতে প্রথম জয়ের স্বাদগ্রহণ। সঙ্গে গত বছর মাঝামাঝি জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওডিআই আর টেস্ট ম্যাচে হারের শোধ নেবার সুযোগ। কিন্তু কোনো কিছুই হল না।

এশিয়া কাপে ভারত-শ্রীলঙ্কাকে হারানো বাংলাদেশ আজ জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে ১১ রানে। জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাংলাদেশ হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না।  টস জিতে জিম্বাবুয়ে ব্যাট বেছে নেয়। আর সংগ্রহ করে ১৫৪ রান। যা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পক্ষে ২০ ওভারে ১৪৩ রানে বেশি এগুনো সম্ভব হয়নি।

টস জিতে কেন জিম্বাবুয়ে ব্যাট বেছে নিয়েছে তা বোঝা যায় ম্যাচ শেষে। তবে যে উইকেটে জিম্বাবুয়ে ব্যাট করেছে তাতে ব্যাটসম্যানদের মাশরাফিদের বিপক্ষে শুরুতে রীতিমতো লড়াই করতে হয়েছে। তারপরও জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৪ রান।

দুই ওপেনার মাসাকাদজা আর সিবান্দা দলকে অনেকটা পথ পাড় করেছে। সিবান্দা ৭ রানে আউট হলেও মাসাকাদজা ৬২ রান করে ফেরত যান। ৪৭ রানের প্রথম জুটি ভেঙ্গে গেলে টেইলর আর মাসাকাদজা দ্বিতীয় উইকেটে দলকে ৪৪ রান উপহার দেন। তৃতীয় উইকেটে অরভিন শূন্য রানে ফেরত গেলে কিছু চাপ বাড়লেও টেইলর আর মাতসিকিনারী সেই চাপ কাটিয়ে দলকে ১৩১ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন দলকে।

১৭.৫ ওভারে ক্যানেরি ১৮ রানে ফেরত গেলেও টেইলর ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৩৮ রানে তিনিও ফেরত যান মাশরাফির বোলে বোল্ড হয়ে। স্কোর তখন ৫ উইকেটে ১৩৪ আর ওভার ১৮.২। ৬ষ্ঠ উইকেটে ক্রেমার ১১ রান করে পেসার আবুল হোসেনের বলে নাসিরের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন।

শেষদিকে উৎসিয়া-চিগুম্বুরা জুটি জিম্বাবুয়েকে ১৫৪ পর্যন্ত টেনে নিয়ে ম্যাচ কঠিন করে দেন। বাংলাদেশ দলের পক্ষে আবুল হাসান দুটি এবং মাশরাফি ও ইলিয়াস সানি একটি করে উইকেট নেন।

২০ ওভারে ১৫৫ রান, একেবারে সহজ টার্গেট এটা বলা যাবে না। কারণ ওভার প্রতি বাংলাদেশকে ৭.৭৫ করে রান স্কোর বোর্ডে জমা করতে হবে। ওপেনার হিসাবে যথারীতি তামিমের সঙ্গী হলেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। বেশ দেখেশুনেই দুই ওপেনার রান তোলার কাজ করে গেলেন।

৩ ওভারে জিম্বাবুয়ের যেখানে রান ছিল বিনা উইকেটে ১৭, সেখানে তামিম-আশরাফুল করলেন ২১ রান। আর ৫ ওভার শেষে ৩৮ এবং তামিম ১৯ আর আশরাফুল ১৬ রানে অপরাজিত। ১০ ওভার পর্যন্ত এই ওপেনিং জুটি টিকে ছিলেন। মাঝে আশরাফুল কিছু ঝুঁকিপূর্ণ শট খেললেও তামিম সে পথে হাটলেন না। ৯.৩ ওভারে উৎসিয়ার স্পিন ডেলিভারিতে ধোকা খেয়ে যান। বল সোজা স্ট্যাস্পের পেছনে। উইকেটরক্ষক আশরাফুলের বিদায় ঘণ্টা বাঁজিয়ে দিলেন তার ব্যক্তিগত ২২ রানে।

তামিমের সঙ্গে এবার ক্রিজে জিয়াউর রহমান। দুই বল আটকালেন আর ওভারের শেষ বলে বিশাল ছক্কার মার দিয়ে বোঝালেন তিনিও কম নন। তামিম ৩৪ আর জিয়া ৬ রানে ব্যাট করছেন। এরই মাঝে আরেক স্পিনা ক্রেমারের বলে জিয়া তুলে মারলে ফিল্ডারের হাত স্পর্শ করে বল মাঠের বাইরে। বেঁচে গেলেন জিয়া। তবে তামিম পারলেন না। সহজ ক্যাচে পরিণত হলেন ব্যক্তিগত ৩৮ রানে এম পফুর বলে। বাংলাদেশ দলের স্কোর তখন ১৩.১ ওভারে ৮৭, জয়ের জন্য দরকার ৪১ বলে ৬৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে জিয়ার সাথে জুটি বাধেন অধিনায়ক মুশফিক। কিন্তু কপাল মন্দ। অধিনায়ক হতাশায় ডুবিয়ে দিয়ে ১৪.২ ওভারে ব্যক্তিগত মাত্র ৫ রানে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন। দলের স্কোর ৯৫। আর দরকার ৬০ রান বল হাতে ছিল ৩৪টি! মুশফিক যখন বিদায় নিলেন জিয়া তখন ২২ রানে। সঙ্গী হিসাবে পেলেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। কিন্তু ইনিংসের ১৫.১ ওভারে দলীয় ৯৯ রানে জিয়াউর রহমান এম পফুর বলে আরভিনের অসাধারণ ক্যাচে বিদায় নিলে চাপ বাড়তে থাকে। জিয়াউর রহমান করেন ২৩ রান।

এরপর রিয়াদ আর নাসির জুটি বাঁধেন। এক পর্যায়ে স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১০০ আর ২৮ বলে দরকার ৫৫ রান। চাপের মাত্রাটা আরো বেড়ে যায় যখন দেখা যায় ২২ বলে ৪৪ রান দরকার পড়ে।  তখন রিয়াদ আর নাসির চার-ছয় মারার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জয়টা তখন অনেকটা দূরের পথ বলেই মনে হচ্ছিল। ১৭.৪ ওভারে ১২৩ রান ৪ উইকেটে। ৪টি চারের খুব দরকার। কারণ ১৬ বলে ৩৪ যে প্রয়োজন। কিন্তু নাসির আর রিয়াদ এক বা দুই ছাড়া কিছু করতে পারছিলেন না। অবশেষে ১৭.৫ ওভারে নাসির একটি চার মারলেন। ফলাফল ১৮ ওভার শেষে স্কোর ১২৮। জয় পেতে হলে ১২ বলে ২৭ রান করতে হবে। নাসির ১৮ আর রিয়াদ ১২ রানে। ১৯ম ওভারে প্রথম বলেই নাসির আবার চার মেরে জয়ের আশা জাঁগিয়ে রাখলেন। ১০ বলে ২২ রান দরকার। চার-ছয় ছাড়া তো বিকল্প নেই।

১৯ ওভার শেষে স্কোর ১৩৬! জয়ের জন্য শেষ ওভারে মুশফিকদের প্রয়োজন পড়ে ১৯ রানের। কিন্তু জিম্বাবুয়ে বোলারদের বিপক্ষে পেরে ওঠেননি রিয়াদ-নাসিরের জুটি। বিগ শট খেলতে গিয়ে রিয়াদও ১৪ রানে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন। নাসির আর মাশরাফি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করার কোন সুযোগ পেলেন না। কারণ ওভার হাতে ছিল না। বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ১৪৩ রান। হেরেছে ১১ রানে। নাসির হোসেন ১৫ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

জিম্বাবুয়ের হ্যামিলটন মাসাকাদজা ম্যাচসেরা হন। আগামি ১৯ জুন মঙ্গলবার একই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটায় শুরু হবে খেলাটি। চ্যানেল নাইন সরাসরি সম্প্রচার করবে ম্যাচটি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট